https://www.prothomalony.com/
5604
bangladesh
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৩ ০৫:৪৪
৯ জুলাই রোববার জাপানে ‘আর্থ আইডেন্টিটি প্রজেক্টস’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে ‘থ্রি–জিরো ক্লাব’ শীর্ষক এক সংলাপ অনুষ্ঠানে আয়োজিত হয়েছে এবং এই সংলাপ অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
'থ্রি-জিরো ক্লাব’ গড়ে ওঠে বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত তিনটি বিষয় সম্পূর্ণ বর্জনের আহ্বান জানিয়ে। এ বিষয়গুলো হলো কার্বন নিঃসরণ, বর্জ্য ও বেকারত্ব। এসব শূন্যে নামিয়ে আনতে সক্ষম হলে বিশ্বের জন্য সমৃদ্ধির দুয়ারই কেবল উন্মোচিত হবে না, একই সঙ্গে আগামীর বিশ্ব হবে বাসযোগ্য। গড়ে উঠবে এমন একটি পৃথিবী যেখানে সবাই এর সুফল ভোগ করবেন।আর্থ আইডেন্টিটি প্রজেক্টস মনে করে, মহৎ এ ধারণার ভিত্তিতে পৃথিবীকে গড়ে তুলতে পরবর্তী প্রজন্মকেই এর সঙ্গে যুক্ত করা দরকার এবং এ কারণেই উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের এর সঙ্গে জড়িত করে মতবিনিময় ছাড়াও এ সম্পর্কিত নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মিত করে আসছে সংগঠনটি। তেমন একটি অনুষ্ঠান ছিল টোকিওতে ৯ জুলাই রোববারের আয়োজিত সংলাপ। জাপানের বিভিন্ন প্রান্তের চারটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত চারটি দল সেখানে সমবেত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের মূল বক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সমস্যা থেকে বিশ্বকে মুক্ত করতে হলে যা কিছু করণীয় সে বিষয়ে নিজের অভিমত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীরা এরপর নিজেদের প্রকল্পের বর্ণনা দেয় এবং প্রতিটি প্রকল্পের বর্ণনার শেষে ড. ইউনূস এর ভালো-মন্দ দিক নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করেন। এর বাইরে অনুষ্ঠানের শেষে সমবেত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে করা নানা প্রশ্নের উত্তরও তিনি দিয়েছেন।
ড. ইউনূস জিরো থ্রি ধারণার ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রবণতা নিয়েও তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তাঁর মনে দেখা দেওয়া সংশয়। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতিকে স্বাগত জানালেও এই বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের লাগামহীন অগ্রযাত্রা নিয়ে আশঙ্কা ও নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
ইউনূস বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি কতটা হওয়া উচিৎ এখনই তা নির্ধারণ করা দরকার। এটা করতে না পারলে আগামীর বিশ্বে সব কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কবজায় যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে। এতে মানুষ যে শুধু বেকার হয়ে পড়বে তা–ই নয়, একই সঙ্গে প্রযুক্তির দাসে পরিণত হওয়ার একটি পরিস্থিতিও মানুষের সামনে দেখা দেবে। ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রযাত্রার সামনে রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমা এঁকে দেওয়ার সময় এসেছে বলে তিনি মনে করেন। সেই লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের প্রতি নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
চার বছর পর জাপান সফরে এসেছেন ড. ইউনূস। এ সংলাপে যোগ দেওয়ার আগে অন্য কয়েকটি শহরেও তিনি স্কুল শিক্ষার্থীদের সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন এবং চার দিনের সফর শেষ করে দেশে ফিরে যাওয়ার আগে তাঁর এ রকম আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগদানের কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন