https://www.prothomalony.com/
5766
bangladesh
দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়েই চলছে। ক্রমশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় হাসপাতালে। ডাক্তার-নার্স এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বেড়েই চলেছে। দেশের বহু হাসপাতালে রোগীদের জন্য কোন বিছানা খালি নাই। ওয়ার্ডের বারান্দা, করিডোর, সিঁড়ির নিচে কোথাও পা রাখার জায়গা নাই। রোগী আর রোগী। সবাই ডেঙ্গু রোগী। এই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া ঠিকভাবে হচ্ছে না।
মশাবাহিত ডেঙ্গু ছড়িয়ে পরেছে পুরো দেশে। পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন রোগতত্ত্ববিদরা। ডেঙ্গু শনাক্ত ও মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। বেসরকারি শত শত হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা হলেও তার মধ্যে ৯৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই কোনো তথ্য দিচ্ছে না। প্রতিবছর দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঘটলেও তথ্য সংগ্রহে তেমন অগ্রগতি নেই।
২০০০ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এরপর সামগ্রিক তথ্য সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। বিগত ২৩ বছরে তারা মাত্র ২০টি সরকারি হাসপাতাল এবং ৫০টি বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়মিত তথ্য দেয় না।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বাধিক। গত শনিবারের পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আরো ৯ জনের মৃত্যু এবং ২২৯২ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে ৩২৯৭৭ জন আক্রান্ত হলো। এর মধ্যে ঢাকায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ২০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে এ পর্যন্ত ১৫৭ জনের। এর মধ্যে ১১৫ জনই ঢাকায়।
২২ জুলাই শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ৬ হাজার ৬৫৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হবে এবং প্রতিদিন এ সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এডিস মশা নিধন নিয়ে এত হৈচৈ হচ্ছে কিন্তু মশা নিধন নিয়ে কোন কিছু হচ্ছে না। এমন অভিযোগ আসছে। এই অবহেলা মহাবিপদ ডেকে আনবে। এর দায়ভার কে নেবে। সময় থাকতে মশা নিধন করতে হবে। এ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন