https://www.prothomalony.com/
6829
new-york
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৩ ০৯:০০
সরকার ও রাজনীতিবিদদের একচোখা নীতিকে উপেক্ষা করে আমেরিকার মানুষ প্যালেস্টাইনে বিপন্ন মানুষের সমর্থনে রাজপথে নেমে এসেছে। ১৩ অক্টোবর শুক্রবার নিউইয়র্কের টাইম স্কয়ারে স্মরণ কালের বৃহৎ সমাবেশ থেকে অবরুদ্ধ প্যালেস্টাইনে অবিলম্বে হামলা বন্ধের জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে মার্কিন সরকারকে একচোখা নীতি পরিহার করে অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইসরাইলকে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আমেরিকার প্রতিবাদী মানুষজন। টাইম স্কয়ারের বিক্ষোভ সমাবেশে ইসরাইলকে যুদ্ধাপরাধী উল্লেখ করে সমস্ত মানবতাবাদী মানুষদের বিপন্ন প্যালেস্টাইনীদের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে 'ফ্রি প্যালেস্টাইন' , 'ফিলিস্তিনিরা একা নয়' , 'স্বাধীন ফিলিস্তিন না হলে শান্তি নাই'- এসব স্লোগান লিখা ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়ে লোকজনকে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। বিক্ষোভ সমাবেশে বেশ কয়েক দফা ইসরাইলের পতাকায় অগ্নি সংযোগ করতে দেখা গেছে একদল বিক্ষোভকারীকে। টাইম স্কয়ারের উলটো দিকেই ইসরাইলের সমর্থনে একদল বিক্ষোভকারীরও শক্ত অবস্থান ছিল। এ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হামাসকে জঙ্গি সংগঠন উল্লেখ করে ইসরাইলে হামাসের নারকীয় হামলার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া হয়।
.jpg)
'ইন্টারন্যাশনাল ডে অব একশন ফর প্যালেস্টাইন' শিরোনামে শুক্রবারের বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। নিউইয়র্কসহ আমেরিকার সরকার এবং রাজনীতিবিদরা প্রকাশ্যে ইসরাইলকে একতরফা সমর্থন করলেও শুক্রবারের সমাবেশ ছিল ভিন্ন। বেলা তিনটা থেকে সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকে বিক্ষোভকারীদের জড়ো হতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতি সামাল দেয়ার জন্য নিউইয়র্কের সব পুলিশদের শুক্রবারে কাজে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়। হাজার হাজার পুলিশকে টাইম স্কয়ার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়। পুলিশের সতর্ক হ্যালিকপ্টার আকাশে চক্কর দিতে থাকে। নিউইয়র্কের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষজন প্যালেস্টাইনের বিপন্ন মানুষের সমর্থনে সমাবেশে যোগ দেয়।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ফিলিস্তিনি জনগণকে সমর্থন করে লেখা নানা ধরনের স্লোগান। স্বাধীন প্যালেস্টাইনের ব্যানার সহ স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে উঠে পুরো টাইম স্কয়ার এলাকা। একদল ইহুদি নারী পুরুষও প্যালেস্টাইনের পক্ষে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। তারা যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। প্যালেস্টাইনের পক্ষে অবস্থান নেয়া বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীরা উদারনৈতিক ইহুদীদের সংহতিকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানাতে দেখা যায়।
.jpg)
এদিকে টাইম স্কয়ারের অপরদিকে শক্ত পুলিশ ব্যারিকেড মাঝখানে রেখে ইসরাইল সমর্থকদের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছোট আকারের সে সমাবেশ থেকে হামাসকে জঙ্গি দল এবং প্যালেস্টাইনের পক্ষে বিক্ষোভকারীদের হামাসের সমর্থক বলে স্লোগান দেয়া হলে উত্তেজনা দেখা দেয়। বেশ কয়েক দফা উভয়পক্ষ থেকে স্লোগান, পালটা স্লোগান হতে থাকে। উত্তেজনা শুরু হলে পুলিশের তৎপরতার কারণে কোনো ধরনের সংঘর্ষ হয়নি।
প্যালেস্টাইনের সমর্থনে বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যান্য আমেরিকানদের সাথে বাংলাদেশীদেরও ব্যাপক উপস্থিতিত দেখা গেছে। কুইন্স , ব্রংকস এবং ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা জুম্মার নামাজ পড়ে ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে টাইম স্কয়ারের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেন। শুক্রবারের কর্মদিবসে কাজের শেষে টাইম স্কয়ারের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন কবি জেবুন্নেছা জোৎস্না।
প্রতিবাদী ফ্যাস্টুন হাতে নিয়ে জেবুন্নেছা জোৎস্না এ প্রতিবেদককে বলেন, " শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে লিফলেটে, ভয়েস বার্তা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ইসরায়েল গাজা শহরের ১.১ মিলিয়ন মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ২৪ ঘন্টা সময়সীমা দিয়েছে। ইসরায়েল শনিবার থেকে গাজায় ৬,০০০ টিরও বেশি বোমা ফেলেছে এবং সেগুলি এখনও পড়ছে.. ! তিনি বলেন, দুপুর থেকেই শুরু হয়েছে বৃহৎ আকারের প্রটেষ্ট.. ! আমার কন্যাও যোগ দিয়েছে এ প্রটেষ্টে!
জেবুন্নেছা জোৎস্না বলেন, রাস্তার একপাশে অবস্থান নেয়া ইসরাইলপন্থী এবং অপর প্রান্তে প্যালেস্টাইনপন্থীদের ক্রমাগত একে অপরকে লক্ষ্য করে চিৎকার- পালটা চিৎকার, অসংখ্য গাড়িতে করে ছুটে যাওয়া প্যালেস্টাইন অনুসারীরা, সেই সাথে টাইম স্কয়ারে উচ্চ ভলিউমে কোরআন তেলায়ত চলছে। অসংখ্য পুলিশের কড়া উপস্থিতির কারণেই কোনো সংঘর্ষ হয়নি। অন্যান্য প্রতিবাদী মানুষের মিছিলে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশি এ নারী বলেন, সব মানুষের রক্তের রং লাল। ইহুদি, মুসলমান কোন ভেদ নেই। আর কোন যুদ্ধ নয়, আর কোন রক্তের বন্যা নয়! শান্তির পক্ষে দাঁড়াবার এখনই সময় ! "
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন