https://www.prothomalony.com/
5658
literature
বাংলাদেশ ও উত্তর আমেরিকার আটজন কবির কবিতায় প্রকাশিত হলো প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা আয়োজিত বাংলা কবিতার বিশেষ মাসিক আয়োজন কবিতার এক পাতা— জুলাই সংখ্যা। নিউইয়র্কে চলছে বত্রিশতম বাংলা বইমেলা। বইপ্রেমী, কবিতাপ্রেমী, পাঠক ও লেখক সমন্বয়ে চাঁদের হাট বসেছে। সদানন্দের মেলায় বিরতিহীন চলছে সাহিত্যের আসর। এ সংখ্যাটি যখন পাঠকের হাতে, ততক্ষণে বইমেলা থাকবে না, তার রেশ থেকে যাবে। বইমেলা, বই, লেখকদের নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে।
কবি, লেখক ও পাঠকদের সকলকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা! পড়ার আমন্ত্রণ 'কবিতার এক পাতা'।
লাটিম
বিমল গুহ
আমাকে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছো ঝড়োমেঘ
কী পরীক্ষা নিতে চাও ? -নাও।
আকাশে রোদের রঙে
হেসে ওঠে দীপ্ত মহাকাল
দূরে ওই উল্কাবৃষ্টির মতো ধাবমান স্ফূলিঙ্গ—
তারকামণ্ডলী
আমাকে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছো এইবেলা ?
আমার চারপাশ দেখো বরফাচ্ছাদিত প্রান্তর
ঠাণ্ডার প্রকোপ— আহা
হুমড়ি খেয়ে পড়েছে প্রত্যুষে সবখানে !
এখন দুপুর
বরফের কুচি-আঁকা মধ্যদুপুর
রোদের বর্ণালী যেন লাফিয়ে পড়ছে রাস্তায়;
শশব্যস্ত মধ্যদুপুর
মাথা কুটে
ঝিমধরা লাটিমের মতো একা চেনা আঙ্গিনায়।
অকারণ খরচ একটা জীবন
ফারুক ফয়সল
অকারণ খরচ হলো একটা পুরো জীবন
চল্লিশ ষাট সত্তর, কি এসে গেল তাতে
যার যাবার তারই যায়, সময়ও একদিন ফুরায়!
ছ' দশকেই চোখের সামনে ঘটে গেল কত কিছু
মানুষ একদিন চাঁদের গায়ে উড়িয়ে দিল বিজয় কেতন
মঙ্গল হবে দ্বিতীয় আবাস, এই লক্ষ্যে উপর্যুপরি চলছে অভিযান!
কত সহস্রবার অতিকায় সূর্যটাকে প্রদক্ষিণ করে এলো পৃথিবী,
কতজন অহেতুক পেলেন শান্তিতে নোবেল,
বোকার হদ্দরা বোঝেনা, ব্যাঙ্কহিসাব মোটা হলে মানুষ মহামানব হয়!
মন্বন্তর, মহামারী তারাও ছিল, সভ্যতাকে নাড়িয়ে দিল আতঙ্ক ও ত্রাসে
তবু মানুষ ওঠে জেগে, দেয় ছুট, পুনরায় প্রতিযোগিতার খেলা
আমারই কেবল শরীরপাতন, মন্ত্রসাধন হলো না!
নিজেকেই নিজে বারংবার করে গেছি খুন
অকারণেই ঝরে গেল দূর্লভ এক মানবজীবন!
সবুজে জাফরানের চূর্ণ মেশা মেরুজ্যোতি
মঈনুস সুলতান
সামনে বেলেপাথরের বিপুল কালডিসেক— শেষ হয়েছে পথ এখানে
ঝিঁঝি ডাকা নিশীথের নির্জনে— নীরবে চলে যাওয়াই ভালো
পান্ডুরাভায় ক্রমশ মিটে যাচ্ছে যে বর্ণ—তাকে মুছে ফেলা খারাপ কিছু নয়,
মেঘাচ্ছন্ন অপরাহ্ণে ফুটে কী ভোরের নওল আলো—
সহজিয়া প্রাপ্তির সাথে মিশে আছে সবকিছু হারানোর ব্যর্থ পরিণয়;
পাথর, ঋতুচক্র কিংবা নীহারিকা কিছুই নয় অবিনশ্বর—
এগিয়ে যাও খানিক —পেরোতে হবে সাঁকো— ওপারেও আছে জেনো পৃথক ঘর।
চুনকামে ঝুরঝুরে হয়েছে যে দালান— করো না তো পন্ডশ্রমে তা সংরক্ষণ
খরায় পুড়েছে অংকুরের সাবুজিক দ্রোহ
সমাপ্তি পরও তবে কী থেকে যায় তৃষিত মোহ—
সেঁচে খুঁজো না সুরাহা— পল্লবিত হবে না ফের কাংঙ্খিত জলপাই বন;
চাইলেও যায় না রাখা কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি,
আটঘাট বেঁধে বেরিয়েছো পর্যটনে— আইসল্যান্ডের প্রান্তিকে
হয়তো আজ যাবে না দেখা সবুজে জাফরানের চূর্ণ মেশা মেরুজ্যোতি
নাইটিঙ্গেল পাখি
হেনরী স্বপন
চারপাশে এতো সার্কাসের করতালি,
ভিন্নস্বর নেই ভল্লুকের পশমেই সব মুখ ঢাকা পড়ে আছে ;
খনার বচন বলে কথা ও শব্দের মাঝে হাইব্রীড বীজ
বুনছে কৃষক, শেওলার মতো ফসলি স্বপ্ন নেই
ফসলের মাঠে।
পুঁইয়ের ডাটার মতোন গুমোট জীবন দোল খায়
পরশ্রী বাতাস...!
আতায়ি ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া ক্রমশ বাড়ছে,
বাড়াবাড়ি করছে নগর; জঙ্গি জলাবদ্ধতাও অন্ধকারে
অসংলগ্ন করাঘাত কুঠারের,
সারি সারি গাছ কেটে অর্জুনের বাকল তুলে নিচ্ছে
বন বিভাগের প্রকল্প মাফিক আয়ে
ক্ষুধার্ত মাছির ওড়াউড়ি;
মানুষ অথবা বৃক্ষের চারপাশে উড়ছে নাইটিঙ্গেল পাখি।
লাজুক, গোবেচারা দুঃখগুলো
মনিজা রহমান
বেজায় দু:খ ছিল আঁকাবাঁকা হাতের লেখায়
পত্র লিখতে সংকোচ ছিল যে কারণে,
দু:খ ছিল হাতে মেহেদীর রঙ
গাঢ় হয় না বলে!
আবছা আলপনা আঁকা হাত ধরে
একদিন সে বলেছিল-
'আমার মতো কেউ ভালোবাসবে না কখনও!'
তার অভিশাপ ফলে গেলো কানায় কানায়,
কেউ ভালোবাসল না তারপর
চোখে কেউ রাখল না চোখ
কিংবা রাখলেও ফিরিয়ে নিলো দ্রুত!
আমার সব দু:খগুলো বড় ম্রিয়মান
গোবেচারা, লাজুক ধরনের;
পরপর দু:খগুলো সাজালে কয়েক মাইল হতে পারতো
কিন্তু একটা কষ্টের সমান হল কই?
শেষ পাতা
আল ইমরান সিদ্দিকী
কী এক মহাজগৎ! তার দিকে হাত
বাড়ানোর প্রতিটি ভঙ্গি নাচেরই ভঙ্গি।
'প্রতিটি দিন আনন্দে ভরে উঠুক'-
সবার জন্য এই আমাদের সরল
চাওয়া। তাও কান্না আছে। নিজের
কান্না নিজেরই পায়ে এসে ঝরে; বসে
থাকা শুধু নিজের শরণ চেয়ে। পাতার
উপর পোকার ধ্যান দেখেছি। প্রকৃতি ও
শান্তি চিনেছি। যে ঘূর্ণি জীবন ঘোরায়,
সেও তো চায় না বিচ্ছিন্ন থাকার শোকে
আমরা কাঁটাতারে মুখ রাখি; শুধু যেন
আঙুল রেখে ডুকরে উঠি! শূন্যে বিরাট
কমলা বেলুন; টিপটিপ করে বৃষ্টি
পড়ছে-আজকে আমরা কতইনা
হাসিখুশি; নিজেদের মেলে ধরলাম,
মেলে ধরলাম হাজার শব্দে। আসলেও
তাই!- জীবন ডেকে নেয় থেকে থেকে
লাফিয়ে ওঠার নাচে!
তোমাদের হিসাব বুঝি না
হাবিব ফয়েজি
অথচ বিকেলের দেয়ালে হেলান দিয়ে তোমরা-
মিথ্যে বড়াই করছো আপন অজ্ঞতায়
সকল নির্মাণ আজ অবলীলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে
আর নির্মাতারা অনড়; যেন নির্বাক কাঠের পুতুল
ইশারায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জাগতিক তামাম উপাখ্যান!
অথচ তোমরা এখনও হিসাবনিকাশ করছো
তোমাদের মাঝে কে বড়ো আর কে ছোটো
তোমরা কি বোঝ না
তোমাদের এসব পাগলামি দেখে
একজন দূর থেকে শুধু হাসছে...
চৈত্রদিনে
মণিকা মুনা
আজ তোমাকে নির্লিপ্ত চাঁদ হাতে রাত্রি আনতে বলিনি
কালো তিলখানি আয়না হোক বিবিধ নকশার
দৃশ্যপট পালটে গেছে- আবার বলছি
শিউলি তুষার ফেলে চলে গেছে সকালের ট্রেন,
ঝাউবনে দোলনা ছিলনা বলে অভিমান স্থির থেকেছে
এইবার আর চোখ থেকে তন্দ্রা মুছিনি
শীতের বাতাসে বরং লিখেছি
জলোচ্ছ্বাস
দৃশ্যপট উলটে গেলে, দেখ
বনবেড়ালের ঠোঁটে
রক্তের বদলে লেগে থাকে সবুজ শান্তি!
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন