https://www.prothomalony.com/

6872

literature

সাহিত্য

কবিতার এক পাতার ৫ম বর্ষপূর্তি

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ ১১:২৭

আমাদের আত্মপরিচয়ে অহংকারের দীপ্তি পরিয়েছে ‘কবিতার এক পাতা’। ৫ম বর্ষ পূর্তি ও ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণের আনন্দঘন দিনে কবি ও কবিতাপ্রিয় মানুষগুলি যাঁরা আমাদের জয়যাত্রায় সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন, তাঁদেরকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। সম্পাদক— কবি ও লেখক ফারুক ফয়সলকে অভিবাদন ও অভিনন্দন। বাংলা কবিতার এই বিশ্বমানের আয়োজনকে আমরা আগামীর দিকে, সেরার সেরা হওয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব, এই প্রত্যয় আমাদের! ঢাকায় আমাদের সঙ্গে যাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত আছেন, তাঁরা সহ আপনাদের সকলকে আমাদের বুক ভরা ভালোবাসা।

ইব্রাহীম চৌধুরী
সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা


কবিতার অমৃতলোকে ‘কবিতার এক পাতা’
শামীম আজাদ

বিশ্ব বাংলায় বাংলা কবিতার অনুরাগী এবং অগ্রসর পাঠকের কাছে নিয়মিত চর্চার প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং সারাবিশ্বের বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে তা পৌঁছে দিতে 'প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা' যে কাজ করে চলেছে তা অনন্য। আমার ধারণা, 'কবিতার এক পাতা’র সম্পাদক ফারুক ফয়সল যেভাবে পরম নিষ্ঠায় তা পালন করে যাচ্ছেন তা একদিন অবশ্যই ইতিহাসের পাতায় নিজ কর্মগুণেই ঠাঁই করে নেবে।প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার এ পাতায় এ যাবত যাঁরা তাঁদের উত্তম কবিতাটি দিয়েছেন সে কবিগন ও সম্পাদককে অভিনন্দন জানাই।


আনন্দবার্তা
বিমল গুহ

‘কবিতার এক পাতা’র পঞ্চমবর্ষপূর্তি হতে চলেছে। বিষয়টা উদ্যোক্তাদের জন্য আনন্দের, পাঠকদের জন্যেও। বিশেষ করে আমরা যারা সাহিত্যকর্মী তাদের জন্য তো বটেই। এজন্য যে, ‘কবিতার এক পাতা’র বেশ কয়েকটি সংখ্যা পড়ার সুযোগ আমার হয়েছে এবং কয়েকটি সংখ্যায় আমার কবিতাও প্রকাশিত হয়েছে।এতে যে কবিতাগুলো ছাপা হয়, তা সুসম্পাদিত।

কবিতা মানসম্পন্ন হলেই কেবল মনোনীত হয় বলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।তার একটা কারণ হতে পারে, ‘কবিতার এক পাতা’র সম্পাদক নিজেও একজন বিশিষ্ট কবি— ফারুক ফয়সল। ফারুক ফয়সল দীর্ঘদিন সাহিত্য চর্চ্চার সাথে যুক্ত আছেন। সুধীমহলে
তাঁর আস্থার একটি স্থান তিনি আগে থেকেই করে নিয়েছেন;বাংলাদেশে থাকতেই।

আমরা জানি, কবিতা সম্পাদনার ক্ষেত্রে কবিতা নির্বাচনই একমাত্র বিষয় নয়। পাঠক লক্ষ করে থাকবেন কবিতার যে পাতা বিভিন্ন ভালো কাগজে প্রকাশিত হয়, তার উপস্থাপন কৌশল আলাদা। তাকে হতে হয় দৃষ্টিনন্দন, মনোগ্রাহী। সেটা সাহিত্যের অন্য লেখার বেলায়ও প্রযোজ্য বটে, কিন্তু কবিতার বেলায় অনিবার্য শর্ত। ফারুক ফয়সল সম্পাদিত ‘কবিতার এক পাতা’ সে-অর্থে আকর্ষণীয় ও শোভন উপস্থাপনা, যা এসব শর্ত মেনে পাঠকের মনোগ্রাহ হয়ে ওঠে। আমার আনন্দ যে, ‘কবিতার এক পাতা’র পঞ্চবর্ষপূর্তির এই মুহূর্তে দু’কথা বলে আমার অভিব্যক্তি এবং আনন্দ প্রকাশ করতে পারলাম।


‘কবিতার এক পাতা' অগণ্য পাতা ছড়িয়ে যাক
ঝর্না রহমান

আমেরিকা প্রবাসী কবি ও প্রাবন্ধিক ফারুক ফয়সল সম্পাদিত 'কবিতার এক পাতা' নামে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নিয়মিত মাসিক আয়োজন ৫ম বর্ষ পূর্ণ করে ৬ষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ করল! এই ঘটনাটি বিরল না হলেও সম্পাদকের নিষ্ঠা আর কাব্যচর্চার প্রতি অবিরল ভালোবাসার জন্য সুন্দরতম অভিনন্দন যোগ্য তো বটেই! নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত হলেও এই এক-পাতা কবিতায় শুধু নিউইয়র্কের বাংলাভাষার কবিই নয়, বরং বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের বাঙালি কবির কবিতাই এখানে ঠাঁই পায়।

সম্পাদক ফারুক ফয়সল নিজেও একজন কবি বলে কবিতা নির্বাচনের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস। ভিন্ন স্বর, ভিন্ন মাত্রা, ভিন্ন শৈলী, নতুনতর ব্যঞ্জনা এবং নন্দনতত্ত্বের সন্ধানে তিনি অক্লান্ত।

কবিতা প্রেমের শক্তি, ভালোবাসার অবলম্বন কিংবা দ্রোহ-প্রতিবাদ-প্রতিরোধ-বিপ্লবের হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু কবিতা দিয়ে যে পেটের ভাত জোটে না এ কথা কে না জানে! বরং কবিতা নিয়ে পড়ে থাকলে পেটের ভাত হজম হয়, মাথার ঘাম পায়ে পড়ে। আর কবিতা পত্রপত্রিকার সম্পাদকের তো রাতের ঘুম, দিনের আরাম সবই হারাম হয়! কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন যারা বনের মোষ তাড়াতে ভালোবাসেন, কবি ফারুক ফয়সলকে এই গোত্রের মানুষ বলা চলে। তবে তা শুধুই প্রবাদের রূপকার্থে। প্রকৃতপক্ষে তিনি মোষের রাখাল নন, তিনি সরস্বতীর বরপুত্র কিংবা নন্দনতত্ত্বের নন্দন। কারণ তাঁর সম্পাদিত কবিতার পাতাটি যারা নিয়মিত পড়েন, অনুসরণ করেন, তাঁরা জানেন সেখানে কী ধরনের কবিতা প্রকাশিত হয়। ফারুক সেই সোনার তরীর মাঝির মত, কবিকে নয়, তার কাজকে যাচাই করেন! প্রকৃত কাব্যচাষীর সোনালি সুন্দর পুরুষ্টু কবিতা-শস্যকেই তার তরণীতে ঠাঁই দেন। আমি দেখেছি, কবিতার এক পাতা-র প্রতি সংখ্যায় সর্বোচ্চ দশটি কবিতা থাকে, প্রতিটি কবিতা সুনির্বাচিত। প্রবীণ বিখ্যাত কবির চেয়ে ফারুক বেশি গণ্য করেন নবীন, নিভৃতচারী, একনিষ্ঠ কবিকে। এসমস্ত কবির কণ্ঠস্বর ভিন্ন, নির্মাণশৈলী আকর্ষণীয়, বক্তব্য-বিষয় ভাবনা উদ্রেককারী। সময়ের সাথে কীভাবে কবিতা নিজেকে নতুন ব্যঞ্জনায় উদ্ভাসিত করতে পারে, কীভাবে নতুন বার্তা দিতে পারে, এই সুলুক সন্ধান যারা জানেন, ফারুক তাঁদেরকে খুঁজে নেন।

ফারুক ফয়সলের বিনয়ও অসামান্য, নান্দনিক। আজকাল কপি পেস্ট ফরোয়ার্ডের যুগ হওয়াতে তথাকথিত সম্পাদকগণ একটি লেখা-আহ্বান বা বিজ্ঞপ্তিকে গণহারে কপিপেস্ট অথবা ফরোয়ার্ড করতে থাকেন। এতে না থাকে সৌজন্য, না থাকে গুরুত্ব। সম্পাদক হিসেবে ফারুক ফয়সল এক্ষেত্রে একেবারেই আলাদা। তিনি লেখকদের কাছে যে ভাষায় ও মনোভঙ্গিতে লেখা প্রত্যাশা করে চিঠি লেখেন, তা শুধু সৌজন্য ও বিনয়মণ্ডিতই নয়, অত্যন্ত নান্দনিকও। বিদেশের মাটিতে বসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা যাঁরা করছেন সম্পাদক ফারুক ফয়সলও সেই কাতারে একজন অক্লান্ত কর্মী। ৬ষ্ঠ বৎসরে পদার্পণ মুহূর্তে এই পাতার সংখ্যা হয়েছে কমপক্ষে ৬০টি। কবিতার সংখ্যাও নিশ্চয়ই ৪৮০ হয়ে গেছে। এই কবিতাগুলো নিয়ে সম্পাদক একটি সমন্বিত সংকলন প্রকাশের কথাও ভাবতে পারেন। সে যাই হোক, ৫ম বর্ষ পূর্তি ও ৬ ষষ্ঠ বর্ষে পদার্পণ লগ্নে কবিতাপত্রটির সম্পাদক সহ ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’ সম্পাদক এবং সকল কবি ও সংশ্লিষ্ট কলাকুশলী সবাইকে অভিনন্দন জানাই। ‘কবিতার একপাতা’র জয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক। জয় হোক কবিতার।


অনুরণনের অংশী
আহমাদ মাযহার

বাংলাভাষার সাহিত্যের কেন্দ্র বাংলাদেশে বা পশ্চিমবঙ্গে অর্থাৎ বাংলাভাষী অঞ্চলে থাকবে–এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে এর সম্প্রসারণ ঘটতে শুরু করেছে। বাংলা অঞ্চলের বাইরে থেকেও কেন্দ্রের দিকে অভিমুখ রেখে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বাংলা ভাষার সাহিত্যের আরেকটি ধারার জেগে ওঠার।

ভাবপ্রবণ জাতি বলে যেখানেই বাঙালি জনসমাজ গড়ে ওঠে, সেখানেই উচ্ছ্রিত হয় কবিতা! কিন্তু ভাবোচ্ছ্বাসে সাধারণত তা কবিতা কেবল নামেই, তাতে নেই উৎকর্ষ অর্জনের আকাঙ্ক্ষা–কবিনাম জারি হবার আনন্দেই এর রচয়িতার তুষ্টি! কিন্তু প্রথম আলো উত্তর-আমেরিকার 'কবিতার একপাতা' এতেই তৃপ্ত নয়! তার চাওয়া এর চেয়ে বেশি। কয়েক দশক ধরে কবিতা রচয়িতার চৈতন্যে পরিপ্রেক্ষিতের যে বদল, ভৌগোলিকতার যে ব্যাপ্তি, সংস্কৃতির যে অন্তর্ভুক্তি চলছে তারই চিহ্নবাহী হতে চায় 'কবিতার একপাতা'। বাংলার বাইরের সাংস্কৃতিকতার পরিপ্রেক্ষিত এখানে যেমন স্পষ্ট হয়ে উঠতে চায় তেমনি চায় উৎসসাংস্কৃতিকতাকেও হৃৎবশেই রেখে দিতে! বহু বছরের দেশোৎকেন্দ্রী এর কাণ্ডারী ফারুক ফয়সলের হৃদয়-অলিন্দ দুই বর্ণতরঙ্গেই স্পন্দ্যমান-আন্তরিক। অগের বছরগুলোর মতো 'কবিতার একপাতার' পঞ্চমবর্ষ পূর্তির লগ্নেও ধ্বনিত হচ্ছে তারই অনুরণন। আমিও অংশী এই অনুরণনের!


কবিতার এক পাতাঃ এ ন্যারেটিভ অব স্যাক্রিফাইস
খলিল মজিদ

কবি মহাসময়ের ক্ষণে, পৃথিবীর কোন একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময় ও পরিবেশেই তার শরীর ও মনের বিকাশ ঘটে।সেই সময়ের বা সেই সমাজ-বাস্তবতার বৈশিষ্ট্যেই গড়ে ওঠে তাঁর চৈতন্যলোক। তাই বলা চলে যে-কোন কবির সৃষ্টিসম্ভার প্রকারান্তরে তার স্থান কালের ভাষ্য। তবে কারো-কারোর মেধা ও মননের গুণে এই যুগভাষ্য শিল্প সুষমায় কালোত্তীর্ণ ও সার্বজনীন হয়ে ওঠে। মনুষ্যপ্রজাতি নিরন্তর পরিপ্রাজক। বহুমাত্রার ভ্রমণ তার। ইতিহাসের গভীরে তাঁর সংস্কৃতি ও জ্ঞাণের ভ্রমণ, অবচেতনের গগনে তার সত্তা-অন্বেষণের আধ্যাত্মিক ও ইন্দ্রিয় ভ্রমণ । আর বাস্তব পৃথিবীর নানান ভূগোলে তার সশরীর গমন-অভিসার। এই বাস্তব শরীর যাত্রায় মানুষ তাঁর জন্মস্থান ও অভিবাসিক স্থানের দ্বৈরথের দোলাচলে কম্পমান। আর এরই সাথে চলমান থাকে নিজেকে খনন করে উপলব্ধির অন্যতর আরেক যাত্রা। কত জন্মের ভুলে-যাওয়ার স্মৃতি-বিস্মৃতির অক্ষরে রচিত হয় তার আন্তরিক আলেখ্য। নানান স্তরের এ যাত্রাপথের সঞ্চয়ই কবি বা শিল্পীর সৃজনকৃতির উৎস। তাই কবির বর্তমান অবস্থিতি কোন স্থির গন্তব্য বা নিবাস নয়; তার স্থান-কাল-পাত্র বহুমাত্রার, তার ভাষাও বহুস্মরিক। শিল্প-সংগীত-কবিতা এক অনির্দেশ্য সৌন্দর্যের পানে ধাবমান, তাই কবিতাক্রান্ত মানুষগুলো অকারণ আনন্দের খোঁজে নিরন্তর মনোভ্রমণের বিহ্বল পথিক। তার ভাষা বিশ্ববোধের, তার দেশ সর্বমহাদেশ। কবির কথায়, ‘যতদূর বাংলাভাষা ততদূর এই বাংলাদেশ’।

বাংলা এখন চতুর্বাংলা। বাংলাদেশ, পশ্চিম বাংলা, ও উত্তর-পূর্ব বাংলার (আসাম, শিলচর-ত্রিপুরা) সীমানা ছাড়িয়ে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের অভিবাসী বাঙালিদের সমবায়ে গড়ে উঠেছে চতুর্থ বাংলা। বাংলা ভাষা ও কবিতার এই চতুর্ভূমির সুফলা এক উর্বর ক্ষেত্র হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার ‘কবিতার এক পাতা’ যার নির্মাতা কবি-প্রাবন্ধিক, বাংলাপ্রেমিক ফারুক ফয়সল।

বাংলা ভাষার সাম্প্রতিক কবিতার একটা প্রাণবন্ত সংকলন প্রতিমাসে আমাদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। ঢাকার, চট্টগ্রামের, সিডনির, সিলেটের, নিউইয়র্কের, বগুড়ার, বরিশালের, টরন্টোর, লণ্ডনের, মন্ট্রিয়লের, কোলকাতার— বিশ্ববাংলার এক তারা ঝলমল কবিতার উঠান যেন এ পাতাটি। প্রতি মাসে ‘এক পাতা’ কবিতার আয়োজনের মাধ্যমে ফারুক ফয়সল এই বিশ্ববাংলার কবিতাকে তাঁর জাদুকরী সম্পাদকীয় দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলছেন। কবিতার এই পাতাটি তাই একটি নতুন ধারণা এবং নয়া অধিযুগের সূচনার সাক্ষ্য বহন করছে। স্বদেশ আর বিদেশ মিলে একাকার এক যাপনপ্রদেশের চিত্র ও স্বপ্ন আমরা এখানে পাই। বর্তমান এখানে মিশে যায় অতীতে ও ভবিষ্যতে, দেশ মিশে যায় বিদেশে। এই আন্ত-মহাদেশীয় মানসের ডায়াসপোরা বাংলাদেশের কবিতার অনিবার্য সম্প্রসারণ । ‘কবিতার এক পাতা’ এভাবেই একটি কাব্য আন্দোলনের নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে।

কবিতার জন্য সমস্ত দুর্গমতাকে অতিক্রম করে দূরদেশে প্রবাসী জীবনের নিদারুণ টানাপড়েনের মধ্যে নিজের শ্রম-ঘাম-মেধার সমস্তটুকু ঢেলে দেয়া, এও কবিতারই মোহগ্রস্ততা, কবিতার জন্যই আত্মত্যাগ। তাই ‘কবিতার এক পাতা’র আয়োজন যেন এক ‘ন্যারেটিভ অব স্যাক্রিফাইস’। এ আয়োজনকে অভিবাদন না জানিয়ে পারা যায় না। আন্তরিক অভিবাদন জানাই সম্পাদক কবি ফারুক ফয়সলকে, আর ‘কবিতার এক পাতা’র জন্য উচ্ছ্বসিত অভিনন্দন।
 

এই সেদিন যেন তদানীন্তন আবাসিক সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী প্রস্তাব করলেন আমাকে। আহমাদ মাযহার উৎসাহ দিলেন তাঁকে। দায়িত্ব নিলাম মানসম্পন্ন একটি কবিতা-পত্র সম্পাদনার। আজ ‘কবিতার এক পাতা’ পঞ্চম বর্ষ পূর্তি সংখ্যা প্রকাশিত হলো। আমাদের এই আনন্দদিনে কবিতা-পাগল সাংবাদিক ও প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীকে আমার ও ‘কবিতার এক পাতা’র কবি ও পাঠকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা, উৎকৃষ্ট কবিতা চর্চার ও বিশ্বময় ছড়িয়ে দেবার একটি প্লাটফর্মের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি আমাদেরকে।

তিন পাতায় পাঁচজন বিশিষ্ট কবি ও লেখকের পাঁচটি গদ্য লেখা এবং যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যাণ্ড, ভারত ও বাংলাদেশের ১৬ জন কবির ১৬ টি বিষয়ের ভিন্নতায় নানা মাত্রিক ও ব্যঞ্জনার কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে ৫ম বর্ষ পূর্তির এই বিশেষ সংখ্যা। আপনাদের নিশ্চয়ই ভালো লাগবে, এ আত্মপ্রত্যয় ব্যক্ত করতেই পারি। আপনাদের সকলের জন্যে এক বুক ভালোবাসা।

ফারুক ফয়সল
 

 


কাঞ্চনবর্ণ নিদ্রাসমগ্র
শামীম আজাদ

এ ভেজা শরতের রাতে
আজ আমার নিদ্রাসমগ্র লিখবো
কম্প্যূটার আর কাফকার কাঞ্চনবর্ণ পাতায় পাতায়
আমার এ ব্যথিত বুকখানা বিছিয়ে দেবো।

ঐ শুরু হয়েছে হাওয়ার হুড়োহুড়ি,
আমাকে সে রাগমালা দিয়েই রঙন ছুঁড়তে হবে।
বাহুতে বেদনা, নিঃশ্বাসে নিন্দাজল ছড়িয়ে
পাতায় পাতায় পয়মন্তী হতে থাকলেও
নিদ্রাকুসুম কোথায় যে রাখি!

এই মাত্র সিথানে ঢুকে গেল এক কামেল কবুতর
জানালায় জিব্রাইলের যৌবন
ঘুমের জামা আর স্লিপার জায়নামাজে
এসবের জন্য আসলে ঐ হাওয়ার হুজ্জতিই দায়ী
এ বেহায়া বেতমিজ ব্যবহার জানেনা
এমন শরতের রাতে
বড় জোর বিহব্বলতা খোলা যায়
সেমিজ ও সাজ খুলে নেয় কেউ? আশ্চর্য!

পায়ে পায়ে প্রেম, বালিশে ব্রজবুলি
ওহে শরত, হে মোহন শরত
এভাবে বৃষ্টিতে ভিজে
কি করে কেউটে হয়ে কামড়াচ্ছ আমাকে
আর আমি ফালাফালা হয়ে ভাবছি এইতো সময়-
ও বোকা বৃষ্টি, ও বাঁকা জল
পায়ে পায়ে পন্নগের মত উঠে এসো
এতেই নিদ্রাসমগ্র হবে
এ ভেজা শরতের রাতে
আমাদের বুক প্রিন্ট হবে।


শিশুসুলভ
মাসুদ খান

কত কিছু উড়ে এসে পড়ে শিশুদের ফাঁকা মনে
আর উড়ে যায় পরক্ষণে!
নবীন মানব তাই চিরকালই অস্থির, চঞ্চল।
তাই কি তাদের বোল ফোটে অসংলগ্ন, দ্রুত, অনর্গল!

প্রশান্ত ঘুমের মধ্যে ঝলকানি দিয়ে ওঠে
নির্দন্ত মুখের হাসি, স্ফূরিত অধর.....।
এভাবেই ঘুমন্ত শিশুর অবয়বে
দুলে ওঠে দেয়ালা-ভাষার রীতিবিধি--
স্বচ্ছ, সাবলীল।

এতসব কি মায়েরা জানে?
--জানে। তবে সব তো জানে না
শিশুর ভাবনার সঙ্গে তাই প্রতিনিয়ত সংলাপ চলে মায়ের বোধের।

অস্থির, অসম সে-সংলাপকালে, মাঝে-মাঝে, নবীন শিশুর
আচমকা-ধারালো ভাবনার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে
বেমক্কা কয়েক পাক ঘুরে ওঠে মায়েদের, বাবাদের বোধ।


বোধন
মারুফুল ইসলাম

আকাশ থেকে নামি পাহাড়কোলে
ঘরোয়া মেঘ চোখে কাজল পরে
নদীর জল রোদ-ঝিকিয়ে দোলে
ভাটির দেশ ভাসে অক্টোবরে

এখান থেকে ওখান কত দূরে
কোনখানে যে এই দুটো পা রাখি
কোন ছন্দে বাজবে কথা সুরে
পরানমাঝে গা ঝাড়া দেয় পাখি

তোর বিহনে বুঝি না কোনো কথা
অবশ হয়ে থাকে চিন্তারাজি
বিশ্ব হেথা আজ্ঞাবহ যথা
জীবন নিয়ে মিছেই ধরি বাজি

অমল ছবি হিমালয়ের হাসি
ফড়িংছানা নাচে কোমল ঘাসে
হাওয়ার ঠোঁটে হারিয়ে-যাওয়া বাঁশি
তোর ভাবনা নিবিড় হয়ে আসে

দরজাখোলা ব্যাপ্ত এ-নিখিলে
তোকেই আঁকি আশ্বিন-প্রভাতে
মহাশূন্য মাথা নোয়ায় নীলে
আমার দিন ডুবেছে তোর রাতে


উকিয়ো-এ
কুমার চক্রবর্তী

ভাসমান জগতের ছবি, আমাকে গোপন-ডাক দিয়ে যায়
বলে, যেন আমি বিভ্রমের ছলে সকল রূপকে ছেনে
জন্ম দিতে পারি, অরূপের, যা পৃথিবীকে শেষবার
উপহার দেবে এক দেহাতীত খাজুরাহো-প্রাণ।

আমি চুপে থাকি।

জগতের সব মধুবন, সূর্যমাঠ, মিথুনভাস্কর্য আজ
স্থির জীবনের দিকে চুকিয়ে দিয়েছে সন্ধ্যার সমস্ত দান, রাতের সমস্ত খাজুরাহো,
আমি আজ রংতুলি নিয়ে চুপিচুপি ভাসমান জগতের দিকে চলে যাই ,আর
ছবি আঁকি অদৃশ্যের, অধরার, মমতা-মাখানো স্বরে ধরি অপূর্ণের তান।
হাওয়ায় ভেসে ভেসে শুনি, বের হয়ে আসা এক গহনের গান
পূর্ণ হতে এ জীবন, ভাসমান জগতের ছবি অবশেষে রেখে যায় শেষ আহ্বান!

জীবন তো এক লুব্ধ খাজুরাহো— কেবলি রহস্যে, কেবলি স্তব্ধতায়…
বলে, এইখানে আসো কোন অপার্থিব ছলে, গাও গান
কোনো এক বেদনায়, সুরের ধারায়


শিরোনামহীন
শিহাব শাহরিয়ার

১.
তুমি তো সুন্দরই
তুমি তো সুন্দরী

২.
তুমি তো আলোই
তুমি তো ভালোই

৩.
তুমি তো যন্ত্র না
তুমি তো যন্ত্রণা

যোজনাতীত
তুষার গায়েন

পাপড়ি মেলেছে কাঁঠালিচাঁপা
হরিদ্রাভ সাদা বাহুর আনগ্ন পেলবতা
বৃষ্টি শেষ হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে
আবেশ জড়ানো সুগন্ধ ভেসে আসে
যেসব কথা বলেছিলে নির্ঘুম রাতে
দূরাকাশে ফুটে আছে তারা হয়ে সব 
তাদের দূরত্ব মাপি নৈঃশব্দ্য দিয়ে -- 

আর যত অনুক্ত কথা ভবিষ্যতে
ডানা পাবে ব'লে হারালো কোথায়
কোন অরণ্যানী গিরিখাদে?যেখানে ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু
প্রতিস্পর্ধী হয় আকাশের তারাদের সাথে
সমস্ত স্ফটিক জ্বলে অন্তঃক্ষরণ থেকে 
কোন অভিমানে?

নৈঃশব্দ্য নিজেই যদি না জাগে নিজের আঘাতে   
কে পারে আর জাগাতে তারে?


ভ্রমণাখ্যান
শিবলী মোকতাদির

ভ্রমণে ভয় থাকে না শীতে
অনুশোচনাহীন চিত্তে নিম্নবর্গীয় ফুলেদের কথা
অর্থান্তরে লিখে রাখা যায় ডায়েরিতে।

সত্যের অধিক চোখ চেনে তারার খেলা
ভাষার ছলে- কৌশলে
জড়িত রেখেও বিযুক্ত করি
প্রিয় রিলকে, তোমার এ গোলাপ-বাগে, অনুরাগে

মদ, মেয়োনিজ, অশ্বরব স্থিতু হলে
তাবু ঘিরে রাত জেঁকে বসে
আগুনের চারপাশে যতই উষ্ণতা থাক
ব্ল্যাঙ্কেটের নিচে,
তোমার শূন্যতা হায়েনার হাহাকারে হাসে!

ভ্রমণে অপরের দ্বারা প্রভাবিত হলে
মনে ও মাসল্-এ গৃহযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে।


বিশ্রাম
রুদ্রশংকর

ভাবছি, একটু বিশ্রাম নিয়ে তোমার কথা ভাবব
মন খুলে রাগারাগির পর একটু বিশ্রাম প্রয়োজন
তবেই ভিতরে ভিতরে বৃষ্টি হবে, রাস্তায় জল জমবে
আর কাগজের নৌকা ভাসিয়ে দেব আমরা

ভাবছি, একটু বিশ্রাম পেলে আমরা শুয়ে থাকব
কিন্তু ঘুমোব না
সুযোগ পেলে নদীর সঙ্গে মিটিয়ে ফেলব ঝগড়া
পাহাড়ের সঙ্গে মুছে ফেলব বদমেজাজি সম্পর্ক    
যাতে দশ আঙুলে জড়িয়ে, মুখ তুলে   
আবার আমরা ভালোবাসতে পারি।    




অপঘাতের অভিশাপ
মঈনুস সুলতান


জনপদের বিনম্র পরিব্রাজক হয়েও
বারংবার ফিরে যাই গৃহে—
নির্জনতার নিবিড় এবাদতে হই গৃহকোণবাসী,
আমার ভেতরে দারুণ দোলাচল
কিছু প্রত্যাশা পল্লবিত হয় নওল
দম্পতির ঘরকন্নায় মত্ত হয় পাশাপাশি;
কিছু ঠুমরি রঙিন মাছের বর্ণ বিচ্ছুরণে
আমার কাচপুকুরে সাঁতার কাটে সারাবেলা,
ভ্রমণের কথা ভাবি ফের
রাগ হংসধ্বনি শোনা তো হলো ঢের—
ভালোবাসার কঙ্কনে নীলার রোশনি ছড়ায় অবহেলা;
সোনালি-সবুজ ডানার পতঙ্গ আটকা পড়ে আমার কটেজে
জানালা খুঁজে উড়ে উড়ে দিশেহারা,
ক্ষত বিক্ষত ডানা ঘুরে ঘুরে গুঞ্জন ছড়ায় সতেজে—
অপঘাতের অভিশাপে আমি হই আজ সর্বহারা।


আমাদের অক্ষরগুলো কাঁদে
(প্রিয় মানুষ, কবি আসাদ চৌধুরী স্মরণে)
রাকীব হাসান


আমাদের উঠানের পাশে নদী
মৃদু ঢেউয়ের সাথে নিরবধি
হেমন্তে ঝরা পাতা মৃত্যুর গান গায়
যেমন করে ‘দুঃখীরা গল্প করে’ যায়!

উইপিং উইলোর মতো শোকে নুয়ে পড়ে
কবিও যে হায় ঝরা পাতার মতো ঝরে —
তার মুখে হেসে ওঠে ব্যালে নৃত্যের চাঁদ
নদী ভাসে, নদী ডোবে পরান-উন্মাদ
তার মাঠ-মাটির পথে গহীন ধুলা ওড়ে
আমাদের মন কবিতা পড়ে, দুঃখ পড়ে।

মেঘনা, এই নদী, স্রোতে মগ্ন-অধীর
কবির আঙুলে যেমন কবিতার নগ্নতা, 
নদী মানে না ‘মেঘের জুলুম পাখির জুলুম’
বাঙালির মিছিলের স্রোতে নদী বয়
কবির মৃত্যু হলে ‘নদীও বিবস্ত্র হয়’!

কবিতার মাটিতে উর্বর বাংলা
যুদ্ধের গলায় বারুদ আর ক্রোধের সাইরেন,
এখনও যে যুদ্ধের মাঠে কবিতা পড়েন।
মৃত্যু, ধর্ষণ এবং উদ্বাস্তুর হিসেব —
কবিতায় গুণে শেষ হয় না সংখ্যা;
তার কবরে লাল সবুজের অক্ষরগুলো,
হাত ধরে কেঁদে ওঠে আচমকা!


জলের শাড়ি
সজল আশফাক

ছায়ার মতন নৈ:শব্দে রাতের নিশ্চুপ নদী
দরজার ফ্রেমে স্থির জ্যোৎস্না, গোল হয়ে
ছড়িয়ে যাচ্ছে পরিধি, দিগন্ত অবধি।
সিঁথিতে সিঁদুরের মতো রাঙ্গামাটি পথ বেয়ে
বুকের পাঁজরে বেড়ে ওঠে তৃণ প্রেম।
নরম পাখির মতো বুলিয়ে যায় তার সুতৃপ্তি।

ফিকে স্মৃতিগুলো মেঘের দরজা খুলে হাতছানি দেয়,
আকাশের অধিক দূরের আকাশে শৈশব।
অবিরাম হেঁটে যাই সে ঝরা পাতার ভীড়ে
শিঁকেয় তুলে রেখে ঝুলঝাল বার্ধক্য, জৈবিকতার ডিঙ্গা।
দৃষ্টির আলোয় ফিরে দেখি, ধুলি ওড়া রুক্ষভূমি,
চোখের কাচে একঝাপটা পলাতক সুখ।
নদী খুলে রেখে হিরণ জলের শাড়ি
হারিয়ে গেছে কোথায়!
বুকের ভেতরে দেখি, তার কষ্টের ঢেঁকি
শুধু ওঠে আর নামে।

 

ভাঙা খেলনা
লায়লা ফারজানা

কেন যে তোমার কথা মনে পড়ল —

অবিরাম কথা, ফুটপাতের বিদেশী কোলাহল আর
কবিতার অনুবাদের মত দুর্বোধ্য—
চলন্ত রেললাইনের মত দূরবর্তী।
মানুষের সহানুভূতির সীমাবদ্ধতায় বিবর্ণ
কোরালের মত সমস্ত করুণ যুক্তি-তর্কে

ফয়েলের জোছনায় প্লাটফর্মে দাঁড়ানো আমি:
শহরের আলোর আড়ালে ক্লান্ত ল্যাম্পপোস্ট
একাকিত্বের প্রতিশ্রুতি, নির্বান্ধব পুরুষের ক্ষয়িষ্ণু তালিকায়,
কৌতুহলের তরল ব্রিফকেসে পাতলা বাদামি চুল।

সোরেলের গা বেয়ে পিচ্ছিল সোনা রং
আমার কাঁধে প্রবঞ্চক চাহনির মত
অলসভাবে ঢলে থাকা তার অবসন্ন মুখ —

তার হাতের স্পর্শের আশ্বস্ততায়

‘জীবন তো কেটেই যেত জীবনের মত
কেন যে তোমার কথা মনে পড়ল’ —

শীতল গোধূলি ভেদ করে কমলা মৃত্যুর দিকে


দেরি
মনিজা রহমান

কেন যে শুধু দেরি হয়ে যায়
সাজতে বসে লেপটে যায় চোখের কাজল!
কোথা থেকে যে এতো জল আসে চোখে?
এমন তো নয় দেরিতে গেলে
দেরি করে ফেরা যায়!
আমার যে সব সময় দ্রুত ফেরার তাড়া থাকে,
দেরি করে যাই,
আবার তাড়াতাড়ি ফিরতে চাই
দুই অসম্ভব অমিলের মধ্যে
ঘুরপাক খায় গোটা জীবন!
যে দিন দেরি হয়ে যায়
এক্সপ্রেস ট্রেনটা হয়ে যায় লোকাল
ধীরে ধীরে বুকের রক্তক্ষরণের আওয়াজে চলে সে।
কেনো যে শুধু দেরি হয়ে যায়,
তদুপুরি জানা নেই বাড়ির ঠিকানা,
কি রঙের বাড়িতে সে থাকে!
নিয়ন আলোয় খুঁজি ফিরি তার বাড়ির জানালা-
যেখান থেকে দূরে নদীর
সোনালি রূপালি আলো দেখা যায়,
যৎসামান্য ধারণা নিয়ে
সারারাত ঘুরি পথে পথে।


দাবানল
জেবুন্নেছা জোৎস্না

মাউয়ের দাবানলে  ছড়িয়ে গেলে এ পোড়াদহে
প্রাগৈতিহাসিক চিহৃ হারিয়ে আমি এক ধ্বংসের স্তুপ !
রিয়েলএস্টেটের আর্কষণ তুমিহীন এ বিরান ভূমি —
বাতাসের রন্ধ্রে এখানে মাংসের পোড়া গন্ধ ভাসে —
ক্রুদ্ধ মেঘের ঘর্ষণ —জলবায়ু কণার হ্রাস বজ্রপাতে !

কাঁচা-পাকা রোদের দাবীতে —  ঘন ঘাসের অরণ্যে  
যে বুনো জানোয়ারেরা মশাল মিছিলে আগুন জ্বালালো—
মাৎস্যন্যায়ের চিতায় ওরা ফটাফট পোড়ে জীবন্ত - পার্পল!
প্রত্নতাত্বিক যাদুঘরে সজ্জিত — সে সকল জীবাশ্মের নির্দশন!

দেহ-মনের সে প্রয়োজন,  পাপ নয় তা জেনেও  -
সৌন্দর্যের আকর্ষণ ততক্ষণ, যতক্ষণ সে দূরের —
ঐ রাতের চাঁদ দিনের আলোর সমঝোতায় যে চলে —
সামাজিক কৌলিন্যের  দ্বিধা দ্বন্দ্বের সংঘাতে
তুমি চলে গেলে ঘোর উষ্ণতর দিন উপেক্ষাতে !
নিরবিচ্ছিন্ন ভাবনায় সংজ্ঞায়িত করবো না তোমাকে !

এ পোড়া বৃক্ষরা জানে শিরীষ পাতার ক্লোরোফিলে
কতো প্রেম জমেছিল আমাদের কিউটিকল প্রণয়েতে !
তোমাকে পেয়েছি আমি — সূর্যাস্তের অলৌকিক তিরোধানে !


ক্যামোফ্লাজ
মিলটন রহমান

পিলসুজে সাজানো আমার মৃত্যুফুল
ঢেকে আছে নেকাবের মতো অন্ধকার
জলের মতো হিম শিরায় শিরায় কথা কয়
স্মৃতির পৃষ্ঠা উল্টে পাল্টে মগ্ন ক্লান্ত ছায়া
ছেঁড়া মেঘের গর্জনের মতো জিজ্ঞেস করে
বয়স কতো পিলসুজে সাজানো সান্ধ্য প্রদীপের?
বিশীর্ণ আঙ্গুল চিরে পয়গম্বরি নামতার সূত্রে
মৃত্যুফুলের প্রতিটি শিরায় শিরায় পরিমাপ যন্ত্র সাজাই
কিন্তু এ এক আশ্চর্য ক্যামোফ্লাজ
হাজার বছরের নির্জনতা এসে শারদ মেঘের মতো
বলে গেলো, মৃত্যুফুল প্রতি বছর ফোটে
সে বেঁচে থাকে মৌসুম পাল্টানো বৃক্ষের মতো!


অনুশোচনায়
আল ইমরান সিদ্দিকী

ঝড়ের মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে।
বনসাই বৃক্ষের মতো হয়ে আছি।
অনুশোচনায় একবার ছোট হয়ে আসো।
কালো পাখি হয়ে ডালে এসে বসো।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন