https://www.prothomalony.com/
6760
new-york
তিনি ভালবেসেছিলেন বাংলাদেশ ও তার মানুষকে। কবিতায় সেই মানুষের অনন্ত সংগ্রাম ও অবিশ্বাস্য অর্জনের কথাই তিনি বলতেন। কবিকে তিনি বলেছিলেন প্রথম বিদ্রোহী, নিদ্রাহীন প্রহরীর মত যে আগলে রাখে দেশের স্বাধীনতা ও তার মূল্যবোধ। বস্তুত তিনি নিজেই ছিলেন সেই বিদ্রোহী। যেন দ্রষ্টা কোন, বাংলাদেশের আকাশে ঘনকাল মেঘের কুজ্ঝটিকা দেখে উদ্গিগ্ন হয়ে তিনি লিখেছিলেন,
প্রতিটি অর্জন ধুলোয় মিশে যায়
নতুন উৎপাত মৌলবাদ আর
জঙ্গিবাদ আসে, পশ্চিমের থেকে যেনই
স্বেচ্ছাচারিতার প্রতাপ চৌদিকে
দৃপ্ত পায়ে কবি কাতারে মিছিলের
কারফু কার ফুঁতে ওমন করে ভাগে
বাঙ্গালির দ্রোহের ও স্বপ্নের ভাষ্যকার কবি আসাদ চৌধুরী ৫ অক্টোবর ৮০ বছর বয়সে টরেন্টতে দেহত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিন বিভিন্ন জটিল রোগে তিনি ভুগছিলেন। তা সত্বেও আশা হারাননি, মানবতার প্রতি আস্থা টলেনি। একদিনের জন্যও বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ হয়নি। তাঁর মৃত্যতে শুধু বাংলা সাহিত্যের নয়, বাংলাদেশের অপূরণীয় ক্ষতি হল।
.jpg)
নিউইয়র্কের মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের জন্য এই মৃত্যু গভীরভাবে ব্যক্তিগত। প্রথমাবধি তিনি এই ফাউন্ডেশন, বিশেষত মুক্তধারা আয়োজিত বার্ষিক বাংলা বইমেলার প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে গেছেন। যখনই সাহায্য অথবা পরামর্শের প্রয়োজন হয়েছে, নির্দ্বিধায় তিনি এই সংগঠনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি নিউইয়র্ক বইমেলায় উদ্বোধক ছিলেন। কভিডের কারণে ব্যক্তিগত ভাবে নিউইয়র্কে আসতে পারেননি, কিন্তু এক দীর্ঘ ভিডিও বার্তায় তিনি শুধু বইমেলার সাফল্য কামনা করেননি, এই সংগঠনের দিকনির্দেশনাও দিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্রবাসে যদি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা অব্যাহত রাখতে তাহলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ ও তার মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভালবাসা ও চেতনা জাগ্রত রাখা। তিনি বিশেষ করে জোর দিয়েছিলেন নতুন প্রজন্মের বাঙ্গালিদের মধ্যে বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর। তিনি আস্থা ব্যক্ত করেছিলেন, মুক্তধারা এই কাজটি যোগ্যতার সঙ্গে চালিয়ে যাবে।
২০২৩ সালে ৩২-তম নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলায় মুক্তধারা ফাউন্ডেশন কবি আসাদ চৌধুরীকে মুক্তধারা/জিএফবি সাহিত্য পুরষ্কারে ভূষিত করে। শারীরিক কারণে তিনি আসতে পারেননি, তাঁর পক্ষে সে পুরষ্কার গ্রহণ করেছিলেন কবি পত্নী ও কন্যা। পরে নানাভাবে মুক্তধারার কর্মকর্তাদের তিনি কৃতজ্ঞতা ও সাধুবাদ জানিয়েছিলেন।
আসাদ চৌধুরীর তিরোধানের ফলে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন শুধু একজন সেরা বাঙালি কবিকে হারালো না, সে হারালো একজন অভিভাবককে। তিনি চলে গেলেও যে দিকনির্দেশনা তিনি দিয়ে গেছেন, তা মুক্তধারার জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে।
মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের পক্ষে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. নূরন নবী, প্রধান নির্বাহী বিশ্বজিত সাহা এবং বইমেলার পক্ষে আহ্বায়ক, নিউ ইয়র্ক বাংলা বইমেলা ২০২৪ হাসান ফেরদৌস।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন