https://www.prothomalony.com/
5719
literature
কটন কাকা ইর্দানিং টিভিতে সংবাদ শুনতে গেলে ভয়ে থরথর করে কাঁপে। সে খারাপ কোন খবর শুনলে কেমন যে করে। তার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায় আর মনটা ভারী করে মাথায় হাত দিয়ে কোথায় ও বসে থাকে এবং সৃষ্টিকর্তা কে ডাকে আর জোরে জোরে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে । তার অভ্যাস সে সকালে উঠে কমপক্ষে চার পাঁচটা পএিকা পড়বে। সে সংবাদ পএের খারাপ কলাম দেখলে প্রথমে বাচ্চাদের মত ওরে আল্লাহ বলে উঠে । তারপর একই কলাম একাধিক বার পড়ে। দুঃখ করে বলে উঠে হায়রে দুনিয়ায় এসব কি হচ্ছে? কিভাবে একটা বাস নদীতে পড়ে এত লোক মারা গেল? আহারে বাসটি যখন নদীতে পড়ে ডুবে গেল যাএীরা প্রাণে বাঁচার জন্য কত চেষটা যে করেছিল। যারা মরে গেল তাদের নিয়ে তিনি কত যে দুঃখ করেন। তাদের পরিবার কে দেখবে? কিভাবে এই অকাল মৃত্যু তাদের পরিবার সহ্য করবে? তিনি একাই প্রশ্ন করেন কিভাবে ড্রাইভার গাড়ি চালায়? অদক্ষ ড্রাইভার কেন গাড়ি চালাতে আসে? ফেরি ও নৌকা ডুবে মানুষ মরে যাওয়া একটা মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে । প্রায়ই তো সংবাদ শোনা যায় ফেরি ডুবে বা নৌকা ডুবে অনেক লোক মরে গেছে। মরা লাশ ভেঁসে উঠে নদীতে। কত লোক কত আহাজারি করে। এসব দেখে কটন কাকার চোখ দিয়ে পানি পড়ে । তিনি আর এসব সংবাদ দেখতে চান না।তিনি ভাল সংবাদ আশা করেন। তিনি বলেন খারাপ আবহাওয়া হলে প্রয়োজনবোধে ফেরি ও নৌকা চলাফেরা করবে না।প্রয়োজনের অতিরিক্ত যাএী নৌকায় উঠতে পারবে না। আর যেন কোন যাএী ফেরি ডুবে বা নৌকা ডুবে না মরে। ঈদের সময় কত যে সড়ক দুঘর্টনা ঘটে । একবারে কেন এত লোকের আসতে হবে। যাদের সুযোগ আছে তারা ঈদের অনেক আগেও গ্রামের বাড়িতে আসতে পারে। কটন কাকা আর শুনতে চান না ঈদে বাড়ি আসতে সড়ক দুঘর্টনায় লোক মারা গেছে। প্রতিবন্ধি লোক দেখলে সে তার জন্য কত দুঃখ যে করে । বলে আহারে লোকটার একটা পা নাই, বা লোকটার একটা হাত নাই। আবার সিনিয়র সিটিজেনেরা যখন ওয়াকের ভর দিয়ে হাঁটে দেখে সে কত দুঃখ করে। কটন কাকা খুবই আবেগ প্রবন মানুষ। কারো কান্না দেখলে তিনি কেঁদে দেন। একবার পানিতে পড়ে একটা বাচ্চা মারা যায়। সে বাচ্চা টাকে দেখতে গিয়ে কত যে হাউমাউ করে কাঁদেন। অন্যদের কাঁদা দেখে তার চোখে পানি এসে যায়। কারো ভালো সংবাদে তিনি হন মহাখুশি। একবার তার গ্রামের স্কুলের অনেক ছাএ এ প্লাস পেয়েছিল তিনি খুশি হয়ে নিজে টাকা খরচ করে মিষ্টি কিনে তাদেরকে খাওয়াই ছিলেন এবং এই সাফল্যতার জন্য তিনি সবার জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে দোয়া করেছিলেন। যদি শোনে কোন ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্হ হয়ে হাসপিতালে আছে তাদের জন্য নামাজ কালাম পড়ে দোয়া করেন। আর যদি শোনেন কোন লোক রোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন তিনি কত যে খুশি হন এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন। সংবাদপএে তেমন ভাল সংবাদ পাওয়া যায় না। সব কিছুর দাম হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে । মানুষ আয়ের সাথে ব্যয়ের সামজ্ঞস্য করতে পারছে না।
ভাই ভাই তে মিল মহব্বত নাই। ঝগড়া ও মারামারি একটা নিত্যনৈমেওিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়ে । যোগ্য জায়গায় অযোগ্য লোকের ছড়াছড়ি। আইন শৃংখলার অবনতি। কত কঠিন চ্যালেজ্ঞিং হয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবন দিনে দিনে। মানুষের মধ্যে অশান্তি এসে বাসা বেঁধেছে। মানুষ আর মানুষ কে বিশ্বাস করতে চায় না। মানুষ বলে এক আর করে আর এক। মানুষের কাজ কর্ম দেখে মনে হয় তারা অমানুষ হয়ে গেছে। কে কাকে ফাঁকি দিবে? কে কাছে ক্ষতি করবে? কিভাবে মিথ্যা বলা যায় এগুলো মানুষের মধ্যে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ একেবারে বির্বেকহীন হয়ে যাচ্ছে ।
আজ আর তেমন ছোট বড় মানে না। সব কিছুতে কেমন যেন একটা ধস নেমেছে। কটন কাকা এই খারাপ সংবাদ আর দেখতে চায় না। তার কথা হলো একে অপরে আমরা ভাই ভাই, ঝগড়া বিপদ করতে নাই। সেও সক্রেটিস এর মত বলে যে ন্যায় জানে, ন্যায় কি সে কখন ও অন্যায় করতে পারে না। আজ টেকনলোজি এত উন্নত । আজ সারা বিশ্ব মানুষের হাতের মধ্যে আর মানুষ বিবেকহীন হয়ে গেছে। কটন কাকার কথা হলো যদি তোমার দ্বারা মানবতার উপকার না হয় তাহলে তুমি কিসের মানুষ? তার কথা হলো মানুষ কেন মানুষ কে আঘাত করবে? মানুষ কেন একে অপরের সমালোচনা করবে, পঁচা কথা বলবে । মানুষ যদি সৃষ্টির সেরা হয় তার কাজ কর্ম ও হবে সেরা। অনেক সময় প্রাণীর ভালবাসা দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। সেদিন তিনি দেখেন এক কৃষক তার গরুকে যেই বলছে দাঁড়া গরু অমনি দাঁড়া গেছে। প্রাণী এত প্রভু ভক্ত । আর মানুষ মানুষের কথা শোনে না। মানুষ অনেক ক্ষেএে এমন কাজ করে তাকে মানুষ ভাবতে অবাক লাগে। কটন কাকার মুল কথা হল সে কাউকে নিন্দা করতে চায় না সে চায় ভাল সংবাদ যা শুনে ভাল লাগে,মন সতেজ হয় এবং মুখে হাঁসি বের হয়। তার কথা হল মানুষ দাঁড়াবে মানুষের পাশে। ভাল সংবাদে ভরে থাকবে সংবাদ পএের পাতা। মানুষ যৌথ ভাবে চেষটা করে পৃথিবী কে আরো এক ধাপ সামনে এগিয়ে নিবে। সুন্দর পৃথিবী হবে বসবাসের যোগ্য । হানাহানি, মারামারি ও কাটাকাটি হবে পৃথিবী থেকে চিরতরে বন্ধ ।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন