https://www.prothomalony.com/
5594
bangladesh
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩ ০০:৫৬
বাংলাদেশের এখন সবগুলো জেলার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান হচ্ছে দেশের ৬০ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে গেছে। মোট আক্রান্তের ৬০ ভাগই ঢাকার। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ৯ জুলাই রোববার দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক তার নির্বাচনী এলাকার মানিকগঞ্জের গড়পাড়ায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কাল বলেছেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গু অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে দেশে ডেঙ্গুতে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ হাজার আক্রান্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং ৯ হাজারের বেশি লোক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। মন্ত্রী বলেন, মশা বেশি থাকার কারণে এবছর ডেঙ্গুটা তুলনামূলকভাবে বেশি । বৃষ্টি এবং বিভিন্ন জায়গায় পানি আটকে থাকায় মশা বেশি জন্ম নিচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের একমাত্র পথ হচ্ছে মশা কমানো। মশা কম হলে মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত কম হবে।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, এ বছর ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের বছরগুলোর তুলনায় মারাত্মক হতে পারে। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোর প্রস্তুতি নিতে হবে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যাচ্ছে।
প্রতিরোধে কার্যকর গুরুত্ব না দেওয়ায় দেশের ৬০ জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবার জটিল হচ্ছে। মানুষ একই সঙ্গে ডেঙ্গুর একাধিক ধরনেও আক্রান্ত হচ্ছেন। আর কীটতত্ত্ববিদেরা বলছেন, পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতি হওয়ায় এবার ডেঙ্গুতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৮ জুলাই শনিবার সকাল আটটা থেকে ৯ জুলাই সকাল আটটা পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে এক দিনে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকেও সর্বোচ্চ। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হলো ৭৩। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ বছর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৯৫৪।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দেশে ৬০ জেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত যে চারটি জেলা ডেঙ্গুমুক্ত তা হচ্ছে গোপালগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ।
জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলেন, ডেঙ্গু নির্মূল করা প্রায় অসম্ভব। একটি অঞ্চলে বা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিলে তা আর যায় না। তবে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখার বৈশ্বিক নজির আছে। এইমুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি মশকনিধনে সিটি করপোরেশনের সক্রিয়তা আরও বাড়ানো। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারিভাবে প্রচার-প্রচারণা জোরদার করা দরকার, যাতে মানুষ সচেতন হয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন