https://www.prothomalony.com/

17841

decoration

সাজসজ্জা

প্রেম, বৃষ্টি ও কাঁঠালের আঠা

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১৪

৩০ জুলাই ছিল কাঁঠালিয়া উৎসব। ভিন্ন নাম, ভিন্ন আয়োজন, ভিন্ন আলোচনা। নারীসুলভ আচরণের কারণেই অফিস শেষে বাথরুমের মধ্যে চেঞ্জ করে একটা হলুদ শাড়ি পরে নিলাম। আমাদের রসিক ভাইজান ইব্রাহিম চৌধুরী সবাইকে কাঁঠাল রঙের পোশাক পরতে অনুরোধ করেছেন। মাত্র আধামাইল দূরে হিলসাইড এভিনিউর আল ইহসান একাডেমি। মাথার ওপরে বিকেলের কালো মেঘ ঝুলে আছে। 

আমার দুজন সহকর্মী মৌসুমী আর জেনীর সাথে হেঁটে যাচ্ছি জ্যামাইকা এভিনিউ ধরে। সারাদিন কাজ শেষে কোনো ক্লান্তির ছাপ নেই, বাঙালি সাজে আমাদেরকে দেখে অনেকেই "সো বিউটিফুল" বলে পাশ কাটিয়ে গেল। নিউইয়র্ক বড্ড ডাইভার্স শহর, এ শহরে নানান জাতের বাস, তাদের নানান ভাষা, রঙিন পোশাক, হরেক খাবার—আশেপাশের মানুষ আনন্দ নিয়েই দেখে। কাঁঠালিয়া অনুষ্ঠানে পৌঁছাতেই বড় বড় ফোঁটায় বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।

যথারীতি অনুষ্ঠান শুরু, ইব্রাহীম ভাইজান উনার ত্রিশ সেকেন্ডের বক্তৃতার অসম্ভব জাদুমন্ত্রে একঘর মানুষকে মুগ্ধ করে রাখলেন। সবার কথার ভেতরে কাঁঠাল সম্পর্কিত স্মৃতি-ভালোলাগা-কবিতা অনুরণিত হতে লাগলো। চারিদিকে হলুদ-বাদামী-লাল-সবুজ পোশাক পরিহিত মানুষ, যারা দিনশেষে কাজ শেষে জমায়েত হয়েছিলেন শুধুমাত্র স্মৃতিচারণের মাধ্যমে দু-টুকরো কাঁঠাল খাবে বলে। কেউ বললেন সেই "ভায়া হে তুমভি কাঁঠাল খায়া?" কাবুলিওয়ালার কাঁঠালের আঠায় ঘটে যাওয়া অস্বস্তিকর কমেন্ট। তবে আমার মাথায় কিন্তু ঘুরছিল রাহুল দেব বর্মণের গান—

"শোন মন বলি তোমায়

সব করো প্রেম করো না

প্রেম যে কাঁঠালের আঠা

লাগলে পরে ছাড়ে না"---

এই আঠার ভয়ে কেউ প্রেমে পড়াও ছাড়ে নাই, কাঁঠাল খাওয়াও ছাড়ে নাই। তবে কাঁঠাল কেন বাঙালির জাতীয় ফল এটা এখন একটু হলেও বুঝি। যে জাতির জাতীয় ফল খাওয়ার সময় হাতে তেল মাখাতে হয়, সেই জাতির সর্বত্রই তেল দিতে হয়।

 

অবশেষে ভুঁড়িভোজন টাইম। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সাদা কাগজের প্লেটে যখন একটা মাত্র কাঁঠালের কোয়া আর এক হাতা বিন্নি চালের আঠালো ভাত পেলাম, তখন গ্রামবাংলার সেই চিরাচরিত চিত্র মনে পড়ে গেল। এক মা তার সব সন্তানের পাতে একটু একটু করে খাবার তুলে দিচ্ছেন। কোনো সন্তান এক লোকমা বেশি চাওয়া মাত্রই মায়ের রক্তিম চোখ রাঙানি, "উচ্চবাচ্য না করে যা দিয়েছি এটাই খেয়ে নাও"। 

কি আর করা, আবারো গল্পকার-গীতিকারদের কাছে ফেরা। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উক্তি—"শস্যের চেয়ে টুপি বেশি"। এখানেও তাই, কাঁঠালের কোয়ার চেয়ে কাঁঠালি রঙ্গা শাড়ি পরা মহিলাদের সংখ্যা বেশি।

 

বেরিয়ে এলাম হিলসাইডের ঢালু রাস্তা বেয়ে। তখনো বৃষ্টি থামেনি। পেটের মধ্যে ক্ষুধা ঘুরপাক খেলেও মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল কোলকাতা থেকে আগত কবি সুবোধ সরকারের মুখে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের কথাগুলো।

সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন