https://www.prothomalony.com/

6945

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত্য

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৩ ০৫:৫৬

বিষাক্ত চর 
অঞ্জন‌ ব্যানার্জ্জি

 

বিধ্বংসী সুনামি আসতেই সমুদ্রের বুকে জাগে 
এক বিষাক্ত চর
জ্যোৎস্না দীপ্তি হারায় চরের গহ্বরে, আর তস্কর খুঁজে 
পায় ঈপ্সিত স্থান
লুণ্ঠিত ধন জমে থাকে চরের ঠিকানায়।

চর ঘিরে লবনাক্ত জল, কুমির উল্লাসে লেজ ঝাপটায়
অতন্দ্র পাহারায় মানুষখেকো গাছ 
ঢেউয়ে ঢেউয়ে খবর পৌঁছায়, বিপণ্ণ ঢেউ ভাঙ্গে 
নৌকার হালে
বাঁচবার ডাক দেয় বরিষ্ঠ মাঝি, হালে হালে শুরু 
আলাপ চুপিচুপি
নক্ষত্র পুরুষ দেখায় অভীষ্ট দিক, একসাথে দাঁড় টানে 
একপাল তরী।

বিপদের ঘন্টা বাজে তস্কর শিবিরে, কুমিরের দল ক্ষেপে 
কুটিল কৌশলে
সংঘাতের আভাস ঢেউয়ের গর্জনে, তরীর গতি বাড়ে 
বৈঠার টানে।

 

 

 

পাশবিক
জাফর ওবায়েদ

 

নির্দলীয় বাদামগুলো পড়ে আছে পার্কের বেঞ্চিতে
কিঞ্চিত আগেই ওখানে দুটো নিরপেক্ষ পাখি বসেছিল 
চোখে চোখে ওদের বাক্য বিনিময় হচ্ছিল

সহসা একটা দলীয় ঈগল অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তোলে
ছুঁ মেরে কচি মেয়ে পাখিটিকে ঠোঁটে তুলে নিল

ছেলে পাখিটি রোদের এসিড পোড়া মুখে দিগভ্রান্ত
ছুটোছুটি করতে করতে শেষমেষ দৃশ্যান্তর
পরদিন ঝোপের আড়ালে পড়ে ছিল মেয়ে পাখিটার
খাবলে খাওয়া দেহ। 

 

 

 

ফানা
সাকিব জামাল



একটি ফুলের প্রেমে পড়েছিলো এক ভ্রমর। 
পাগলপ্রায় ভ্রমর উড়ে উড়ে যায়
ফুলের কাছে প্রেম নিবেদনে।

বন্ধুমহল কয়, 
"আরে বোকা, ও ফুল নয়, আগুন! 
বাহ্যিক মাটির দেহ!"
প্রেমিক ভ্রমর কানে নেয় না।
উল্টো ফুলের কানে গানে গানে বলে,
"আগুনপ্রেমে কতো পতঙ্গ পুড়ে হয় ছাই,
তেমনটি হলেও আমি তোমাকেই চাই!"

অতঃপর, ট্রয় নগরী ধ্বংস। 
ভ্রমরও অস্তিত্ববিহীন!

 

 

 

আলোর খোঁজে
এম. এ. শিকদার

 

তিমির রাত নির্ঘূমে কেটে গেল
ডাকিল দোয়েল, ময়না টিয়ে
ডাকিল ফিঙ্গে
ডাকিল মোরগ, ডাকিল পক্ষীকুল। 
ডাকিল শিয়াল হুক্কা হুয়া স্বরে,
দূর মিনার থেকে ভেসে আসিল মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে 
আজানের ধ্বনি
তবুও তুমি জাগলে না।

হে স্বপ্নবিলাসী পথিক, 
তুমি ঘুমাও, আরো ঘুমাও 
তোমার জাগতে হবে না।
নির্ঘুম প্রহরীর বচন তোমার কানে পৌঁছবে না, পৌঁছবে না।
তুমি ঘুমাও স্বপ্নের বিলাসভূমে,
জাগ্রত হয়ে দেখবে বিরানভূমি, শুধু বিরানভূমি।

 

 

 

বিবর্তনমুখী রাষ্ট্র
দ্বীপ সরকার

 

কুকুরগুলো ইদানিং সরছেনা-
নাকের ডগায় হেসে ভাসিয়ে দিচ্ছে ঘেউ ঘেউ
উঠোনে কার যেন পা পড়েছে আজ
পীতরঙা মেঘের ভেতর কে হেঁটে বেড়ায়
কোমলমতি রোদের মাহফিলে কে এসেছে?

কে কণ্ঠ মিলিয়ে কুকুরের সাথে রাষ্ট্রের গান গায়?
আমাদের এইখানে-এই রাষ্ট্রে
মজার এটা ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে
কুকুরগুলো গা ঘেঁষে বসে সামাজিক হতে চায়
আমারা সুযোগ দিচ্ছি কিংবা দিচ্ছি না
অথচ কুকুরের মুখে লালার বদলে বির্বতনের জল 
গড়িয়ে পড়ছে
খুব চিকচিকে এবং ফিকফিকে। 

 

 

মেঘনার মেয়ে
গোলাম রববানী 

 

আমার ভেতর অগণিত চরপড়া ইস জ্যান্তনদী-
পড়ে থাকা অনাবাদি খরায়িত শুষ্কভূমি:
অই দিগন্ত চেয়ে থাকা তুমি নির্মল সতেজ প্রকৃতি, 
উপচে পড়া নবযৌবন ঢেউয়ে ঢাকে রত্নমণি 

তার শাসনে নিশ্চিত আমি শাসিত যে হব-ই হব
যদি দেয় দিক মেনিফেস্টো আলগাপ্রেম প্রেমক্রেসি
প্রেমবয়সী হোকবা নাহোক বয়সীপ্রেম অপ্রেম জাগো
দুটি ফ্রেমের সীমা ভেঙ্গে আন্তসীমা হওনা সখী

তুমিতো নও দুধে শিশু মায়াবতী ফুলকুমারী 
পটল ফুলের মতো এসো ছোঁয়াছুঁয়ি করি সকাল
তারপর একদিন ডুবজলে ডুব দিয়ে হই সূর্যমুখী 
তবে এসো ধীরে ধীরে নামকরণে হে অবয়ব 

ধরে রেখো ওগো প্রিয়, রেখো ধরে পরাণপ্রবাহ
সময়তো নেই দেখ পেছন ফিরে তাকানোর 
মন বাঁচাতে এগোয় এসো, মনমধ্যে বসত করো 
মরার আগে মরার মতো একবার হলে মরতে দিও। 

 

 

 

অন্তিম ফাগুনের অপেক্ষা 
দীপান্বিতা চৌধুরী 

 

তোমার জন্য একটা আকাশ কেনা আছে আমার 
অন্য আকাশে উড়তে গিয়ে যখন ক্লান্ত হবে
তখন না হয় আমার আকাশে এসো।
বিশ্বাস, নিশ্চয়তা-বিছিয়ে রেখেছি, তুমি এসো।

যেভাবে রাত গভীর হলে শিশির নামে,
যেভাবে কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ ঘরে ফিরে
যেমন করে উদ্দাম কিশোরী গায়ে জড়ায় শাড়ির আঁচল
কিংবা অন্তিম সূর্য করে সাগরে অবগাহন 
যেভাবে সন্ধ্যা নামে বনের হাত ধরে 
তুলসী তলার ঘিয়ের প্রদীপটা নিভে যায় সন্তপর্ণে; 
তুমি না হয় সেভাবেই এসো।

সুখের অসুখে দগ্ধ হলেই না হয় তুমি এসো 
সুখ নয়, দুঃখ নয়, অশান্তি বা অপ্রাপ্তি নয়,
এক মুঠো মুগ্ধতা আর বসন্তের অন্তিম ফাগুন 
তুলে রেখেছি তোমার জন্য। 

 

 

 

গান কিছু তো ছিল
মান্নান নূর 


এই চিল! এত এত নীল
বুকে বুকে ভরে ওড়ো
দোলা প্রাণে সুখে ঘুরো!
কিভাবে?

এই আমি তো করেছি পান
আকণ্ঠ ভরেছি নীলে
নীল সায়রে তাই মরছি তিলে তিলে
এভাবে-

এই গান এত এত সুর
কোথা থেকে তুমি পাও?
অথচ গানশূন্য আমার সবুজ এ-গাঁও।

গান কিছু তো ছিল, ছিল প্রাণ হরা সুর,
নিয়ে গেছে তাও ভরে
ভরা জোয়ারে ভেসে
জাসরিয়ার পাল তোলা নাও। 

 

 

 

রূপালি নূপুর
মোঃ আব্দুর রহমান
 

 

আর মাত্র পঁচিশ মিনিট! ইশ! সময়টা যে কেন আঁটকে আছে-চিৎকার করে বলতে থাকে জনি। তবে কারো কোন সাড়া পেল না। তাই দৌড়ে গেল মায়ের ঘরে। কিন্তু, মা তখন মাগরিবের নামাজে দাঁড়িয়েছে। পাশের ঘর থেকে আওয়াজ এলো, "কী হয়েছেরে দাদু ভাই? চিৎকার করছিস কেন?"

"দাদি, চিৎকার করব না মানে! আর পঁচিশ মিনিট পরেই ঢাকা থেকে গাড়িতে উঠছে বড় আপু। খুব সকালেই পৌঁছে যাবে বাড়িতে। আপু আমার জন্য নিয়ে আসছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা উপলক্ষে বাংলাদেশের দলের একটি সুন্দর জার্সি। আমি সেটা পরে খেলব, ঘুরব- কী মজা! কী মজা!"

"সে তো অনেক আনন্দের কথারে দাদু ভাই। আহারে, কতদিন মেয়েটাকে দেখি না। সেই ছোটবেলা থেকেই কেবল পড়া পড়া করেই মেয়েটা জীবন কাটিয়ে দিল। বাবা মরা মেয়ে, নিজের খরচ চালাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, তারউপর সংসার টানা, আবার আমার ওষুধের টাকাটাও টিউশনি করে চালিয়ে নিচ্ছে। যাইহোক ডাক্তারিটা যে অবশেষে পাশ করল। আজ যদি তোদের বাবা বেঁচে থাকত"-বলেই হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন। 

একটা শিশু যেমন করে কাঁদে, ঠিক সেভাবেই কাঁদতে লাগলেন তিনি। কান্না কি হাসি-বৃদ্ধ আর শিশুদের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। পাশ থেকে জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে জনির মা বললেন, 

"থাক মা, কাঁদবেন না। সবইতো আমাদের কপাল। তবুও আশার কথা হলো সুমার ডাক্তার হবার ইচ্ছেটা অন্তত পূরণ হলো। আপনাকে একটা কথা বলা হয়নি মা। মুরাদের বাবা সেদিন মুরাদের সাথে সুমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল।" 

"কোন মুরাদের কথা বলছ গো বৌ মা? ঐ যে বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়েছে সেই ছেলেটা?"

"জি মা। ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ। খুব ভালো ছেলে মা।

"বাহ! সুন্দর মানাবে ওদের দুজনকে-ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার!" 

বড় বোনের বিয়ের কথা শুনে খুশিতে লাফাতে লাফাতে তেরো বছরের জনি বলল,

"খুব ভালো হবে! আমার কিন্তু আপুর জন্য উপহার বানানোই আছে।"

"কী উপহার? টাকা পেলি কোথায়?" দাদি বললেন। 

"দাঁড়াও দেখাচ্ছি।" বলেই একটি সুন্দর নূপুর বের করল জনি ড্রয়ার থেকে। রূপালি চকচকে সিম্পল একটা নূপুর। "জানো দাদি। এই নূপুরটা আমি পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পাওয়া টাকা দিয়ে আপুর জন্য বানিয়েছি। কিন্তু, আপু বলল একটি নূপুর আমার কাছে থাক। আর একটি নূপুর তোর কাছে থাক। যখন আমার কথা বড্ড বেশি মনে পড়বে তখন এই নূপুরটা দেখবি। আর আমিও আমার সোনা ভাইটার কথা মনে পড়লে এই নূপুরটা দেখব।" বলেই নূপুরটায় চুমু খেল জনি। 

"দাদি। এবার এই নূপুরটা বিয়েতে আমি আপুর পায়ে নিজের হাতে পড়িয়ে দিব।" 

ভাই-বোনের ভালোবাসা দেখে আরও একবার খুশিতে কেঁদে ফেললেন দাদি। পাশে কাপড়ের আঁচলে নিজের চোখটাও মুছতে লাগলেন জনির মা। 

রোজকার মতো আজ সকালেও কোকিল ডাকল। সেই কোকিল ডাকা ভোরেই ঘুম থেকে জনিকে ডাকলেন ওর মা। বললেন, "বাবা তোর আপু আসার সময় হয়েছে, একটু এগিয়ে যা।" 

জনি তড়িগড়ি চলে গেল সোজা বড় রাস্তাটার পাশে। ঢাকা থেকে আসা বাসটা সচরাচর যেখানে থামে সেখানে এসেই দাঁড়ালো জনি। কিন্তু দেখল, সবাই পথের ওপাশে ছুটাছুটি করছে। সে কী কাণ্ড! জনিও ছুটল সেদিকে। গিয়ে দেখল একটি গাড়ি খালে পড়ে আছে। জনির বুক ধরফর করতে লাগল। দেখল, বেশকিছু মানুষকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। কিন্ত সেখানে ওর আপু নেই। তাই মনটা একটু  স্থির হলো জনির। 

কিন্তু হঠাৎ চোখে পড়ল অন্য একটি গাড়িকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেউ একজন বলল, ওই গাড়িতে লাশ আছে! সেগুলি পোস্ট মর্টেমের জন্য নেওয়া হচ্ছে। গাড়িটা ধীর গতিতে সামনের দিকে যাচ্ছে। গাড়ি থেকে চুইয়ে পড়া রক্তের দিকে তাকাল জনি। চোখে পড়ল একটি রূপালি নূপুর। এট তো সেই নূপুর যেটা সে তার আপুকে দিয়েছিল। হাতে তুলে নিতে একটুও দেরি করল না জনি। দ্রুত গাড়িটার দিকে তাকাল জনি। চিৎকার করে ডাকতে লাগল,  আপু! আপু! কিন্তু আপু তার কথা শুনল না! 

জনি চিৎকার করে আবারো ডাকছে-আপু! আপু! গাড়িটা ততক্ষণে  চলে গেছে। জনি দাঁড়িয়ে আছে বড় রাস্তায়, রূপালি নূপুর হাতে। 

 

 

 

বন্ধুর ত্যাগ
কবির কাঞ্চন 

পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে এদিক-ওদিক তাকাতে লাগলো অনিক। হঠাৎ দূর থেকে মা'কে দেখতে পেয়ে, মা মা বলে চিৎকার করতে করতে মাঠের দিকে ছুটে আসে অনিক। মাঠের ওপারের অভিভাবক ছাউনির নিচে অনিকের মা ছেলের প্রতীক্ষায় আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছেন। অনিককে বুকে জড়িয়ে আদর করে জিজ্ঞেস করলেন, 

-পরীক্ষা কেমন হয়েছে, বাবা?

-খুব ভালো হয়েছে, মা। কিন্তু..।

-কিন্তু কী? সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দাওনি?

এই বলে অনিকের হাত থেকে প্রশ্নটা নিয়ে চোখ বোলাতে বোলাতে বললেন, 

-সবগুলো প্রশ্নই তো কমন ছিল। সকালেও করিয়েছি। সমস্যা কী? সময় শেষ হয়ে গিয়েছিল?

-না, মা। তা না। 

-তাহলে লিখলে না কেন?

এরই মধ্যে শুভ, অনিকের পাশে এসে দাঁড়ালো। অনিক একবার শুভ'র দিকে আরেকবার শুভ'র মায়ের দিকে তাকাল, তারপর চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। ততক্ষণে স্কুলের আঙ্গিনা ছেড়ে সবাই যে যার গন্তব্যে ছুটছে। শুভ'র মা'কে বিদায় জানিয়ে রিক্সায় ওঠল অনিক ও তার মা। রিক্সা বাসার উদ্দেশ্যে ছুটছে। অনিকের মা আবার জিজ্ঞেস করলেন, 

-সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দাওনি কেন তা তো বললে না।

এবার ইতস্তত করতে করতে অনিক বলল, 

-শুরুতে আমি সবগুলোর উত্তর দিয়েছিলাম। কিন্তু শুভ'র কথা ভেবে পুরো খাতা সাদা করে দিয়েছি।

-সাদা করে দিয়েছো মানে? 

-রাবার দিয়ে ভালো করে মুছে দিয়েছি। 

-কেন মুছে দিয়েছো?

এই বলে রাগে-ক্ষোভে অনিকের গালে পরপর কয়েকটা চড় বসিয়ে দিলেন তিনি। অনিক ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে কাঁদতে বলল, আমার কী দোষ! সবই তো শুভ'র জন্য করেছি।

-এখানে শুভকে আবার টেনে আনছো কেন?

-ওর জন্যই তো আমি সব মুছে দিয়েছি।  

-ও কী তোমাকে সব মুছে দিতে বলেছে?

-না, ও আমায় কিচ্ছু বলেনি।

-তাহলে? 

-সকালে পরীক্ষার হলে যাবার সময় শুভ'র আম্মু আমার সামনে ওকে রাগ করে বলেছিলেন, ও যদি এই পরীক্ষায় ফার্স্ট হতে না পারে, তাহলে ওকে মেরে ফেলবেন। তুমি তো জানোই ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। ক্লাসে কখনো আমি ফার্স্ট হই। আবার কখনো শুভ ফার্স্ট হয়। আমাদের দু'জনের নম্বরের ব্যবধানও খুব বেশি হয় না। তাই ওকে মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই আমি আমার খাতার সবগুলো উত্তর মুছে দিয়েছি। 

আমি কি ভুল করেছি মা? 

ছেলের এমন কথায় অনিকের মা নির্বাক চোখে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন