https://www.prothomalony.com/
7033
literature
আরব-ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনে যে যুদ্ধের শুরু, তা এখনো অব্যাহত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, প্রায় ৭৫ বছর ধরে ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ চলমান। যুদ্ধ, হামলা, পাল্টা হামলা-শান্তির পথ নয়। যুদ্ধ কেবল কেড়ে নেয় জীবন, যেখানে মর্মান্তিক চিত্রগুলোতে উঠে আসে শিশু, বয়স্ক, বৃদ্ধদের রক্তাক্ত লাশে। যুদ্ধ মানেই কেবল শান্তি নয়। যুদ্ধ মানে সহিংসতা বৃদ্ধি। আমরা যুদ্ধ চাই না, লাশ চাই না। আমরা মানবতার লঙ্ঘন চাই না। ঐক্যমত ও শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন -দুই পক্ষই সমাধানে আসুক। বেঁচে থাকুক মানুষ, শান্ত হোক পৃথিবী। -এইচ বি রিতা।
ফিলিস্তিন: কাফনে মোড়া পর্বত
ফারুক ওয়াসিফ
কোথাও সান্ত্বনা নেই
স্প্রিং ভাঙ্গা পুতুলেরা
ঢাল বেয়ে গড়াতে গড়াতে
ভাঙ্গা গান গায়.
বোবা মানুষের বাজানো ভাষায়—
আশা ও অপেক্ষা দুইমাত্র বোন
একসঙ্গে হারাকিরি করে প্রতিদিন
পুতুলগুলি কার?
সেসব শিশুরা কোথায়?
কোথাও সান্ত্বনা নেই
তবু ইচ্ছা করে কবুতরমন—
কমলা জিঞ্জির খুলে
উড়ে যাই অবাধ আকাশে;
অন্তিম উচ্চতা ছোঁয়া নীল মেখে ঠোঁটে,
ফিরে আসি তোর বুকে—ফিলিস্তিনে।
দারবিশ
কাকন রেজা
অধিকার আক্রান্ত হলে দারবিশ জেগে ওঠে
কবিরা বিপ্লবী হয় দারুণ সঙ্কটে।
অতিক্রান্ত অধিকার চিনে ঠিক সময়ের বিষ
কবিতায় বিপ্লব হলে সব কবি দারবিশ।
২
দারবিশ হয়ে উঠে কাব্য অপার দারবিশ হৃদয়
প্রতিটা শব্দ শেষে বুলেট মনে হয়।
দারবিশ যুদ্ধ দেখেছেন, কাব্য লিখেছে গুলি
আমার উঠোনে ফিরছে দারবিশ দিনগুলি।
প্রাসঙ্গিকী
অমিতাভ সরকার
কলম যেখানে স্তাবক, যুদ্ধ যেখানে সমাধান, রাষ্ট্র যেখানে
ক্ষমতার গোলাম, বিবেক যখন বিসর্জিত, পাশবিকতা
যেখানে শিশুদেরও রেওয়াত করে না, মৃত্যু যেখানে
শুধুমাত্রই কিছু সংখ্যা।
মানবতা যেখানে অসহায়, হিংসা যেখানে বয়স্ককেও ছাড়ে না,
রক্ত যেখানে উৎসব, সেখানে খুবই জানতে ইচ্ছে করে, কার
পাপে মানুষের এই অবস্থা! এর কি কোনো শেষ নেই?
দোষ না করেও যারা অপরাধী, দোষী হয়েও যাদের শাস্তি নেই,
বিচারে তাদের কী হওয়া উচিত? ঘরে বসে বড় বড় কথা না
বলে পৃথিবী এবার শান্তির মাঠে নামো,
অস্ত্রগুলো নান্দনিকতার কাজে লাগুক, ঘাসগুলো আবারও
মাথা তুলুক, গাছগুলো বারুদের কালো ধোঁয়ায় না ভিজে
একটু বিশুদ্ধ আলো বাতাসে আবারও প্রাণ খুলে হাসুক,
পরিবেশটা তো তাতে বাঁচবে, জীবনগুলোও পথ পাবে, আর
এই বিশ্ব..।
ফিলিস্তিন
সাকিব জামাল
টুকরো টুকরো পাথরে বোনা স্বাধীনতার স্বপ্ন
কচি ঘাসের গায়ে লেগে থাকা রক্তের দাগ
তোমরা বোঝ না?
তোমরা বোঝ না, কতোটা অধিকারহারা হলে
আপন সন্তানের মৃতমুখ দেখেও বাবা বলে ওঠেন,
"হে আরশের মালিক,
তবুও আমার পরিচয়টুকু নিশ্চিত করো!"
অথচ তোমরা পাথরের টুকরোগুলোকে ভয়ঙ্কর বলো
বোমারু বিমানের চেয়ে!
তাদের পক্ষে জলসা বসাও। সংঘ করো।
সন্ত্রাসবাদের তকমা দিয়ে-
অস্বীকার করো স্বাধীনতার সংগ্রাম।
অন্যান্য মানবাধিকারের হিসাব দূরে থাক!
শুধু এতোটুকু হিসাব করো, কে কতজন মানুষ মেরেছে,
কে কতোটা দখলবাজ?
তবে, জেনে রেখো, একদিন এইসব পবিত্র পাথরের টুকরোই
আল-আকসাকে মুক্ত করার জন্য যথেষ্ট হবে!
আমাদের বিশ্ববিবেক
আবদুল বাতেন
শিশুর করুণ কান্না, নারীর আরশ- কাঁপা আর্তনাদ
মিশে যাচ্ছে, বিলীন হয়ে যাচ্ছে
বিমান থেকে মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণের নগ্ন নিনাদে।
রক্তাক্ত, ক্ষতবিক্ষত নিরীহ মানুষগুলো, অবুঝ প্রাণীগুলো
ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে
ফুঁৎকারে হাসপাতাল উড়িয়ে দেয়া বোমার বর্বরতায়।
খাদ্য- পানি ছাড়া, গ্যাস- বিদ্যুৎ ছাড়া দিনের পর দিন
অন্ধকার উপত্যকায়
শঙ্কিত শরণার্থীর মিছিল দীর্ঘ থেকে সুদীর্ঘ হচ্ছে।
পরাশক্তির কাছেই লেজ গুঁটিয়ে পড়ে আছে মানবাধিকার
টাকা এবং অস্ত্রকেই সেজদা করছে আমাদের বিশ্ববিবেক,
জাতিসংঘ।
ফিলিস্তিনি শিশু
টি এইচ মাহির
বারুদের গন্ধে ভাঙ্গে ঘুম, নিত্য হাহাকার
চোখের সুরুয়া জলে রুটি
ক্ষুধায় পানাহার।
লাশের পরে লাশের সারি, রক্তের নদী
নিজ ভূমে পরাধীন তারা
শত্রুর গদি।
স্বজন হারা শিশুর কান্না, নেত্রনীরে চোখ
জন্মের পর অচেনা তার
মায়ের মুখ।
কিশোর হারায় মা বাবা, কেউ ভিটে মাটি
স্মৃতিমাখা নিজের গ্রামে
শত্রুর ঘাঁটি।
ফিলিস্তিনি শিশুরা ডুবে-রক্তের বন্যায়,
রুখতে হবে,গড়ো একতা
ভাঙবো অন্যায়।
জেগে ওঠো বিবেক
সুব্রত চৌধুরী
আঁচল তলে লুকোয় খোকা আধো আধো বোলে
স্বপ্নাবেশে ঘুমায় খোকা মমতাময়ী মায়ের কোলে।
স্বপ্নের মাঝে হামলে পড়ে দৈত্য দানো যতো
বোমা মারে রকেট ছোঁড়ে বুলেট শত শত।
যায় যে উড়ে ঘরের চালা-ওড়ে মাথার খুলি
বোমার শব্দে চাপা পড়ে খোকার কান্না বুলি।
দিকে দিকে আহাজারি বুক ফাটা ওই কান্না
তারা যে অবোধ শিশু-ঢের হয়েছে আর না।
মানবতা ওঠো জেগে পরো না আর ঠুলি
রুখে দাঁড়াও দৈত্য দানো থামাও বোমা-গুলি।
বিশ্ববিবেক আজ নীরব কেন, জাগো সবাই জাগো
প্যালেস্টাইন স্বদেশ আমার,ভাগো তোমরা ভাগো।
আরিফুল হাসান এর কবিতা
পরিহাস
যুদ্ধের লাশ-কার ঘরে যাবে?
অন্ধ ও বধির প্রেমিকা
কাঁচুলি খোলো না
এখন সময় নয়; চারিদিকে বোমা পড়ছে।
ভালোবাসা-তছনছ শিশুদের মুখ
তুমি সঙ্গমে ডেকো না এখন।
যুদ্ধ ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে
যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দিয়েছে আমার চোখ
আমি আগের মতো দেখতে পাই না সূর্যোদয়
সূর্যাস্ত কিংবা বাগানে কীভাবে ফুল ফোটে—দেখি না
এখন স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আমার শ্বাস দ্বিগুণ
আর বাতাসে ভাসছে ফসফরাস —তীর্যক।
না, মৃত্যুকে তবু উপেক্ষার বিষয় ভাবি না
সমস্ত যুদ্ধ, সমস্ত অস্ত্রের বিপরীতে একেকটা জীবন।
ফিলিস্তিন সংকটে
কবির সুমন
কেউ যাচ্ছেনা বাদ ফিলিস্তিনে মুসলমানের প্রথম কেবলায়
কোমল শিশু, নরনারী বয়োবৃদ্ধ-ইসরায়েলের হিংস্রতায়।
চলছে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড পূর্ব থেকে আজ অবধি
তাজাপ্রাণ ক্ষতবিক্ষত শরীর রক্তের সলিল সমাধি।
বোমার আওয়াজের তীব্রতা,স্বজন হারানোর হাহাকার
আকাশে বাতাসে ভেসে চলে বুভুক্ষু মানুষের চিৎকার।
মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে বিশ্ব মোড়ল যুদ্ধের হোতা,
মানবতা লঙ্ঘিত অবাক বিষ্ময়-মুখে মহান ত্রাতা।
প্রতিবাদ প্রতি ক্ষণে জন্ম নেয় ক্ষোভের ইতিকথা,
গভীর অতলে হায়িয়ে বিলীন; মনুষ্য মানবতা।
কেন এত দ্বন্ধ-যুদ্ধ আর যুদ্ধ
এইচ বি রিতা
শান্তির নামে আওয়াজ ধূমায়িত করে বিশাল
স্বচ্ছ আকাশ
যেখানে পাখিরা আর উড়তে পারে না পালক মেলে
নদী পাহাড় হারায় তাদের জলবায়ু-
জলাশয়ের ভূসংস্থান।
শান্তির নামে আওয়াজ উত্তেজিত করে শহর,
দেশ, জাতি
শুকনো কুয়োয় ঝাঁপিয়ে পড়ে মানবতা
মানুষের আত্মায় ব্যথাতুর দীর্ঘশ্বাসে পাল্টা আওয়াজ
মৃত্যুপুরীতে পরিণত করে শহর, উপত্যকা
অবশেষে, মর্গ ছেড়ে আইসক্রিম ট্রাকে ঢুকে পড়ে
সে আওয়াজের পরিণতি।
আওয়াজের পরিণাম দ্বন্ধ, যন্ত্রণা, কলহ
কেন এত দ্বন্ধ, যুদ্ধ আর যুদ্ধ
একি ক্ষমতা এবং নিয়ন্ত্রণের অনুসন্ধান?
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন