https://www.prothomalony.com/
18488
north-america
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:২২
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, নির্বাসন বৃদ্ধি, শরণার্থী গ্রহণ কমানো এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় কঠোরতা আরোপসহ পাঁচটি ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন এনেছে। তবে এসব পদক্ষেপের কিছু নিয়ে উদ্বেগ ও বিতর্কও বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আশ্রয় আবেদন সীমিত করা, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের ছেড়ে দেওয়ার প্রচলিত ব্যবস্থা বন্ধ, সীমান্তে সেনা মোতায়েন এবং মেক্সিকোর ওপর চাপ বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সীমান্ত দেয়াল নির্মাণে গতি
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ২৫০ মাইল নতুন দেয়াল ও অন্যান্য প্রতিবন্ধক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। আরও ১ হাজার ৪৪৩ মাইল প্রতিবন্ধক নির্মাণাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দেয়াল নির্মাণের ফলে অভিবাসীদের প্রবেশ কতটা কমেছে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
আটক ও নির্বাসন বেড়েছে
অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসের অভিযান জোরদার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে আটক ও নির্বাসনের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসীকে আটক করা হয়। একই মাসে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের অনুপাত ছিল ২৭ শতাংশ। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৫ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছিল।
তবে এসব অভিযানের ধরন নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনার এক জরিপে দেখা যায়, অভিবাসন ইস্যুতে ৫০ শতাংশ ভোটার ডেমোক্র্যাটদের এবং ৪৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন।
শরণার্থী গ্রহণ কমেছে
ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর শরণার্থী গ্রহণ কার্যক্রম প্রায় স্থগিত করা হয়। পরে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানদের জন্য সীমিতভাবে এ কার্যক্রম চালু করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ২৯২ জন শরণার্থী প্রবেশ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৬ হাজার ২৮৭ জনই দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক। আগের বাইডেন প্রশাসনের শেষ দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৬০ হাজার ও ১ লাখ শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন।
এ ছাড়া হাইতির প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার নাগরিকের জন্য সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বাতিলের সিদ্ধান্তও বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্ট।
ভিসায় কঠোরতা, ধনীদের জন্য বিশেষ সুযোগ
ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ভিসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাড়তি যাচাই এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কিছু আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গ্রিন কার্ডের আবেদন করার নিয়মের কারণে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন এইচ-১বি ভিসার জন্য ১ লাখ ডলার ফি আরোপের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। পরে আদালত আপাতত ফি কার্যকর হওয়া আটকে দেন। তবে ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি নিবন্ধন ৪০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা।
অন্যদিকে, ধনী বিদেশিদের আকৃষ্ট করতে ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ পেতে ১০ লাখ ডলার অনুদানের পাশাপাশি ফেরত-অযোগ্য ১৫ হাজার ডলার আবেদন ফি দিতে হয়।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন