https://www.prothomalony.com/

5590

bangladesh

বাংলাদেশ

সরকারি ওয়েবসাইট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস!

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩ ০০:২৯

৫ কোটিরও বেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে যে ওয়েবসাইট থেকে, তার ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না, তথ্য ছিল উন্মুক্ত। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ায় নাগরিকদের মাঝে শঙ্কা দিয়েছে।

৯ জুলাই সরকারের তরফে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, সরকারি একটি সংস্থার ওয়েবসাইট থেকে মানুষের তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি ঘটেছে কারিগরি দুর্বলতায়। কেউ ওয়েবসাইটটি হ্যাক করেনি। ওয়েবসাইটের নাম উল্লেখ না করলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর তালিকার ২৭ নম্বর প্রতিষ্ঠান থেকে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে জানান তিনি। সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৭ নম্বর প্রতিষ্ঠান হচ্ছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন)। এখানে সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

সরকারের তরফ থেকে এই ফাঁসের ঘটনা স্বীকার করায় নাগরিকদের মাঝে এই শঙ্কা আরও বেড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, গুগলে সার্চ করলেই যে কেউ ওয়েবসাইটটিতে প্রবেশ করে নাগরিকের নাম, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা ও এনআইডি নম্বর দেখতে পারছেন।

২৭শে জুন এটি দেখতে পান বিটক্র্যাক সাইবার সিকিউরিটির গবেষক ভিক্টর মার্কোপোলোস। সাধারণ নাগরিকদের তথ্য ফাঁস কোন ধরনের অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এ ছাড়া তথ্য ফাঁস হলে তারা কী কী ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে কোনো ধরনের তথ্য রয়েছে সেগুলো বিবেচনা করা জরুরি। সেখানে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সকল তথ্যই কিন্তু আসলে ফাঁস হয়ে গেছে। অর্থাৎ এগুলো আইনের ভাষায় বলা হয়, প্রাইভেট, পার্সোনাল ড্যাটা-সেনসেটিভ ড্যাটা। পার্সোনাল ড্যাটা যেগুলো আদালতের অনুমতি ছাড়া এসব তথ্য প্রকাশ বা প্রবেশ করার অধিকার নেই কোনো কোনো ক্ষেত্রে। কিন্তু আমার সাংবিধানিক ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার যে অধিকার আমাকে সংবিধান দিচ্ছে সেটা ভঙ্গ করার জন্য যে ডিপার্টমেন্ট অথরিটি বা সরকারি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ফাঁস হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা হতে পারে।

তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা স্বীকার করে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী (আইসিটি) জুনাইদ আহমেদ বলেছেন, যে ওয়েবসাইট থেকে তথ্যগুলো প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে ন্যূনতম সুরক্ষা ছিল না এবং যে এপিআই - অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস তৈরি করা হয়েছে, সেখান থেকে ইচ্ছা করলেই কেউ তথ্যগুলো দেখতে পাচ্ছে। যেটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, সরকারি ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করি। এই ২৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রজ্ঞাপনের তালিকা থেকে ২৭ নম্বর প্রতিষ্ঠানটি এ পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। আমরা আগেই এই বিষয়টি শনাক্ত করেছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানের ত্রুটিতে তথ্যগুলো উন্মুক্ত ছিল। যাদের গাফিলতিতে এ তথ্যগুলো উন্মুক্ত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করবো।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা কোন কম্পিউটার সিস্টেম, নেটওয়ার্ক বা তথ্য পরিকাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করতে পারে সরকার। এ সংক্রান্ত আইনে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

সবশেষে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় সরকারি ওয়েবসাইটগুলো কতটুকু নিরাপদ আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে কিনা, এইসব দেখভালের দায়িত্ব কার।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন