https://www.prothomalony.com/
6947
new-york
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৩ ০৬:০৮
গীতিকবি রশিদা আকতার তার সময়ের দ্রোহ, প্রেম, দুঃখ এবং ভালোবাসার কথা বলেছেন তার কাব্যে। সময়কে ধারণ করে কবি তার উচ্চারণে মানুষের কথা বলেছেন। এমন সৃষ্টির মধ্যেই একজন কবি বেঁচে থাকেন। দেশ ও মানুষের প্রতি তার নিমগ্ন ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি কবিকে তার সৃষ্টির উল্লাসে জাগিয়ে তুলে। রাশিদা আকতার তার কাব্যে ও গীতি রচনায় এমন ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছেন।
২১ অক্টোবর শনিবার নিউইয়র্কের কুইন্স সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে রশিদা আকতারের তিনটি গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা করেছেন বিশিষ্টজন। আলাপে আবৃত্তিতে সাজানো ছিল এ অনুষ্ঠান। গীতিকবি রাশিদা আকতারের প্রকাশিত তিনটি গ্রন্থ হচ্ছে 'অতল সুরের সন্ধানে', 'হৃদয় ছুঁয়ে' এবং 'অগ্নি শপথ'। প্রকাশনা ও গ্রন্থালাপের আয়োজন করেছে কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি এবং নিউইয়র্ক প্রথম আলো ফাউন্ডেশন।
আলোচনার শুরুতেই সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন কুইন্স লাইব্রেরির প্রোগ্রাম ম্যানেজার জন রিনে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন লাইব্রেরির কোর্ডিনেটর সেলিনা শারমিন। জন রিনে তার বক্তৃতায় বাংলা ভাষার লেখক রশিদা আকতারকে নিয়ে অনুষ্ঠান করতে পারাকে নিজেদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন। কুইন্সের ৬৫টি এলাকায় লাইব্রেরি রয়েছে এবং এসব লাইব্রেরি সব সময় স্থানীয় লেখকদের সম্মান ও উৎসাহ দিয়ে আসছে বলে তিনি জানান।
.jpg)
সেলিনা শারমিন তার বক্তৃতায় বলেন কুইন্সের প্রতি দুই মাইলের ব্যবধানে একটি করে লাইব্রেরি রয়েছে। কুইন্স লাইব্রেরিতে বাংলা ভাষীদের জন্য বঙ্গবন্ধু কর্নার প্রতিষ্ঠা করার কথা জানান এবং রশিদা আকতারের গ্রন্থ নিয়ে অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবি রশিদা আকতারের ছেলে হৃদয় অনির্বাণ খন্দকার বক্তৃতা করেন। অসুস্থতার জন্য তার মায়ের স্ব-শরীরে অনুপস্থিতির কথা জানান। বেশ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে রশিদা আকতার আমেরিকার বাইরে অবস্থান করলেও তার রেকর্ড করা বক্তৃতা শুনানো হয়। বক্তৃতায় রশিদা আকতার তার লেখক হয়ে উঠা এবং গ্রন্থ প্রকাশ নিয়ে নিজের জীবন সঙ্গী, ছেলে সহ নানাজনের সাহায্য সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে তুলে ধরেন। খন্দকার তার বক্তৃতায় উপস্থিতির জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং তাঁর মায়ের প্রতি সবার ভালোবাসায় নিজের আপ্লুত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী তার বক্তৃতায় রশিদা আকতারের গ্রন্থ প্রকাশনা ও এ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করাকে নিজেদের দায় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি সময়ের দ্রোহ, ক্ষোভ, হতাশা ও প্রত্যাশার কথা উঠেছে রশিদা আকতারের বিভিন্ন কবিতায়।
গ্রন্থ তিনটি নিয়ে মূল আলোচনা করেন সাপ্তাহিক ঠিকানা সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, রশিদা আকতার কবিতা লিখার জন্যই কবিতা লিখেছেন, এমন নয়। গ্রন্থ তিনটি পাঠ করে তার বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে মানুষ ও দেশের প্রতি রশিদা আকতার নিজের প্রতিশ্রুতি থেকেই কাব্য রচনা করেছেন। নিগূঢ় ভাবনা ও এ নিয়ে উপাসনার প্রয়াস রয়েছে রশিদা আকতারের কাব্য তিনটি মধ্যে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
.jpg)
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাগর লোহানী তার আলোচনায় বলেছেন, রশিদা আকতার তার কাব্যে মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা বলেছেন। বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের কথা।
অধ্যাপিকা হুসনে আরা তার আলোচনায় কবি রশিদা আকতারের আশু রোগমুক্তি কামনা করেন।
আলোচনা করতে গিয়ে সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ জাকির হোসেন রনি বলেছেন, সমাজ সংস্কৃতিতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সাময়িক সময়ের জন্য হলেও আমাদের হতাশার মধ্যে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, কবি রশিদা আকতার তার কাব্যে আদর্শবাদের কথা, মূল্যবোধের কথা উচ্চারণ করেছেন দৃঢ়তার সাথে। সাংবাদিক আবু তাহের বলেছেন, কবি রশিদা আকতারের গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করাসহ কুইন্স লাইব্রেরি নানা ধরনের কাজ করেছে।
কবি রাশিদা আকতারের কাব্য থেকে পাঠ ও আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছেন ক্লারা রোজারিও, শুক্লা রায়, তাহরিনা পারভিন প্রীতি, রওশন হক, জলি রহমান প্রমুখ।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন