https://www.prothomalony.com/
5772
literature
অনুষ্ঠিত হলো তোবারক হোসেইনের ‘খোলাসা বয়ান’ গ্রন্থের অন্তরঙ্গ পাঠ। ২২ জুলাই শনিবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রন্থ প্রণেতা তবারক হোসেইনকে নিয়ে আলোচনা করেন অতিথিরা। গ্রন্থের প্রাসঙ্গিকতা, প্রেক্ষাপট এবং সার্বিক বিষয়ে যেমন পর্যালোচনা করেন অতিথিরা তেমনই লেখকের জীবনের বিভিন্ন দিকও উঠে আসে আলোচনায়।
এক সময়ের তুখোড় সাংবাদিক এবং আইনজীবী তবারক হোসেইনের ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সাপ্তাহিক যুগভেরী এবং দেশবার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধ দিয়ে সাজানো হয়েছে খোলাসা বয়ান-এর ক্যাম্পাস। তাঁর সাড়ে চার দশক পূর্বের লেখাগুলো যেন আজও প্রাসঙ্গিক। সে কথাই উঠে এসেছে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেনের বক্তব্যে। তিনি বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে গিয়েছিলাম তা-কি সফল হয়েছে? এই প্রশ্নটি যদি তবারক হোসেইন এই বয়সে রাখতে পারেন এবং সুদৃঢ় আমেরিকাতে গিয়েও উত্থাপন করতে পারেন, তাহলে সেই মানুষটিকে আমরা কীভাবে মূল্যায়ন করবো। অবশ্যই তিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। সাহসীতো বটেই।
বিশিষ্ট লোক গবেষক অধ্যাপক কবি ড. আবুল ফতেহ ফাত্তাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক অধ্যাপক সুনির্মলকুমার দেব মীন, কবি ও গবেষক এ কে শেরাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম শাহীন।
অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচক ছিলেন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মিহির কান্তি চৌধুরি, দৈনিক সিলেট মিরর’র সম্পাদক আহমেদ নূর, দৈনিক উত্তর পূর্ব’র নির্বাহী সম্পাদক তাপস দাস পুরকায়স্থ, সাংবাদিক অপূর্ব শর্মা। এছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন জাসদ নেতা লোকমান আহমদ।
স্বাগত বক্তব্যে উৎস প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা সেলিম গ্রন্থ প্রকাশের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, এ গ্রন্থটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে উৎস প্রকাশন একটি দায়িত্ব পালন করেছে। সিলেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য এবং কৃষ্টিকে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার যে অভিযাত্রা আমরা চালিয়ে যাচ্ছি এটি তারই অংশ। তিনি নাগরী লিপির প্রচারের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ভূমিকাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সুনির্মল কুমার দেব মীন তার বক্তব্যে বলেন, ‘যে মানুষ আজীবন প্রতিবাদী ছিলেন, তিনি সঠিক কথাটিই লিখবেন-আমরা এটা বিশ্বাস করতে পারি। আশা করছি, তবারক ভাই স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থও রচনা করবেন। এতে সমাজ-সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হবে। তবারক হোসেইনের আজকের অগ্রযাত্রার পেছনে তার সহধর্মিনীর ভূমিকাও কোন অংশে কম নয়। তার সাহচর্যই আজকের তবারক হোসেইনকে বিনির্মাণ করেছে।
কবি এ কে শেরাম বলেন, ‘তবারক হোসেইন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পুরোধা ছিলেন। সাংবাদিক অঙ্গনেও তাঁর বিচরণ ছিল। তার খোলাসা বয়ান বইটি স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের একটি অনন্য দলিল। সেই সময়ের সমাজ জীবনের কথা যেমন উঠে এসেছে গ্রন্থে, তেমনই অনাচার-অবিচারের কথাও স্থান পেয়েছে। তিনি নির্মোহভাবে উপস্থাপন করেছেন তার বক্তব্যে।
জাসদ নেতা লোকমান আহমদ বলেন, ‘খোলাসা বয়ান পড়ার সময় আমি বারবার সেই দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম। ৪৯ বছর পরও এই গ্রন্থ প্রাসঙ্গিক থাকার কারণ, সমাজ ও রাষ্ট্রের চালিকা শক্তি আজও পরিবর্তিত হয়নি। চালিকা শক্তি পরিবর্তিত না হলে আরও ৪৯ বছর প্রাসঙ্গিক থাকবে বইটি। আমাদের এই বই থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। যা আমাদেরকে শুধু ঋদ্ধ করবে না, পথও দেখাবে।
তবারক হোসেন সাংবাদিকতার সাথে তার সম্পৃক্ত হওয়ার ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, আমি যখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র তখন ছাত্র আন্দোলনের একটি খবর সংবাদ পত্রিকায় পাঠিয়েছিলাম। ৩ দিন পর সেই সংবাদটি প্রকাশিত হয়। ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই খবরটি যদি সংবাদে না প্রকাশ না হতো তাহলে হয়তো আমি সাংবাদিক হতাম না।
সাংবাদিকতা জীবনের নানা প্রসঙ্গের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এ কথা গভীরভাবে বিশ্বাস করি একজন সাংবাদিকের কোনো বন্ধুও নেই, শত্রুও নেই। সাংবাদিককে যাহা দেখিবো তাহাই লিখিবো- মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে। আমি নিজের জীবনে এটা ধারণ করার চেষ্টা করেছি। সে কারণে কঠিন সময়েও আমি নিজ দায়িত্বের প্রতি অবিচল থাকার চেষ্টা করেছি। সেই সময় অধিকাংশ কলামই ছদ্মনামে লেখা হতো, কিন্তু আমি সে পথে হাটিনি। আমি আমার নামেই সাপ্তাহিক যুগভেরীতে খোলাসা বয়ান লিখতে শুরু করি। সেদিন লিখেছিলাম বলেই আজ এটি প্রকাশ করা সম্ভব হলো।’
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন