https://www.prothomalony.com/
6650
bangladesh
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৮:৩৫
২৭ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ওয়াশিংটন ডি. সি. সংলগ্ন ভার্জিনিয়ার রিট্জ কার্লটন হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদের ছয় সদস্য বিশিষ্ট এক প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার জন্য আবারও জোর দাবি জানায়। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক নবেনদু দত্ত, শিতাংশু গুহ, রূপকুমার ভৌমিক, ড. দিলীপ নাথ, শুভ রায়, ও যুক্তরাষ্ট্র জগন্নাথ হল এ্যালামনাই এ্যাসেসিয়েশনের চেয়ারম্যান শ্যামল চক্রবর্তী। গত বছর নিউ ইয়র্কে সাক্ষাত কালে এবং সম্প্রতি প্রেরিত স্মারক লিপিতে ব্যাক্ত দাবির পুনরাবৃত্তি করে প্রতিনিধিগণ প্রধানমন্ত্রীর কাছে মূলত দুটো দাবি জানান: প্রথমটি ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করা; এবং, অন্যটি, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় ২০২২ সালের পুজোর সময়কার মত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
প্রধানমন্ত্রী ২০০১ -২০০৬ সালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অওয়ামীলীগ কর্মী ও নেতৃবৃন্দের ওপর সন্ত্রাসের কথা উল্লেখ করলে অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, সাহাবউদ্দীন জজ্ কমিশন ২০১১ সালে ঐসব অপরাধীর তালিকা সরকালের কাছে জমা দিলেও তাদের বিচার প্রক্রিয় এখনও শুরুই হয়নি। ড. দিলীপ নাথ সম্পূরক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে, প্রচলিত আইনে সামপ্রদায়িক সন্ত্রাসীদের বিচার এবং সংখ্যালঘু নির্যাতন ঠেকানো সম্ভ নয়, এর জন্য সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করার কোন বিকল্প নেই। শিতাংশু গুহ প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যে উনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা, তাই দেশে চলমান মানবতা বিরোধী অপরাধ সংখ্যলঘু নির্যাতন চিরতরে বন্ধ করার জন্য তাঁর কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা এবং দাবি অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গেত– এই দাবিগুলো পুরণ করে সংখ্যালঘু নাগরিকদের চিরস্থায়ী নিরাপত্তা বিধান ওনাকে করতেই হবে। একইভাবে, রূপকুমার ভৌমিকও ওনাকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যুগ যুগ ধরে চলমান সামপ্রদায়িক সন্ত্রাস সমস্যার একটি টেকসই সমাধানের দাবি জানান।
সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় প্রধানমন্ত্রী মনযোগ সহকারের সকলের বক্তব্য শোনার পর তিরিশ মিনিট ধরে কথা বলেন। তাঁর শাসনামলে দেশে পূজার সংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়ে চলায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং এবারের পুজোর সময়ও কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে বলে প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিধিদের বলেন যে, বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে, কারও নিজেকে “সংখ্যালঘু” মনে করাার কারণ নেই। সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের বিষয়ে তিনি ষ্পষ্ট কোন অঙ্গীকার না করলেও পুরো বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী নিযে শুনেন এবং গত ১৫ বছরে সংখ্যালঘু সম্পদায়ের কল্যানে তাঁর সরকার কী কী করেছে তার একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষট্রদূত ইমরান সাহেবের মাধ্যমে ঐক্য পরিষদ প্রেরিত এবং নিউইয়র্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের সময় হস্তান্তরিত স্মারকলিপিতে বলা হয় যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রীর স্ব-প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন ২০১৯ সালে সংসদের প্রথম অধিবেশনে পুরণ করা হলে ধর্মীয় মৌলবাদী ও উগ্রপন্থীরা ২০২০ সালে মুরাদনগরে কিংবা ২০২১ সালে কুমিল্লায় শারদোৎসবে নারকীয় তান্ডব চালানোর দু:সাহস তো করতই না, এতদিনে হয়তো সম্পূর্ণভাবে বন্ধই হয়ে যেত সংখ্যালঘু নির্যাতন, যেমন বন্ধ হয়ে গেছে এ্যাসিড সন্ত্রাস।
প্রতিশ্রুতি দেয়ার পাঁচ বছর পরও আইনটি পাশ না করা এবং ২০১১ সালে কয়েক হাজার সংখ্যালঘু নির্যাতককে সনাক্ত করে জজ সাহাবুদ্দীন কমিশন যে তালিকা সরকারের কাছে হস্তান্তর করলেও তাদের বিচার এখনও শুরু না করায় গভীর হতাশা ও বিষ্ময় প্রকাশ করে, উক্ত স্মারক লিপিতে বলা হয় যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে জেতার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার রাষ্ট্রধর্ম আইন পাশ করা সহ ধর্মীয় মৌলবাদীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে, কিন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে “দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই, সকলেরই সেখানে সমান অধিকার রয়েছ,” যদিও বাস্তবতা এর উল্টো। সংখ্যালঘু নাগরিকরা বৈষম্যমূলক আচরন এবং সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে নিরন্তর; আর, এই বৈষম্যমূলক আচরণ এবং সংখ্যালঘু নির্যাতকদের কোনো বিচার না হওয়ায় প্রশ্রয় ও উৎসাহ পেয়ে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘুদের ভূসম্পত্তি ও বাড়িঘর দখল করে নিয়ে, দেবালয়-দেবদেবীর মূর্তি ধ্বংস করে দিয়ে, উচ্ছেদ, ধর্ষন, বিভিন্নভাবে ধর্মান্তরিত করাসহ বর্বর অত্যাচার করে দেশত্যাগ করতে বাধ্য করছে সংখ্যালঘু নাগরিকদের। ফলে, যে স্থলে ১৯৭০ সালে দেশের মোট জনসংখ্যা্য় সংখ্যালঘুরা ছিল প্রায় ২০% আজ তাঁরা মাত্র ৯.১%, এবং অবিলম্বে একটি কঠোর সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন পাশ করে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চির দিনের মত বন্ধ না করলে তাাঁর আগামী তিন দশকের মধ্যে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে, যা রোধ করা সরকারের কর্তব্য ও নৈতিক দায়িত্ব, বিশেষ করে সেকুলার ডেমোক্র্যাটিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা অওয়ামী লীগ সরকার যখন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হযেছে যে, ঢাকায় গণ-অনশন রত সংখ্যালঘু নেতৃবৃন্দকে সংসদের অক্টোবর অধিবেশনে একটি সংখ্যালঘু কমিশন বিল পাশ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়ে অনশন প্রত্যাহার করানো হয়েছে, যা এক নিষ্ঠুর পরিহাস, কারণ জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন শুধু নির্যাতনের কাহিনী লিপিবদ্ধ করতে পারবে --যা মিডিয়া, বিশেষ করে সোসাল মিডিয়াও করে –কিন্ত ত্বরিৎ গতিতে ঘটনার তদন্ত করে, আসামীকে গ্রেফতার করার জন্য র্যাবকে নিয়োগ করতে পারবে না, দুর্বল নির্যাতিত সংখ্যালঘু নাগরিকদের পক্ষে নিজে বাদী হয়ে মামলাও রুজু করতে পারবে না, পারবে না দ্রতগতিতে বিচার ও রায় প্রদানের ক্ষমতা সম্পন্ন আদালতে অপরাধীর বিচার ও শাস্তি বিধানের নিশচয়তা দিতে। কাজেই ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রতিশ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ সংখ্যালঘু সুরক্ষা এ্যাক্ট বিল পাশ না করে শুধ এর একটি ধারা বা উপ-আইন অর্থাৎ সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা আদৌ কিছু না করার শামিল; এ’টা ধর্মূীয় মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী সংখ্যালঘু নির্যাতকেদের আবারও নিশ্চিতভাবে ইঙ্গিত দেবে যে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপরাধে কারও বিচার/শাস্তি হবে না।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন