https://www.prothomalony.com/
18546
north-america
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৩৯
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলগুলোর জন্য ৩৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বাজেট বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষা খাতে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে না পারার অভিযোগ উঠেছে মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধে। দায়িত্ব নেওয়ার ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও নির্বাচনী প্রচারণায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির তুলনায় শিক্ষাক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন কম বলে দাবি করছেন শিক্ষা অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সাবেক নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশনের জেনারেল কাউন্সেল এবং ব্রুকলিন কলেজের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডেভিড ব্লুমফিল্ডের অভিযোগ, প্রায় ৯ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য শুধু প্রচার নয়, বাস্তব অগ্রগতি প্রয়োজন। জাতিগত বৈষম্য, স্কুলে শিক্ষার্থী ভর্তি কমে যাওয়া এবং স্কুল একীভূত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মামদানি এখনো বড় কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারেননি।
ব্লুমফিল্ড বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই মামদানি সরকারি স্কুলগুলোর ওপর মেয়রের একক কর্তৃত্ব বজায় রেখেছেন। তার মতে, সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস কিংবা মাইকেল ব্লুমবার্গের মতো মামদানিরও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট শিক্ষা এজেন্ডা নেই।
‘ক্লাস সাইজ ম্যাটারস’র প্রতিষ্ঠাতা লিওনি হাইমসনও প্রশাসনের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মামদানি প্রগতিশীল ও সক্রিয় শিক্ষা এজেন্ডার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালালেও অ্যাডামস প্রশাসনের তুলনায় কে-১২ শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, শ্রেণিভেদে প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ জনের মধ্যে রাখার বিধান রয়েছে। অ্যাসেম্বলিম্যান থাকাকালে মামদানি এ আইন সমর্থন করেছিলেন। কিন্তু মেয়র হওয়ার পর আইনটি বাস্তবায়নের সময়সীমা দুই বছর বাড়িয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইমসন। তার ভাষ্য, ক্লাসের আকার ছোট করার বিষয়ে মামদানি সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, অথচ দায়িত্ব নেওয়ার পর বাস্তবায়নের সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুল ব্যবস্থায় প্রায় ১০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য দুই বৃহত্তম স্কুল ডিস্ট্রিক্ট লস অ্যাঞ্জেলেস ও শিকাগোর তুলনায় নিউইয়র্কে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় করা হয়।
ব্লুমফিল্ডের প্রশ্ন, এত বিপুল অর্থ সঠিক জায়গায় ব্যয় হচ্ছে কি না। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থী কমে যাওয়া স্কুলগুলোতে বরাদ্দ অব্যাহত থাকলেও অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ সামলানো স্কুলগুলো প্রয়োজনীয় সুবিধা পাচ্ছে না।
চকবিটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসন কে-১২ শিক্ষা নিয়ে ২১টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যে গিফটেড অ্যান্ড ট্যালেন্টেড কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ডিসলেক্সিয়া শনাক্তকরণ উদ্যোগের বিষয়ও ছিল। একই সময়ে মামদানি প্রশাসন এ বিষয়ে ১১টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
তবে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সঙ্গে অংশীদারত্বে সিটির প্রথম ‘টু-কে’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন হাইমসন। এ কর্মসূচির আওতায় দুই বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক শিক্ষা ও শিশুযত্নের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের বিষয়ে প্রশাসনের মনোযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
হাইমসন ও ব্লুমফিল্ড উভয়েই মেয়র মামদানি এবং শিক্ষা চ্যান্সেলর কামার স্যামুয়েলসের প্রতি কে-১২ শিক্ষাকে প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, স্কুলব্যবস্থার চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কার্যকর কৌশল।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন