https://www.prothomalony.com/
5651
bangladesh
১৫ জুলাই শনিবার জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানকে হেনস্তা করার অভিযোগে ১৫ জুলাই শনিবার সকালের দিকে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে প্রবাসী বাদল মির্জার গ্রামের বাড়িতে হামলা করেছেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। বাদলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
হামলাকারীদের বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয় নাই । তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আকবর বলেন, ‘বাদল দেশে থাকার সময় রাজমিস্ত্রি (নির্মাণশ্রমিক) হিসেবে কাজ করত। ২০১২ সালে সে দক্ষিণ আফ্রিকায় যায়। আফ্রিকা থেকে আমেরিকা গেয়েছিল বলে শুনি। আমেরিকায় গিয়ে নিজের নামের সাথে মির্জা পদবি ব্যবহার করে বাদল থেকে বাদল মির্জা হয়ে যায়। দেশে তার বাবা-মা ও বড় ভাই হাসানুজ্জামান বিপ্লব থাকে। শামীম ওসমানের ঘটনার প্রতিবাদে সকালে ছাত্রলীগের কয়েকজন বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মী তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে লোকের মুখে ও ফেসবুকে দেখেছি। হামলার সময় বাদলের পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিল না।’
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২ জুলাই স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র সফররত শামীম ওসমানের সঙ্গে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও পরে তাঁকে হেনস্তার চেষ্টা করেন সোনাইমুড়ীর বাদল। সেই ভিডিও-ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনার সঙ্গে সোনাইমুড়ীর বাদল জড়িত—এটি শনাক্ত হওয়ার পর স্থানীয় ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর সূত্র ধরে আজ সকালে সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল নিয়ে বাদলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।
ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সুজন বলেন, ‘একজন আওয়ামী লীগের নেতাকে এভাবে অপমান করা মানে আমাদের দলকে অপমান করা। আমরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছি। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সকালে আমি ও আমাদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল উদ্দিনসহ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা প্রায় ৫০-৬০টি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রথমে বাদলের বাড়ির সড়কে ও সামনে বিক্ষোভ মিছিল করি। পরে প্রায় ৩০ জন নেতা-কর্মী তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তবে বাদলের ঘরে তালা লাগানো ছিল এবং পরিবারের কেউই ছিল না। পরে লোকজনের কাছ থেকে আমরা জানতে পারি, আমাদের বিক্ষোভ মিছিল দেখে তারা ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে। নেতা-কর্মীরা কয়েকটি পটকা ফাটিয়েছে, এর বাইরে আর কিছু হয়নি।’
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাদলদের ঘরের বাইরে লাঠি দিয়ে আঘাত আর কিছু পটকার বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ আমাদের কিছু জানায়নি।’
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন