https://www.prothomalony.com/
18059
bangladesh
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৬
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ীর ছেলে শিহাব উদ্দিন মালেক (সাগর) খুনকে ঘিরে চাঞ্চল্য সষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, হানি ট্র্যাপে ফেলে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
নিহত শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬) যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী ও ব্রুকলিনের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। তার পৈত্রিক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাগর ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীতে ঢাকায় চলে আসেন এবং গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। এরই মধ্যে তার সাথে মাহজাবিন ইসলাম রিয়া নামের এক মেয়ের পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
সাগরের পরিবার আরো জানায়, রিয়া নামের মেয়েটি বিবাহিত। বিয়ের তথ্য গোপন করে সাগরের অর্থ আত্মসাতের লক্ষে তাকে হানি ট্র্যাপে ফেলে তার সাথে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়। যথারীতি সাগর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে রিয়া বিয়ে করতে গড়িমসি ও একপর্যায়ে অমত পোষণ করে। এতে করে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
জানা যায়, ঘটনার দিন সাগরের এপার্টম্যান্টে একজন নারী ছাড়াও আরো একজন পুরুষ ছিলেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায় রিয়া মেয়েটি সাগরকে বটি হাতে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এতে রিয়ার দিকেই পরিবারের সন্দেহ আর বেড়ে যায়।
পরিবারের ভাষ্য, গত ১৯ আগস্ট সকাল ১০টা ৫ মিনিটের ফ্লাইটে সাগর ঢাকায় আসেন। ২১ আগস্ট দুপুর ৫টা ১৫ মিনিটে ফেরার জন্য তিনি টিকিট করেছিলেন বলেও পরিবারের কাছে তথ্য রয়েছে। এরই মধ্যে ২০ আগস্ট ভাটারা থানা এলাকায় একটি এপার্টমেন্টে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাগরের ভাই সাইফ উদ্দিন মালেক ‘মামুন’ জানান, ১৯ আগস্ট বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে তিনি সাগরকে ফোন করেন। ফোনে সাড়া না পেয়ে বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিটে তাকে বার্তা পাঠান। পরে সাগর ভয়েস মেসেজে জানান, তিনি অ্যাপার্টমেন্টে রয়েছেন, তবে সেখানে অন্য লোকজন থাকায় কথা বলতে পারছেন না। ওইদির সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিটে মামুনের সঙ্গে সাগরের সর্বশেষ কথোপকথন হয়।
মামুন আরো জানান, ঘটনার দিন রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে সাগরের অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার ও সহকারী হিসেবে কাজ করা মুসার সাথে কথা হলে মুসা সাগরের মৃত্যুর খবর জানায়। মুসা তখন দাবি করেন, সাগর অ্যাপার্টমেন্টে একাই ছিলেন। তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছিলেন। সাগরের মরদেহ মেঝেতে পড়ে ছিল বলেও মুসা জানান। একপর্যায়ে তিনি মরদেহ বাইরে নিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, মুসা সাগরের এক রুমমেটের কাছেও একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ওই রুমমেট তখন ওমরাহ পালনের জন্য মক্কায় ছিলেন। পরে জানা গেছে ওই ছবিতে সাগরের হাত ভাঙা অবস্থায় দেখা যাচ্ছিল।
ঘটনার পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় এসে ভাটারা থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সাগরের মরদেহের ময়নাতদন্তের দাবি জানানো হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় গত ২৫ আগস্ট একটি মামলাও করা হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। যার মামলা নম্বর ৪৪।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ চাঁদ মিয়া জানান, ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্ত আসামিকে আটক করতে থানার তৎপরতা চলমান।
সাগরের চাচা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আনোয়ার হোসেন সিপিএ বলেন, আমার ভাতিজাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। তার মৃত্যুর আগে ও পরে যোগাযোগকারী ব্যক্তিদের পাশাপাশি ঘটনার সময় অ্যাপার্টমেন্টে উপস্থিত সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন নারীসহ এজহারভুক্ত আসামীদের পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারলে ৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারও ঘোষণাও করেন তিনি।
এদিকে পরিবারের সদস্যরা জানান, গত প্রায় তিন মাস ধরে সাগর স্থায়ীভাবে চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি তার বাবা আবদুল মালেককে চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। ঢাকায় থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল কোথায় রাখবেন, সে বিষয়েও বাবার সঙ্গে পরামর্শ করেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। গত কয়েক মাসে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতও করছিলেন তিনি।
পরিবারের দাবি, সাগরের মৃত্যুর আগে ও পরের যোগাযোগ, অ্যাপার্টমেন্টে ওই সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন