https://www.prothomalony.com/

7315

new-york

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে গ্রন্থ আলোচনায় অধ্যাপক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী: প্রতিকূলতার মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রতিবেশীকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৩ ১০:২৭

নানান প্রতিকূলতা ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের অনেক ক্ষেত্রে শাক্তিশালী প্রতিবেশীকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকে যে হানাহানির দেশ হিসাবে চিনে, সেটি প্রকৃত চিত্র নয়। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে বিশেষ করে নারীদের, অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা বেড়েছে প্রান্তিক মানুষের, দারিদ্রের হার কমেছে। এরকম অসংখ্য উদারহরণ দেয়া যাবে। এটি সম্ভব হয়েছে দেশের জনগণ, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায়। দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছে ব্র্যাকসহ বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলো (এনজিও)।

কথাগুলো বলছিলেন নিউইয়র্কের কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির পাবলিক হেলথ্ বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরী। তাঁর লেখা একজন উন্নয়ন কর্মীর বেড়ে ওঠা “আমার ব্র্যাক-জীবন” শীর্ষক গ্রন্থের আলোচনায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৮ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের মুনলাইট রেস্টুরেন্টে লেখকের উপস্থিতিতে গ্রন্থের আলোচনা অনুষ্ঠানটি স্বঞ্চালনা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুধীজন অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।



প্রথমআলো উত্তর আমেরিকার আয়োজন-ব্যাবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফার্মাসিস্ট লিয়াকত হোসেন। এতে সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবি, কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মুখপত্র, সাংস্কৃতিজনসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রতিনিধি অংশ নেন। নিউইয়র্ক ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত অতিথিরা অংশ নেন আলোচনা পর্বে। সবাইকে স্বাগত জানান প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এনজিও ব্র্যাকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, পরিসংখ্যানবিদ-গবেষক ডা. রাজা বলেন, ব্র্যাক বাংলাদেশের স্বাধীনতার একটি ফসল। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে দেশ গঠনে তথা দারিদ্র দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতিতে তথা প্রান্তিক মানুষের জীবন মানউন্নয়নে কাজ শুরু করে ব্র্যাক। আজ ব্র্যাক বাংলাদেশসহ পৃথিবীর ১১টি দেশে কাজ করে। ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের সান্নিধ্যে সুদীর্ঘ ৪২ বছর ব্র্যাকে কাজ করতে গিয়ে কাছ থেকে দেখেছি বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। সেটি যেমন আলোকপাত করা হয়েছে তেমনি দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, অর্জন, গবেষণা, প্রাপ্তিসহ নানান দিক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি বইয়ে।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে বর্হিবিশ্বের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের নেতিবাচক প্রচার পায়। তখন আমরা এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলোর রাজধানীতে গিয়ে বাংলাদেশের সেই এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিই অগ্রগতির বিষয়টি। যারাই সেই অগ্রগতির কথা শুনেছে বিস্মিত হয়েছে, পুলকিত হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠানে বারবার উঠে আসে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রসঙ্গ। শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জ্ঞাপন করেন বক্তারা। একইসাথে আলোচনা ও মুক্ত প্রশ্নপর্বে সমালোচনা উঠে আসে এনিজওদের কর্মকান্ড নিয়ে। কেউ কেউ ক্ষোভের সাথে বলেন এনজিওরা ডোনার এবং সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চকিত হননা কখনো, দালালী করেন।



ডা. রাজা সেই প্রসঙ্গে বলেন, ব্র্যাকের উদ্ভাবন বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়েছে। ব্র্যাক বাংলাদেশের মানুষকে জাগানোর কাজ করেছে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে মুখে খাবার স্যালাইনের ব্যাবহার, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোর সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্র্যাক বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে দালালী করেছে।

অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন- কবির কিরন, বেনজির শিকদার এবং গান পরিবেশন করেন জাকির হোসেন। আলোচনা পর্বে অংশ নেন  হাসান ফেরদৌস, শেখ আখতারুল ইসলাম, রহমান মাহবুব, সেকিল চৌধুরী, ডা. এহসান হক, মনোয়ারুল ইসলাম, এইচ বি রিতা, রওশন হক, শাহীন দিলওয়ার, মনিজা রহমান, রোকেয়া দিপা, আখতারুল আলম, ওয়াজেদ আহেম্মদ, নাসির শিকদার, ইসমত হানিফা, সুমাইয়া চৌধুরী, রাজীয়া নাজমী, আনিসুল কবির, আব্দুল কাইয়ুম, ফয়সাল ইয়াকুব, সামছুল ইসলাম, জাকির হোসেন, শাহজাদা চৌধুরী, সৈয়দ ফজলুর রহমান, রাণা ফেরদৌস, মনজুরুল হক, আব্দুল কাইয়ুম পারভেজ প্রমুখ।

সভাপতির বক্তৃতায় এডভান্স ফার্মাসিউটিক্যালসের ভাইস প্রেসিডেন্ট, রিভিভিফাই নামের বিস্ময়কর সাপ্লিমেন্টের আবিষ্কারক, বিজ্ঞানী লিয়াকত হোসেন বলেন, জীবনের এ সময়ে নিজের জন্য তাঁর কিছুই চাওয়ার নেই। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত। তাঁর সমস্ত প্রয়াস এখন মানুষের কল্যাণে উৎসর্গ করা বলে তিনি উল্লেখ করেন।



অধ্যাপক ডা: জিয়াউদ্দীন আহমেদ নিউইয়র্কের বাইরে থেকে এসেও যারা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাদের সহ সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ড.মোশতাক রাজা চৌধুরীর মতো ব্যক্তির কাছ থেকে দেশ ও সমাজ অনেক পেয়েছে। তাঁদের কর্মপ্রয়াস নিয়ে নতুন প্রজন্ম চর্চা করার মধ্য দিয়ে লাভবান হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কবিতায়, গানে উপছে পড়া দর্শক শ্রোতা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে ড.রাজা, বিজ্ঞানী লিয়াকত হোসেন এবং ডা: জিয়াউদ্দিনের আলোচনায় মগ্ন হয়ে থাকেন।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে নৈশভোজে অংশ নেন অংশগ্রহণকারীরা।
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন