https://www.prothomalony.com/

8222

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত্য

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী ২০২৪ ১১:১৮

তুমুল একটা ঢেউ আসুক
দর্পণ কবীর

 

তুমুল একটা ঢেউ আসুক, ভাসিয়ে নিক
মিথ্যের স্তূপ-অচলায়তন, অভিনয়ের যাবতীয় কলা!
হোক জলোচ্ছ্বাস অথবা ঝড়ের তাণ্ডব!
আমাদের অহংকার চূর্ণ হোক, অবনত হতে
শিখিয়ে দিক মন্ত্রণা। বজ্রাঘাত হোক
পাষাণ প্রাচীরে, আকাশ চৌচির হবার মতো
গর্জন উঠুক! আমি বা আমরা প্রস্তুত। 
কিছু একটা হোক, অন্তত একটা দমকা হাওয়া
না হয় এসে বলে দিক আমাদের গন্তব্য 
কোন দিকে। আর কতকাল থমথমে
থাকবে প্রকৃতি, আর কত বুকের কান্না বোবা
হতে হতে বেঁচে থাকাটাকে ভেংচি কাটবে?

 

 

 

সম্বলহীন কিশোরী  
দেওয়ান নাসের রাজা 

 

বারান্দায় এসে কাল জবুথবু বসেছিল চুপচাপ 
ঝোড়ো বাতাসে শীতার্ত মোদিত দুচোখ তার 
তুষারপাতের আশঙ্কায় কেঁপে ওঠে রাতের সি-গাল 
বরফে-বাতাসে অসহায় সম্বলহীন কিশোরী।  

পাশাপাশি শুয়েছিল অচেনা এক প্রহরী। 
ওত পাতে মৃত্যু শীতার্ত বাতাসে অযাচিত 
সারারাত কাছাকাছি সেকি বিস্ময়, কি ভয়হীন!  
প্রস্থানে কি বিরহের চিন্তাও একদম আসেনি?  

দুয়ারে দাঁড়ায় এসে ঝাঁঝাঁ চকচকে এক গাড়ি। 
অবাক বিস্ময়াভিভূত সে 
বেদনার্ত মা ভীষণ উদ্বিগ্ন রাতের হিমেল হাওয়ায় 
আপন ভুবন ছেড়ে যেতে হয়--অমোঘ নিয়তি 
তারপর শুভ্রতায়-
তুষারে আবৃত দেহ পড়ে থাকে স্পন্দনহীন, নিথর। 

 

 

 

অবগুণ্ঠিত প্রেম
সুমন শামসুদ্দিন

 

কতবার নদীর দিকে দৃষ্টি থমকে গিয়েছে,
নদী আমার চোখে অস্থির প্রশান্তির এক
গহীন ভাবনার বীজ বপন করে দিয়েছে!
মন বিষণ্ণ হলে বিশাল বৃক্ষের বুকে কান পেতে শুনেছি,
তারা আমাকে প্রকৃতির নিগূঢ়তার গান শুনিয়েছে!

আকাশ ছুঁতে গিয়ে কতবার হোঁচট খেয়েছি;
কিন্তু নিরাশ করেনি আকাশ-
আমাকে পৌঁছে দিয়েছে উদারতার নিঃসীমতায়!
অতল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়িয়ছি সহস্র বছর,
নিস্তল প্রান্তরের পরিবর্তে আবিস্কার করেছি-
বিশালতার অপ্রমত্ত চারুতা!

শৈলগিরির চিলেকোঠায় বসে,
দিগন্তের সায়াহ্ন অবলোকন করতে গিয়ে-
অনন্তে উদঘাটন করলাম অসীম শূন্যতা!

একমুহূর্ত জীবনপথের নিস্তব্ধতায়,
যখন তোমার কাছে এসে নিরস্ত হলাম-
নির্বাক হয়ে গেলাম! আবদ্ধ হলাম প্রণয়লীলায়!
স্মৃতি দিয়ে পড়ে নিলাম, লিখে নিলাম অলিন্দে, নিলয়ে-
তুমি আমার সেই অবগুণ্ঠিত কবিতা
অনিষ্পাদিত ভালোবাসি তোমায়!

 

 

 

আড়ালে বন্ধু
শরিফুজ্জামান পল 

 

ভন্ডের মুখে নিজ খ্যাতির লোভে
মিথ্যার সাথে বুদ্ধিজীবী মঞ্চে
ভাবলে না একটু প্রশংসা পেয়ে
মঞ্চ থেকেই দুর্গন্ধ বাতাসে ভাসে। 

মানুষ আড়ালে ফেলে ঘৃণার  থু থু
সামনে বলে জ্ঞানী বেশ বেশ;
চলে গেলেই পশ্চাতে মুচকি হাসি  
বলে মূর্খ শালা বাটপারে সরেশ।

মতে ভিন্ন হলে মানুষ কেন শত্রু? 
ভালোর সাথে থাকলে মানুষই সেরা বন্ধু।

 

 

 

সভ্যতার উলঙ্গ বিবেক
এম এ রহমান

 

অন্ধকার খুঁড়ে খুঁড়ে যারা আলো আনে
তুলতুলে একটা নরম ভোর ধুয়েমুছে যারা সভ্যতার 
হাতে তুলে দেয় একেকটা দিনের সূর্যকে
সভ্যতার সেই জানালার থাইগ্লাস খুলে-
আমি তাদের দেখেছি
'গরীব' শব্দের ভেতর আজন্ম বন্দী কারাগারে
অন্ধকারে সশ্রম আঁধারে অনাহারে 

যারা সভ্যতার দেহকে কাপড়ে ঢেকে দেন
মিহি কারুকার্যে সৌন্দর্যে মাধুর্যে যারা শৈত্যের শীতল 
হিম গিলে খেয়ে, রক্তের উষ্ণতা ঢেলে দেয় সভ্যতাকে
আমি তাদের দেখেছি- 'গরীব' শব্দের ভিতরে-উলঙ্গ
বিকলাঙ্গে সমুদ্র তরঙ্গে সর্বাঙ্গে ভ্রুভঙ্গ

যারা বীজের ভেতর স্বপ্নবুনে আগামীর ভরপেট
দেহের রোদ্দুর ঢেলে আহত জলের সেঁচে 
আমি তাদের দেখেছি-
'গরীব' শব্দের ভেতরে অভুক্ত ক্ষুধার কামড়ে
মোচড়ে মোচড়ে কান্না আজীবন ঘরজুড়ে 
সভ্যতার উলঙ্গ বিবেক, বিবস্ত্র মানবতায়-
হেসে ওঠে গুহামন মাংসাশী ধারালো দাঁতে! 

 

 

 

এসেছিলাম তোমার শহরে
সোহানা নাজনীন

 

আচমকা এক সফর শেষে, ফিরে যাচ্ছি আজ
বহুদিন পরে বহুজন দেখা হল
শুধু হলনা দেখা তোমার সাথে
ভোজবাজীর মতো; এক বিকালে উধাও হয়েছিলে।

অনেক কাছে এসেছিলাম, এক্কেবারে তোমার বাড়ির 
বারান্দায়, তোমার ঘরে, নামাজ পড়ার চেয়ারে 
ধুলোর আস্তর পড়া গ্রিলে 
থুতনি ঠেকিয়ে দেখেছিলাম ব্যস্ত এক শহরে ভোরের 
শিশির কিভাবে টুপ করে গড়িয়ে পড়ে কাঠাল পাতায়

তুমি জানলেও না, আমি এসেছিলাম এই শহরে।
সিঁড়ি বেয়ে নেমে, লোহার গেট খুলে
গলির মোড়ে দাঁড়িয়ে রিকশার খোঁজে
বিক্রমপুর মিস্টান্ন ভান্ডারে তোমার ফেলে যাওয়া 
পায়ের ছাপে, অনেক খুঁজেছিলাম

শুধু যা কিছু জীবন্ত অথবা জড় 
তাদের জন্যেই এই পৃথিবী
মৃতরা কোথাও নেই, এই পৃথিবী মৃতদের জন্যে 
কবর ছাড়া ভিন্ন কোন জায়গা বরাদ্দ করেনি
মৃতদের ঘিরে থাকা বেলুনের মতো ফাঁপানো স্মৃতি
সীমাহীন ভাবে জুড়ে থাকে 
পরিজনের কোমল হৃদয়; বুক পাঁজরের কিছু জমি। 

 

 

 

দুঃখ জলের লহরী
রোকেয়া দীপা

 

একটি একটি করে অনেকগুলো দিন চলে গেল 
এরই মাঝে নিজেকে খুঁজে ফিরছি প্রতিনিয়ত
একটি আয়না- আমার প্রতিবিম্ব কিংবা ছায়া হয়ে উঠেছে এতদিনে 
কি করে ভাবলে আমি একা হয়ে যাবো? 

বিদায়-বলে যেতে হয়, কিংবা ছেড়ে যাবার কারণ 
পাতাগুলো যেমন মচমচে হয়ে গুঁড়িয়ে যাবার আগে
শুকিয়ে রঙ হারিযে প্রকৃতিকে জানায়, শেষ বেলার কথা
তেমন করেই বলে যেতে হয়

উষ্ণতার তীব্রতা কিংবা হিমশীতল বৈরী হাওয়ায়  
নিজেকে প্রশ্ন করি, প্রেম কেমন করে ছিটকে গেল?
আর তখনই হৃদয়ে ঝড় উঠে, সুনামির তাণ্ডব টের পাই
টের পাই, কেউ কানে কানে ফিসফিস করে বলে,
তুমি একা নও! তুমি একা নও
এই দেখো-আমি আছি তোমার সাথে ছায়া হয়ে
আমরণের প্রতিশ্রুতিতে সাথী হতে এসেছি
অতঃপর আমি তাকে আলিঙ্গনে গ্রহণ করি। 

ওহ! ওর পরিচয়টা দেওয়া হয়নি; 
ওর নাম দুঃখ জলের লহরী, ডাক নাম-কষ্ট। 

 

 

 

ভাদর মেঘের চিঠি 
কুলসুম আক্তার সুমী

 

কার বিরহী বদন হেরি পাতার ফাঁকে, মৃদু হাওয়া 
কি বলে ইশারায়? 
জীবনের প্রয়োজন হাঁক ছেড়ে ডাকে, মন যেতে চায় 
নিরালায়। 

ক্ষণে ক্ষণে ব্যথা জাগে বুকে, উড়োমেঘ গাঢ় হয় 
অবেলায়। 
সম্মুখে পেছনে বাধার হিমালয়, স্থবির হয়ে আসে পা 
নিরাশায়। 

দ্রোহ করতে উদ্ধত হয় শরীর, মন জোর করে
বিরুদ্ধে যায়। 
আশার আল্পনা আঁকে সে, সম্ভাবনাহীনতার 
সম্ভাবনায়। 
ভাদরের মেঘ উড়ে গিয়ে বলো তাকে; আমি আছি
আজো অপেক্ষায়। 

 

 

 

কে আমায় ডেকে যায়
এইচ বি রিতা

ঘুম থেকে জেগে ওঠা এবং একটি বৃষ্টির দিন দেখা মানে, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হলো দুঃশ্চিন্তা। সারাদিনের কাজগুলো ঠিকঠাক মতো করা যাবে কিনা, তা-ই প্রথমে ভাবনায় আসে। তাছাড়া, আমরা ছোট থেকেই বৃষ্টিকে দুঃখজনক পূর্বাভাস এবং বিষণ্ণতার সাথে যুক্ত করতেই শিখেছি। আর তাই আমাদের সাধারণ মানুষদের বৃষ্টির দিনে জানালার বাইরে তাকিয়ে থেকে স্মৃতি রোমান্থন করা ছাড়া যেন, আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু কবি-লেখকদের বেলায় এমন দিনে বৃষ্টির বর্ষণ হয়ে উঠে তাদের লেখার উপাদ্য। বৃষ্টির বর্ষণ তারা বর্ণনা করেন, অন্ধকার, বিষণ্ণ মেঘের কান্নায়। হয়তো কবি তার বিছানায় শুয়ে বাইরের বৃষ্টির আওয়াজ শুনতে পাচ্ছেন, শব্দটি তাকে অপরিমেয় আনন্দ দিচ্ছে। কিন্তু অবিরত ঝরতে থাকা বৃষ্টির ফোঁটা আর সে শব্দই একসময় কবিকে কল্পনার জগতে নিয়ে যায় এবং কবি স্মৃতির জগতে হারিয়ে যান। 

আজ সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ঘর ছেড়ে বের হওয়া হয়নি। এদেশে শীতের দিনে রাত যেন, বিকেলের বুকে একটু আগেই ঢলে পড়ে। জানালায় উঁকি দিয়ে দেখে নিলাম বৃষ্টির ঘনত্ব। নাহ! একই রকম গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। হাতে সর পড়া দুধ-চায়ের কাপটি শূন্য হতে শুরু করেছে। বৃষ্টি আর চা- যখনই এই দুটি উপাদান মিলে যায়, আমার মন ঘর ছেড়ে ছাতা হাতে, টিপটিপ পায়ে বের হতে চায়।

আকাশে উড়তে উড়তে সূর্যের কাছে যাওয়া ছিল ইকারাসের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অসতর্কতা। তাই তো সূর্যের খুব কাছে উড়ে গিয়ে মোমের ডানা গলিয়ে সাগরে তার মৃত্যু হলো। ইকারাস উড়েছিল আকাশে। ইকারাসের মতো আকাশে উড়ার ইচ্ছা জাগেনি কখনো, তবে বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে ভেজা রাস্তা আর কার্ভের পানিতে ঝরে পড়া গাঢ় হলুদ, বাদামি পাতাদের মুক্ত স্বাধীনভাবে গড়াগড়ি খেতে দেখতে, প্রায়শই ছাতা হাতে বেরিয়ে পড়ি। আজও বের হলাম! গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের ফোঁটাগুলো ফুটপাথে পড়ছে,আকাশটা অন্ধকার মনে হচ্ছে। কে ভেবেছিল জলের মতো বর্ণহীন কিছু মেঘকে, আজকের বৃষ্টি এত অন্ধকার করে তুলতে পারে? কয়েক কদম সামনে বাড়তেই সামনের রাস্তায় জলের ফোঁটায় পড়ে থাকা পাতাদের পরিষ্কার দৃশ্য দেখতে, চোখের চশমাটায় ঘনীভূত জলের ফোঁটা ঘষতে চেষ্টা করলাম। ইতোমধ্যেই গাছের পাতায় ফোঁটাগুলির আঘাত একটি অবিরাম সঙ্গীতে পরিণত হয়েছে; ঠিক যেন একটি পুরানো রেডিও বাজতে শুরু করেছে।

হয়তো বৃষ্টি প্রেমিকযুগলের জন্য ভালবাসা প্রকাশের একটি উপলক্ষ, বয়স্ক কারো জন্য তিক্ত মধুর স্মৃতি, শিশুদের ভেজা খেলার মাঠ কিংবা কোনো এক কবির কলমে বিষণ্ণতার ছাপ। কিন্তু আমার কাছে বৃষ্টি কেবল চোখের অশ্রুতে মিশে যাওয়া ফোঁটা নয; বরং বৃষ্টি আমার কাছে সূর্যালোক হ্রাস করে অন্ধকারের আবেগ তৈরি করা এক বাদ্যযন্ত্র। বৃষ্টি সহসময়  আমার কাছে বিষাদ, ক্ষতি বা দুঃখ-কান্না, হতাশার প্রতীক হয়ে উঠে না। বৃষ্টি কখনো আমাকে জলের ঢেউয়ে দোলতে থাকা পাতাদের স্বাধীনতা ও অধিকারের গল্প শোনায়, আকাশের বুকে বোঝা হয়ে থাকা মেঘেদের সমাপ্তির দৃশ্য দেখায়; বৃষ্টি আমাকে আঁধারের পর স্বচ্ছ আকাশের সৌন্দর্য আর বিশুদ্ধ শীতল জলের সন্ধান দেয়; আমাকে  প্রাকৃতিক এক বাদ্যে বিমোহিত হওয়ার সংগীত শোনায়। আকাশ থেকে ঝরে পড়া বৃষ্টি আমার জীবনের কখনও শেষ না হওয়া সময়সূচীর এক প্রতিপক্ষ। বৃষ্টির দৈহিক নান্দনিকতা আমাকে জীবনের দৈনন্দিন চাপগুলিকে শান্ত করে, তাদের ভুলে যেতে অনুপ্রাণিত করে। 

তাই তো বেরিয়ে পড়ি বৃষ্টির শব্দে ছন্দ আর ছন্দপতনের সুর শুনতে। এ সুর আমাকে মার্টল অ্যাভিনিউ এর কথা মনে করিয়ে দেয়। মার্টল অ্যাভিনিউ পূর্ব/পশ্চিম রাস্তা যা ফ্ল্যাটবুশ অ্যাভিনিউ এক্সটেনশন থেকে ব্রুকলিন হয়ে কুইন্সের রিচমন্ড হিল পর্যন্ত চলে। ১৮০০-এর দশকের গোড়ার দিক থেকে এটি একটি প্রধান সড়ক হয়ে উঠে। একসময় এই অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মার্টল গাছের জন্য নামকরণ করা হয়েছিল মার্টল অ্যাভিনিউ। হ্যাংকক আর মার্টলের মাঝেই কেটেছে আমার কর্মজীবনের দীর্ঘসময়। সেই পথ, স্কুল ব্যাকইয়ার্ডে বাচ্চাদের নিয়ে ঝরা পাতা কুড়ানো, অ্যান ন্যুয়েন যে চলে গেছে আমাকে ছেড়ে মায়ের ভূমিকা পালনে সেও ছিল এক দুর্দান্ত মানবিক সহকর্মী। বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে লাগতে দেয়নি কখনো যে ছাতা হাতে, তারও অশ্রু ঝরেছিল ওয়াইকফের হাসপাতালের বিছানায় নীরবে; বৃষ্টির ফোঁটার মতই। স্মৃতিরা ডানা মেলে ফিরে আসে খণ্ড খণ্ড সুখানুভূতি, কিছু দুঃখ নিয়ে। এই প্রকৃতি কত কি ধরে রাখে রঙ বদলানো স্মৃতির পাতায়। 

আহা বৃষ্টি! আজ বৃষ্টির দিন। তুমি জানতে চাইলে, কেমন করে তুমি আমাকে ভাবাও? 

বললাম, তোমার মৃদু ঢেউ আমার কাছে একটি গল্প আর ফোঁটাগুলো সে গল্পের কথন। 

বললে, বৃষ্টি মানেই কী আকাশের কান্না? 

তা কেন? 

তোমার আবেগী নাচ, ভালবাসার তিক্ত মিষ্টি মিশ্রণ! প্রতিটি ফোঁটা সুখ বা করুণ সানাইয়ের সুর; গেয়ে যাও তুমি কারো ভেতরের গান, যেখানে আমি খুঁজে পাই পিছনের কথন।

এবার বললে, বৃষ্টির ফোঁটা কেবল করুণ কান্নার কথাই বলে।

হয়তো বলে! কেননা, পাপড়িগুলোতে বৃষ্টির ফোঁটা প্রেমের একটি কোমল বিরতি টানে, হৃদয়কে বেঁধে রাখে ছন্দময় বৃষ্টিতে যেখানে আমারও থাকে কথন; তোমাকে না পাওয়ার।

তুমি হাসলো!  আমি আর কথা বাড়ালাম না।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন