https://www.prothomalony.com/

18545

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাম্পের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ভোট

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৬

যুক্তরাষ্ট্রে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথও নির্ধারিত হবে এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষেই বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টি। তবে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে ভোট হচ্ছে। অন্যদিকে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ৩৫টিতে। পাশাপাশি ৩৯টি রাজ্য ও অঞ্চলে গভর্নর পদেও ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের আসন হারানোর প্রবণতা দেখা যায়। এবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনাকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানরাও প্রচার চালিয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে রিপাবলিকানদের আসন ২১৮টি, ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি। একটি স্বতন্ত্র সদস্যও রয়েছেন এবং দুটি আসন শূন্য। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের হাতে খুব বেশি আসন ছাড়ার সুযোগ নেই। ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে চারটি আসনের নিট ব্যবধান পেরোতে হবে। সিনেটেও একইভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের চারটি আসনের নিট লাভ প্রয়োজন।

 

ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে কী হবে

কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাস্তবায়নে বাধা তৈরি হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পাবে বিরোধী দল। এসব কমিটির মাধ্যমে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি আয়োজন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের তলব করা সম্ভব হবে।

বিশেষ করে বাজেট ও সরকারি ব্যয়ের ওপর কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া বা কমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। পাশাপাশি প্রশাসনের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত জোরদার হতে পারে।

প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবও পাস করতে পারে। তবে অভিশংসন মানেই প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া নয়। এর জন্য সিনেটে বিচার ও দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন হয়।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ফেডারেল বিচারক, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর তাদের প্রভাব বাড়বে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও কংগ্রেসে চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও সব আইন নিজেদের মতো করে পাস করতে পারবে না। সিনেটে অধিকাংশ সাধারণ আইন পাসের ক্ষেত্রে বিতর্ক শেষ করে ভোটে যাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০ ভোটের প্রয়োজন হয়। আর প্রেসিডেন্ট কোনো বিলে ভেটো দিলে তা বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে।

রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলে

কংগ্রেসের দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন ও নীতি বাস্তবায়নের পথ তুলনামূলক সহজ থাকবে। করনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরক্ষা ব্যয়ের মতো বিষয়ে প্রশাসনের প্রস্তাবগুলো কংগ্রেসে সমর্থন পাওয়ার সুযোগ বাড়বে।

সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্প তার মনোনীত ফেডারেল বিচারক, মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ থাকলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

ট্রাম্পের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও নীতির প্রতি ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। এবার জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। রয়টার্সের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩২ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে জনমত জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না।

 

নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পকে বাকি মেয়াদে বিরোধী দলের নেতৃত্বাধীন কমিটির তদন্ত, বাজেট নিয়ে দর-কষাকষি এবং আইন প্রণয়নে বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ট্রাম্পের নীতিগত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বজায় থাকবে। ফলে মঙ্গলবারের ভোট শুধু কংগ্রেসের আসন বিন্যাস নয়, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী পরিবেশও নির্ধারণ করবে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন