https://www.prothomalony.com/

5746

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত্য

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৩ ০৮:৫৩

ফুটেছে আঙুলে আঙুরলতা 
পারমিতা 

 

আমার আঙুলে ফুটেছে আঙুরলতা,
মৌমাছি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়....
পাখিরা ডাকছে কেন শাখায় শাখায়
কেন মৌবন উত্তাল হয় !
আকাশের ফিকে আলো পাহাড়কে ফেলে
উজ্জ্বল অমরী খোঁজে 
অমরার পথ,
পলে অনুপলে। প্রহরায় থাকে দেবদারু ...
পাহাড়ী ফাটলে ভরে মায়াভরা সাঁঝ
আমার প্রক্ষেপে ওঠে উত্তাল জল...
জলের মধ্যে দেখি জন্মে তরুলতা।
স্তব্ধতা কেটে গড়ি কোন্ কারুকাজ,
মর্মর ঘিরে আছে কতো ছায়াগাছ !
আলো এ কি ! 
না কি, দিগন্তরে মাখা, ইন্দ্রনীল মণি!
সূর্য নয়, চন্দ্র নয়, সামনেই দেবীগুহা, চেনোনি?
গুহাহিত দ্বিভঙ্গ ঝিনুক, ছুঁয়েছে সৈকত
নিঃশব্দ অসহায়! আমারই নৌকো চলে
আমি তা দেখিনি । 
দেখিনি সূর্য অস্তাচলে,
শব্দহীন তরঙ্গহীন অনন্ত নভোতলে
একা চলে, 
একা নৌকো চলে অকূল অতলে....

 

বালুকণায় আলো, বৈদূর্য মনে হয়
আলো ঢালে, আলো ঢালে শীতল মোহন,
এ আলো বাইরে নয় । 
এ এক অন্য অন্বেষণ !

 

 

 

অপেক্ষায় থাকি 
দীপংকর গৌতম

 

তার হাত কাঁপে
প্রদোষ আলোর ভেতরে কাঁপে আহ্নিকগতি। তার হাত কাঁপে কাঁপে চার পৃথিবীর রোদ।


কেমন দাঁড়িয়ে আছি মধ্যষুগে নির্মিত চুন-সুড়কির ভবন
তোমার অসুখ- বিসুখ বুকে লয়ে দাঁড়িয়ে আছি---


আমিতো অমল - অপেক্ষা আমার নাম। ছুটিহীন প্রতিদিন  জলের ফোন বাজার অপেক্ষায় থাকি। অপেক্ষা শেকড় জমে জমে- আমি বৃক্ষ হয়ে যাবো


মাথায় তুলে নেবো মহাকাশ
ধানক্ষেত তবু গর্ভবতী হয়- জল পড়ে আকাশ ভেঙ্গে রাখাল ঘোষে ভাড় বাঁশ চতুর্গুণ ওজন হয়ে আমার কাঁধে আসে।


আমি চুন-সুরকির ভবন হয়ে
জীবনের ব্যর্থতা জড় শরীর নিয়ে তবু, জল ফোনের 

 

 

 

 

একটি রাতের দীর্ঘ নিঃশ্বাস 
আহমেদ ছহুল


শুকনো হাসি, ঝরা ফুলের মতো ছুঁড়ে দিয়ে
তুমি বসন্ত খোঁজ, বৃক্ষের শাখায়-শাখায়
দক্ষিণা বাতাসের ঢেউ খোঁজো পত্রপল্লবে,
জলহীন নদীতে প্রতীকী নৌকায়
ওড়াও মৌসুমী পাল।

 

বড় সাধ হয় আকাশের যত জমাট কান্না
মেঘ হয়ে ভাসে, তোমাকে দেখাই ,
কোকিলের বিরহগান তোমার কর্ণকুহরে
ধ্বনিত করি গুঁড়ি-গুঁড়ি বৃষ্টির মতো।

 

নির্বাক ফুলের সৌরভকে গর্বিত করি
প্রগাঢ় প্রভাত চুম্বনে ।

 

 

 

 

প্রেম জীবনের রাগ সঙ্গীত 
দর্পণ কবীর



পুরুষ:
দুঃখগুলোর নাম দিয়েছি 'দেবদাস', কষ্টগুলোর নাম 'মজনু'। 
তোমার নাম পার্বতী রেখে আমার যত দুঃখ-কষ্ট 
মহাকাশের কক্ষেপথে লাবণ্যছটা বানিয়ে দিতে চাই।  

 

নারী:
আমি তোমার দুঃখগুলোর অবগুণ্ঠণ খুলে 
তুলে নেব ভার, কষ্টগুলো দিয়ে আকাশে রংধনু এঁকে দিব।
যখন তুমি বসন্ত খুঁজে প্রলাপ বকবে তখন বলে দিব 
পার্বতীর প্রেমের অতল কতটা পুড়েছে, কতটা দহন জমকালো! 
বলতে পারো, প্রেম যদি স্বর্গ থেকেই আসে তবে 
দেবদাস কেন থমকালো?

 

পুরুষ:
দেবদাস প্রেমকে মহিমামণ্ডিত করতে চায়নি, তবে
বিসর্জনের মহত্ব ছিল প্রেমে। এমন প্রেম বিমূর্ত 
ছবি হয়ে থাকে স্বর্গের দেয়ালে! 

 

নারী:
তার মানে, প্রেম স্বর্গ থেকে নেমে আসা জীবনের রাগ সঙ্গীত!

 

 

 

 

ভাবনার ভ্রূণে বৃষ্টির কনভয় 
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী 



একটা ভোর বৃষ্টিস্নাত, সুরসিম্ফনি সমেত কবিতাময়
চাতকমুখো, রাত্রি জাগার ক্লান্তিঝরা আষাঢ়ে ঠোঁট 
একটা ভোর বকুলগন্ধা, রুপো বিছানো সাহচর্য
মিষ্টি নরম কল্লোলিত, স্বশিক্ষিতা হাওড় বধূ 
একটা ভোর নিপুণ বোধের শালুক ফোটা শান্ত সকাল
পরাগরেণুর সুবাসমাখা, হৃদয়গলা ঝরো-ঝরো তান
একটা ভোর সুরমার মতো স্রোতস্বিনী, উপচে পড়া ঢেউ
জল-তরঙ্গে উজান নদীর অমোঘ সখ্য
একটা ভোর রংধনু চোখ, নারীর মতন স্নিগ্ধ কোমল
মধ্যরাতে চুমুকজলের গন্ধ লাগা মদিরায় বিভোর 
একটা ভোর চঞ্চল মুখর, বসন্তের ডানামেলা বিকেল 
অনুক্ত প্রেমের উষ্ণ দুপুর
একটা ভোর—
টলোমলো অন্তরীক্ষ, ভাবনার ভ্রূণে বৃষ্টির কনভয়। 

 

 

 

 

বিস্মৃতি ও স্মৃতি
রোমান জাহান 

 

বিস্মৃতি  

 

যখন কিছুই মনে পড়ে না-
কিশোর আকাশ,অনুতপ্ত দুপুর 
গোধূলির ঘটনা
ভুলে যাওয়ার অরণ্য-মর্মর
জীবন-যাপনের ভেতর
কেবলই অনুশোচনার বিষয়
জানায়
স্মৃতিরা মানব-জীবনের নয়।

 

স্মৃতি 

 

তোমার স্মৃতিতে 
রোদ মরে যায়
গোধূলির আলো-ছায়ায়
রাত্রির অশরীরী ছোবল
কবেকার কৈশোরের জল
আঁধারের নীচে নদীর ঠোঁটে
অন্ধ জোনাকির চোখে
লোভী ও মাতাল হয়ে উঠে।

 

 

 

 

তোমার আলোয় একটি ফুল 
লুবনা কাইজার 

 

যদি তোমার আলোয় কবিতার একটি ফুলও ফোটে 
যদি একটি কবিতা তারা হয়ে ওঠে 
আকাশের ঐ দূর নীলিমায় ,
তবুও তুমি আছো আমাদের মায়ায় 
আমরাও আছি কবি তোমারই ছায়ায়।


যদি পাহাড়ের বুকে,
কবিতার একটি বৃষ্টিফোঁটাও ঝরে 
তবুও কবি তোমাকেই মনে পড়ে !


যদি ভোরের শিশির একটি কবিতাও আঁকে ,
যদি একটি কবিতাও জন্ম নেয় নদীর বাঁকে 
তবুও জানবো কবি তুমি আছো বাংলায় 
আমরা আছি বটগাছের সেই ছায়ায়!


যদি আকাশের সব তারা থেকে 
একটি তারাও কবিতা হয়ে ঝরে পড়ে
পৃথিবীর বুকে ,
তবুও জানবো কবি তুমি আছো 
আমাদেরই দিকে।

 

 

 

 

অপেক্ষা 
চন্দনকৃষ্ণ পাল

 

 

তোমার এই ছিদ্র খোঁজার স্বভাব দেখে
বিচলিত হতে আমার ইচ্ছে করে না তো।


নিঃশব্দ নরকের কাছে চলে এসে বুঝে গেছি
ফেরার পথ নেই,বন্ধ হয়ে গেছে সিংহদ্বার
খিড়কি পথেও আজ প্রবল পাহারা।


কী যে কুক্ষণে এই স্থলভূমে রেখেছি দু'পা
চারপাশে নোনা জল হা করে গিলে খায়
স্বাদু মাটি আর যতো সব সবুজ চত্বর।


ভাঙনের শব্দ শুনে দুচোখের পাতায় আর ঘুম নেই
খোলা আকাশের বুকে তারাদের নিষ্পাপ চেহারায়
কোন উদ্বেগ নেই
নিজেকে শান্ত রেখে চোখ বুজতে গেলেই দেখি
বিভীষিকা মানে তুমি!
ভেসে যাবার অপেক্ষায় কাটে বর্ণহীন দিন।

 

 

 

 

র্যাভেনউড ম্যানরে একদিন 

এইচ বি রিতা

জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে থাকা ভিক্টোরিয়ান যুগের প্রাসাদ র্যাভেনউড ম্যানরের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। প্রাসাদের আশেপাশের মাঠগুলিঅতিবৃদ্ধ, পেঁচানো গাছ এবং ঘন কুয়াশায় আবৃত্ত। টিপটিপ পায়ে প্রাসাদের ভেতর ঢুকতেই  বিবর্ণ ওয়ালপেপার দিয়ে সজ্জিতপ্রাসাদের দেয়ালগুলি চোখে পড়লো। ছাদ থেকে জাল ঝুলছে, মনে হচ্ছে বছরের পর বছর তারা অবহেলায় পড়ে আছে। ঘরগুলোধুলোর চাদরে ঢাকা, প্রাচীন আসবাবপত্রে ভরে গেছে যেন সময় নিজেই ঘরের দেয়ালের মধ্যে জমাট বেঁধেছে। অস্পষ্টভাবেআলোকিত ঝাড়বাতিগুলো ঝিকিমিকি করে ছায়া ফেলছে মেঝেতে। আমার অস্বস্তি বাড়তে শুরু করেছে। 

হঠাৎ একটি বিশৃঙ্খল এবং অস্থির শব্দের ক্যাকোফোনি শুনতে পাচ্ছি। শব্দেরা যেন একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে।শব্দগুলির উচ্চ-পিচের চিৎকার কান ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে। একাধিক কণ্ঠস্বর ভয়ঙ্কর ও অসংলগ্ন মনে হচ্ছে। এ যেন কানের উপরসংবেদনশীল একটি আক্রমণ যা আমার শ্রবনশক্তিকে ধ্বংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আমার শরীরে এখন কাঁপুনি শুরু হয়েছে। 

খালি করিডোরের মধ্যে কিছু একটা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে, একটি অজানা শব্দ। দরজা-জানালাগুলি রহস্যজনকভাবে খুলছে আবারবন্ধ হচ্ছে। ফিসফিস করে কার ধ্বনি শুনতে পাচ্ছি? কোথা থেকে আসছে দুর্বোধ্য কথাগুলো? কেমন যেন একটা ভূতুরে পরিবেশতৈরি হচ্ছে। হঠাৎ বাতাস যেন বাইরে চিৎকার করতে শুরু করলো। সাথে পেঁচার চিৎকার একটি ভয়ঙ্কর সুর তৈরি করছে। লক্ষ্যকরছি ওয়ালপেপারের মধ্যে গাঢ় দাগ, যেন দেয়ালগুলিকে রক্তপাত করছে। আয়নাগুলিতে ভয়ংকর বিকৃত কিছু চিত্র দৃশ্যমানহচ্ছে, যেন আমার দৃষ্টিসীমার বাইরে লুকিয়ে থাকা অদ্ভুত কিছু জেগে উঠতে শুরু করেছে। 

উত্তেজিত আত্মারা এখন লবিতে ঘুরপাক খাচ্ছে, তারা যেন তাদের মর্মান্তিক গল্পগুলি আমাকে জানাতে চাচ্ছে। আমি লুকানোরচেষ্টা করছি। কিন্তু কোনো গোপন কক্ষ খুঁজে পাচ্ছি না। বের হতে চাচ্ছি, কিন্তু দরজাগুলো সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একে একে।  এমনভূতুড়ে প্রাসাদের মধ্যে আমি কী করে এলাম? 

ভয় আমাকে পেয়ে বসেছে। প্রাসাদের প্রতিটি শব্দ প্রসারিত হচ্ছে. প্রতিটি ছায়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে। হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন স্পষ্ট হয়েওঠছে। শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত এবং গভীর হচ্ছে। শরীরের পেশীগুলো যেন কুণ্ডলী পাকিয়ে ভয়ের একটি অপ্রতিরোধ্য অনুভূতি জানানদিচ্ছে। এবার সত্যিই শরীরে ঘাম ঝরতে শুরু করেছে। 

আমি চিৎকার করে ডাকছি, মা! মা! 

কিন্তু কোনো সাড়া পেলাম না। 

হঠাৎ ঘাড়ের পিছনে চুলের কাছাকাছি কারো শ্বাস টের পেলাম। মনে হলো নাক দিয়ে কেউ আমার চুলের ঘ্রাণ নিচ্ছে। দ্রুত ঘাড়ঘুরাতেই, নিজের ছায়া ছাড়া আর কিছু দেখতে পেলাম না। 

প্রাসাদের ভেতর কিছু অস্পষ্ট ঝাড়বাতি ছাড়া সূর্য, আলো বা অন্য কোনো আলোকিত বস্তু নেই। তবে ছায়া কোথা থেকে এলো?

দেয়ালের বুকে ধরে রাখা আয়নাটির দিকে ফিরে তাকালাম। নজরে পড়লো, ঝুলন্ত আয়নার বস্তুটি, নিজের একটি নিখুঁতপ্রতিফলন।  ডিম্পল, ঠোঁট, সরু নাক এবং ক্লান্ত চোখ দুটো দেখতে পেলাম। গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ভেঙে আছে বুকের পাঁজর, টাইটেনিয়াম যন্ত্রটি ধরে রেখেছে ফ্লেইল চেস্ট। মনে হচ্ছে  যেন আয়নাটি আমার ভেতরের লুকানো সব গোপন তথ্যগুলোসঠিকভাবে অনুলিপি করছে এবং সেগুলি আমার চোখের সামনে এই প্রথমবার সংযুক্ত করার চেষ্টা করছে। 

তারপর আয়নার  প্রতিচ্ছবিটি আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো। আমি হিম হয়ে গেলাম কিছুক্ষণের জন্য। ভয় আরসন্দেহের ক্ষুদ্রতম অনুভূতি আমার মনের শক্তিকে দখল করে নিতে চাচ্ছিল, আয়নার প্রতিচ্ছবি আমার মস্তিষ্ককে প্লাবিতকরছিল। 

পরমুহূর্তেই ভেতরের এক অজানা অচেনা শক্তি আমাকে জানান দিলো, ভয় পেলে চলবে না! আয়নার প্রতিচ্ছবির বিরুদ্ধে রুখেদাঁড়াতে হবে। এ কেবল এক বিভ্রম যা দৃশ্যমান নয়। 

সকল ভয় পদতলিত করে আমি আয়নার দিকে এগুলাম। সেই অদ্ভুত হাস্যোজ্জ্বল মুখের কাছে ধীরে ধীরে পৌঁছাতে থাকতাম।শরীর কেঁরে কেঁপে অসাড় হচ্ছিল। তবু আয়নার কাছাকাছি পৌঁছুলাম। মধ্যমা আঙুলে আয়নাটি ছুঁয়ে দিলাম। আমার শরীরতখন কাঁপছিল। মনে মনে বিড়বিড় করতে থাকলাম, না!  এটা সত্য না! সত্য না! 

-ইরা! ইরা! মা কী হয়েছে? এই যে আমি এই যে আমি! 

চোখ খুলতেই দেখি মা আমার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিচ্ছেন আর চিৎকার করে ডাকছেন। 

-কিছু হয়নি মা। আমি ঠিক আছি।

-আবারো সেই দুঃস্বপ্ন? ভুলে যাও মা। এসব মনে রাখতে নেই। 

-আচ্ছা মা। ভুলে যাবো। তুমি এখন ঘুমাও। আমিও ঘুমাবো। 

জানি, মা আজ রাতে আর তার কক্ষে ফিরবেন না। তিনি বালিশ নিয়ে আমার পাশে শুয়ে পড়েছেন। গায়ে কাঁথা টেনে আমিওঘুমাতে চেষ্টা করছি। কিন্তু আমার শরীর তখনো কাঁপছে। ঘাম ঝরছে।

মনের গহীনে এক ভূতুড়ে ঝড় বয়ে যায় প্রায়শই যেখানে অতীতের বেদনা আর যন্ত্রণার প্রতিধ্বনি জমা হয় ক্ষণে ক্ষণে।ট্রমার সেইভঙ্গুর আত্মা, পিষ্ট করে যায় আমার দিনের আলো, রাতের আঁধার। রাতের নিস্তব্ধতায় স্মৃতিরা জেগে ওঠে ভূতুম পেঁচার মতো।ফ্ল্যাশব্যাকে হামাগুড়ি দেয় নিষ্ঠুর রাক্ষস। আতঙ্ক চিরস্থায়ী মেহমানের মতো উপস্থিত হয়, বোধশক্তি  ম্লান হয়ে যায়। এ একভেতরের জটিল লড়াই যেখানে যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হয় আত্মা, আহত হয় আমার শক্তি। ভয় আঁকড়ে ধরে হৃৎপিণ্ড, স্পন্দন হারিয়েউদ্বেগের ফিসফিসে শ্বাসরুদ্ধ হয় আমার চেতন। মনের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ে যাই প্রায়শই। আর তখন পৃথিবী হয়ে ওঠেপ্রতিকূল, একটি বিপজ্জনক জায়গা। প্রতিটি শব্দ, দৃষ্টি, গতিকে ত্বরান্বিত করে। 

ঘুমের মাঝে দুঃস্বপ্ন আমাকে আক্রমণ করে যখন তখন, বিশ্রাম থেকে আমাকে টেনে হিঁচড়ে জাগ্রত করে দেয়। আমি ভুলে যাই, আমি কে ছিলাম, আজ আমি কে! 

আর এই অন্ধকারের মাঝেই আলোর ঝিলিক হয়ে লড়াই করার সাহস জোগাতে, মা আমার পাশে বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েনপ্রতিটা দুঃস্বপ্নের রাতে। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন