https://www.prothomalony.com/
5954
new-york
নিউইয়র্কে প্রতিমাসে গড়ে ১০ হাজার নথিপত্রহীন অভিবাসীর আগমন ঘটছে। বাইডেন প্রশাসনের বিপর্যয়কর অভিবাসন নীতির কারণে নিউইয়র্কের মতো সিটির অবস্থা নাজুক হয়ে উঠেছে। আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন, খাবার এবং পরিষেবা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সিটি প্রশাসনকে।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০২১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের স্থল সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের প্রবাহ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সমস্থ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের প্রবেশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বেপরোয়া অভিবাসীদের আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসা অব্যাহত রয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৬,১১৭ জন অভিবাসী আমেরিকায় প্রবেশ করে তাদের গন্তব্য নিউইয়র্ক বলে সীমান্ত রক্ষীদের কাছে নথিভুক্ত করেছে। আবেদন গ্রহণ করে এসব আশ্রয়প্রার্থীদের অভিবাসন আদালতে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবছরে আমেরিকায় সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করা ছয় লাখ ৭১ হাজার অভিবাসীর প্রায় ১০ শতাংশেরই গন্তব্য নিউইয়র্ক বলে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস জানিয়েছেন, ২০২২ সালের বসন্তের পর থেকে এ পর্যন্ত নিউইয়র্কে ৯০ হাজার অভিবাসীর আগমন ঘটেছে। মেয়রের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ৫৭ হাজার ২০০ জন আশয়প্রার্থী অভিবাসী সিটির ১৯৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। এসব লোকজনকে আশ্রয় ও পরিষেবা প্রদানের জন্য ৮ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থ ব্যয় হয়েছে। এ অর্থ নাগরিকদের করের অর্থ।
অভিবাসী সঙ্কট মোকাবেলার জন্য নিউইয়র্ক সিটি ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঠিক করেছে। এ অর্থের অধিকাংশই ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে পাবে বলে আশা করা হয়েছে। এরমধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের চাহিদার বিপরীতে অর্ধেকেরও কম ফেডারেল অনুদান সিটি পেয়েছে। এনিয়ে মেয়র এরিক অ্যাডামস ফেডারেল সরকারের কাছে জরুরী তহবিল বরাদ্ধের জন্য বারবার আবেদন জানিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসন নিউইয়র্ক সিটিকে ১৪২ মিলিয়নের অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
মেয়রের মুখপাত্র ফাবিয়ান লেবি বলেছেন, নিউইয়র্ক অভবাসী সংকটে ঝাঁপিয়ে পরেছে কিন্তু ফেডারেল সরকারের কাছ থেকে সে অনুযায়ী সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের পরই সীমান্ত দিয়ে আসা অভিবাসীদের প্রিয় গন্তব্য ক্যালিফোর্ণিয়ার লস এঞ্জেলস নগরী। যদিও লস এঞ্জেলসে এ পর্যন্ত মাত্র ২৯ হাজার জনের কিছু বেশি আশ্রয়প্রার্থীকে জায়গা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে সীমান্ত সমস্যা সামাল দেয়ার জন্য ট্রাম্প টাইটেল ৪২ নামের বিধির অবসান ঘটানো হয়েছে। এ বিধির অবসানের পর এপসের মাধ্যমে বাইরের দেশ থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন করতে হচ্ছে এবং মাসে ৪৫ হাজার এমন আশ্রয়প্রার্থী অভিবাসীদের আবেদনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ নথিপত্রহীন অভিবাসীর আগমন ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে।
২০১৯ সালের দিকে নিউইয়র্কে মাসে গড়ে পাঁচ হাজার এসাইলাম আবেদন করা হতো। কোভিড মহামারিরই সময়ে এ সংখ্যা হ্রাস পেয়েছিল। ২০২২ সালে মাসে গড়ে সাত হাজার আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন ফাইল হয়েছে। ২০২৩ সালের এক মে মাসেই নিউইয়র্ক সিটির ইমিগ্রেশন অফিসে আবেদন পড়েছে ১৪ হাজারের বেশি আশ্রয়প্রার্থীর। এসব আবেদন সামাল দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নেই। অভিবাসন আবেদন এবং এসাইলাম আবেদন দেখভালের জন্য লোক নিয়োগের প্রক্রিয়া দীর্ঘ। দক্ষতা অর্জনের জন্য তাদের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। অভিবাসন আইনের উপর তাদের দক্ষ হয়ে উঠার পরই কাজ করার সুযোগ থাকে। লোক সংকটের কারণে আশ্রয় আবেদনও সুরাহা হচ্ছে না সহসা।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন