https://www.prothomalony.com/
18481
literature
দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রবাসে আছেন তিনি। পরবাসেও চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলার চর্চা। সাইফুল আজম সিদ্দিকী একাধারে সাংবাদিক, কলামিস্ট, প্রবাসী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং আবৃত্তিকার। ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে উচ্চশিক্ষা লাভের পর বর্তমানে বহুজাতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানি স্টেলান্টিসে প্রকৌশল ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় যুক্ত ছিলেন একাধিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে। মূকাভিনয়, আবৃত্তি ও অভিনয়ে ছিলেন ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ। খেলাধুলার পাশাপাশি পত্রপত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেছিলেন সে সময় থেকেই। তবে কোভিড মহামারির সময় কবিতা পাঠের চর্চা আরও গভীর হয়। দেশের বাইরে থাকলেও বাংলা ভাষায় শুদ্ধভাবে কথা বলা ও আবৃত্তি করার চেষ্টা করেন তিনি।
প্রশ্ন: আপনার একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘মনের গহীনে বাংলা’ নিয়ে জানতে চাই।
সাইফুল আজম সিদ্দিকী: এটি আমার একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান হলেও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে থেকে জনপ্রিয় কয়েকজন আবৃত্তিকার ও কবি আবৃত্তি করবেন। আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬, রোববার বিকেল ৩টায় হক-ফার্মিংটন হিলস কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘মনের গহীনে বাংলা’। এখানে কবিতায় দেশের কথা বলব, প্রেমের কথা বলব, বাংলার কথা বলব।
প্রশ্ন: অনুষ্ঠানের নামকরণ ও কবিতা নির্বাচনের ভাবনাটি কেমন?
সাইফুল আজম সিদ্দিকী: আয়োজনে আমরা মূলত দেশ, মা ও মাটির কথা মাথায় রেখে কবিতা নির্বাচন করছি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও থাকবে কবি নির্মলেন্দু গুণ, হেলাল হাফিজ, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, সৈয়দ শামসুল হক ও মহাদেব সাহার কবিতা। পাশাপাশি এ সময়ের নতুন ও প্রবাসী কবিদের লেখাকেও প্রাধান্য দিয়েছি।
প্রশ্ন: আবৃত্তির পাশাপাশি গানও থাকছে?
সাইফুল আজম সিদ্দিকী: অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করতে আবৃত্তির পাশাপাশি গান ও কবিতার ফিউশনের আয়োজন রাখা হয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সংগীতের পাশাপাশি পল্লীগীতি শিল্পী আব্দুল করিমের গান সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের অংশবিশেষ পরিবেশন করা হবে। এ ছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে কবিতার সঙ্গে নৃত্য। প্রবাসে বেড়ে ওঠা কয়েকজন তরুণ-তরুণী বাংলা কবিতার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করবেন।
প্রশ্ন: সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের অঙ্গনে আপনার পদচারণায় গল্পটা কেমন ছিল?
সাইফুল আজম সিদ্দিকী: সব সময়ই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত ছিলাম। পেশাদার ভাবে কখনো বড় মঞ্চে খেলা হয়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিনায়ক হিসেবে বিভিন্ন খেলায় অংশ নিয়েছিলাম। পড়াশোনার চাপে পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার কাছাকাছি যাওয়া হয়নি। কিন্তু খেলাধুলার নেশাটা মনের মধ্যে ছিল।
প্রবাসে এসে ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও শরীর ও মন-মানসিকতা সুস্থ রাখার জন্য ক্লাব গঠন করি। ক্লাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশেষ দিনগুলো, যেমন একুশে ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ ও পয়লা বৈশাখ পালন করি।
গত দশ বছরে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাঙালির সংখ্যা বেড়েছে। ফলে এসব ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা অনেক বেড়েছে। এই আয়োজনের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

প্রবাসে এসব আয়োজনে সবাই একসঙ্গে কাজ করার ফলে নিজেদের মধ্যে হৃদ্যতা বাড়ছে। ছোট একটি অনুষ্ঠান হলেও সবার অংশগ্রহণে তা বড় এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রশ্ন: প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলাদেশি পরিচয় ও মূল্যবোধ বজায় রাখার ব্যাপারে আপনার মতামত কী?
সাইফুল আজম সিদ্দিকী: আমাদের দেশি সংগঠনগুলো যখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, তখন আমাদের সন্তানেরা সেখান থেকে অনেক কিছু দেখে ও শেখে। আমাদের দেশীয় বাঙালি সংস্কৃতি আমেরিকার কোনো বইয়ে লেখা নেই। তাই আমাদের সন্তানদের কাছে সেসব তুলে ধরার দায়িত্ব আমাদেরই।
কোনো একটি আয়োজনে যখন আমরা আমাদের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা করি, তখন আমাদের সন্তানেরাও তা শেখে। আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয়। এভাবেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও নিজস্ব পরিচয়ের প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠতে পারে।
ফরিদা ইয়াসমীন: অনেক অনেক ধন্যবাদ, জনাব সাইফুল আজম সিদ্দিকী। দীর্ঘ প্রবাস জীবনেও আপনি মন ও মননে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছেন। সেই সঙ্গে নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে। নতুন প্রজন্মের ভেতরে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চেতনা জাগিয়ে তুলতে আপনার নিরলস পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।
আপনার পথচলা অব্যাহত থাকুক। প্রথম আলো পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে অভিনন্দন। আপনার আসন্ন একক আবৃত্তি অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করছি।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন