https://www.prothomalony.com/
8418
decoration
শীতকালে ত্বক তার কোমলতা হারায়। ত্বক শুষ্ক হতে থাকে। এ সময় ত্বকের যত্ন নেওয়া অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে। তবে শীতকালে সঠিক ত্বকের যত্ন আপনার ত্বকের শুষ্কতা কমাতে পারে, ত্বককে সুস্থ এবং মসৃণ রাখতে পারে। শীতের সময় ত্বকের যত্নে সানস্ক্রিন ব্যবহার করার দরকার নেই- এমনটাই ভেবে থাকি আমরা অনেকেই। ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। সানস্ক্রিনে রয়েছে জিঙ্ক অক্সাইড বা টাইটানিয়াম ডাইঅক্সাইড যা আমাদের ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সর্বোত্তম সুরক্ষা প্রদান করে। সানস্ক্রিন রয়েছে হাইয়ালুরোনিক অ্যাসিড যা শুষ্ক ত্বককে দেয় সতেজতা, এবং আরো রয়েছে নায়াসিনামাইড যা তৈলাক্ত ত্বকের জন্য দুর্দান্ত কাজ করে।
[pH]ix স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডের ফাউন্ডার ব্র্যান্ডেন আকের, শীতকালীন ত্বকের যত্নের ব্যাপারে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ টিপস্ দিয়েছেন, যা শুষ্ক ত্বক সহ শীতকালীন সকলের জন্য অপরিহার্য।
(১) সানস্ক্রিন ব্যবহার করুনঃ শীতে আমরা আরামদায়ক কাপড়, সোয়েটার পরি। নিজেকে উষ্ণ রাখতে হট চকোলেট এবং ফায়ারপ্লেসের সান্নিধ্যে থাকি। কিন্তু আমরা ভুলে যাই যে, শীতের দিনেও আমরা UVA রশ্মির সংস্পর্শে থাকি যা আমাদের ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সানস্ক্রিন শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন ত্বকের যত্নের প্রসাধনী নয়, এটি সারা বছর ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে অতিবেগুনী রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষার জন্য, প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর সানস্ক্রিন ব্যবহার করা দরকার। ফ্রি র্যাডিকেল সুরক্ষার জন্য এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন যাতে এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। কিংবা ভিটামিন সি প্রাইমারের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সিরাম থাকে এমন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। শীতকালে ত্বকের হাইড্রেশন বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বাধিক অ্যান্টিএজিং স্কিনকেয়ার সুবিধা পেতে, ত্বকে একটি স্কোয়ালেন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এবং পরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। আপনার শীতকালীন স্কিনকেয়ার রুটিনে একটি ময়েশ্চারাইজিং সিরাম বা তেল যোগ করা ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে, বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের ব্যক্তিদের জন্য।
(২) ঘরে হিউমিডিফায়ার রাখুনঃ শীতকালে ত্বকের যত্নের জন্য হিউমিডিফায়ার এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।হিউমিডিফায়ার আপনার ঘরে বাতাসের আর্দ্রতা যোগ করে, যা শুষ্ক এবং ফাটল ত্বককে মশ্চারাইজড রাখতে সহয়তা করে। একটি হিউমিডিফায়ার শুধুমাত্র শুষ্ক ত্বকের জন্য উপকারী তা নয়, এটি শীতকালে আপনার ত্বকে ব্যবহার করা অন্যান্য স্কিনকেয়ার প্রসাধনীর কার্যকারিতাও বাড়ায়। যখন বাতাসে আর্দ্রতার অভাবে আপনার ত্বক আর্দ্রতা কমিয়ে আনে, তখন হিউমিডিফায়ার সেই আর্দ্রতা প্রতিস্থাপন করে এবং আপনার ত্বককে সারা মৌসুমে হাইড্রেটেড এবং স্বাস্থ্যজ্জ্বল রাখবে।
(৩) ত্বকে স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারে সচেতন হোনঃ শীতকাল আমাদের ত্বক রুক্ষ হয়ে থাকে। এ সময় আমাদের ত্বকের যত্নের পণ্যগুলিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ত্বক হাইড্রেটেড এবং স্বাস্থ্যকর থাকবে। ঠান্ডার সময় ত্বকে প্রথমেই একটি টোনার বা ফ্যাসিয়াল মিস্ট ব্যবহার করুন। এটি আপনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য বজায় রাখার সাথে সিরাম এবং ময়াশ্চারাইজার শোষণে সাহায্য করবে। ভিটামিন সি টোনার বা ফেসিয়াল মিস্ট খুব উপকারী। ফ্যাসিয়াল মিস্ট আপনার ত্বকে সতেজতা এবং হাইড্রেশন দেবে, আর টোনার আপনার মুখে স্বচ্ছতা ও পরিষ্কার প্রভাব দেবে, সাথে আপনার মুখের খোলা ছিদ্রের আকার কমাতে সাহায্য করবে। আপনার ত্বকে প্রথমেই একটি টোনার প্রয়োগ করুন। তারপরে একটি সিরাম বা মিস্ট(ভিটামিন সি সিরাম অবশ্যয়ই) এবং শেষে ডে-ক্রিম বা নাইট ক্রিম কিংবা ফেস অয়েল প্রয়োগ করুন। অ্যান্টি-এজিং ব্যবহারে তৈলাক্ত এবং শুষ্ক ত্বকের ধরণ অনুযায়ী বেছে নিন।
(৪) প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুনঃ শীতকালে পানি খাওয়ার পরিমাণ কম হয়ে থাকে, পরিবর্তে চা কফি অন্যান্য গরম পানির প্রতি থাকে আলাদা ঝোঁক। এতে শরীরে আদ্রতা কমে যায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। শীতে দেহের বা ত্বকের সুস্থতা ও সজীবতার জন্য চাই প্রচুর পানি। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ত্বক নরম, মসৃণ এবং কোমল থাকে। পর্যাপ্ত পানি পানের অভাবে ত্বকে শুষ্কতা, বলিরেখা এবং দাগের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শীতকালে ত্বকে কোমলতা ও স্বাস্থ্যউজ্জ্বলতা ধরে রাখার জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা অপরিহার্য।
(৫) গরম পানি দিয়ে গোসল এড়িয়ে চলুনঃ শীতকালীন ত্বকের যত্নে গরম জল এড়িয়ে চলা ভালো। শীতের সময় গরম পানির ব্যবহারে আমরা আরামবোধ করি। তবে খুব বেশি গরম পানি আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক তেল এবং আর্দ্রতা কেড়ে নিতে পারে, যার ফলে ত্বক শুষ্ক, খিটখিটে হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ত্বকের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য কুসুম গরম পানি ব্যবহার করা উপকারী, এটি ত্বককে আরও শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এই শীত মৌসুমে আপনার ত্বককে হাইড্রেটেড এবং স্বাস্থ্যকর রাখুন!
(৬)স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুনঃ যে কোনো সময়েই, স্বাস্থ্যসুরক্ষায় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অভ্যাস হল-স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। একটি সুষম খাদ্য খাওয়া কেবলমাত্র শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে না বরং এটি আমাদের ত্বককে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস (অকাল বার্ধক্য, সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখার একটি প্রধান কারণ) থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। প্রচুর পরিমাণে ফল এবং শাকসবজি খাওয়া ত্বক ও শরীরের জন্য উপকারী কারণ এগুলেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রি র্যাডিকেলগুলিকে নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে। যাদের শুষ্ক ত্বক রয়েছে তারা ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত খাবার খেতে পারেন কারণ এটি স্বাস্থ্যকর ত্বক বজায় রাখে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, মাছে পাওয়া যায় যা ত্বককে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা প্রদান করে।
সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন