https://www.prothomalony.com/
5284
decoration
সিলেট অঞ্চলের সঙ্গীতের এক পরম্পরার প্রতিনিধিত্ব করছেন এখন কাবেরী দাশ। সঙ্গীতগুরু তিনি। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, নজরুল সঙ্গীত পরিবেশনাতেও অনন্য। নিউইয়র্কসহ পুরো বিশ্বে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ওনার। বাবা রামকানাই দাশ ও পিসি সুষমা দাশ উভয়ই একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী। দাদু ও দিদা রসিকলাল দাশ ও দিব্যময়ী দাশ ছিলেন বিখ্যাত লোককবি। তারই বংশধর কাবেরী দাশ নিজের দুই কন্যার মধ্যে বপন করেছেন পারিবারিক সঙ্গীতের ধারা। গানের বাইরে কাবেরী দাশের আরেকটি পরিচয় তিনি এখন ভালো রন্ধনশিল্পী। বাড়ির উঠানে নিজের হাতের চাষ করা শাক সবজী দিয়ে স্বাস্থ্যকর সব খাবার বানান তিনি নিজের হাতে। উনি আমেরিকান বিভিন্ন উপকরণের সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যবাহী রান্নার অসাধারণ একটি মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছেন। রান্না যে এক ধরনের শিল্প সেটা জানা যায় কাবেরী দাশের খাবার বানানোর পদ্ধতিতে।
প্রথমেই কাবেরী দাশ জানাবেন মা সুবর্না দাশের রেসিপিতে বোয়াল মাছের শুটকী দিয়ে রান্না করা দুর্দান্ত একটি তরকারী ।
বোয়াল মাছের শুটকি দিয়ে তরকারী
উপকরন:
বোয়াল মাছের শুটকীর বড় বড় টুকরো
আলু কিউব করে কাটা
লবন
পেয়াজ
রসুন
হলুদের গুঁড়া
লাল মরিচের গুড়া
কাচামরিচ
পানি
শুটকীর টুকরোগুলো উষ্ণ গরম পানিতে লবন দিয়ে ৭/৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে।তারপর খুব ভাল করে শুটকী ধুয়ে নিতে হবে।এবারে কড়াইয়ে তেল দিয়ে পেয়াজ রসুন দিয়ে হালকা সোনালী করে ভেজে নিতে হবে।এখন হলুদ, লবন, মরিচের গুঁড়ার দিয়ে সামান্য পানি দিয়ে মসলা কষিয়ে নিতে হবে। এবারে শুটকী ও আলু কষিয়ে নিতে হবে। তারপর গরম পানি দিয়ে দিতে হবে। পানি ফুচে উঠলে ঢেকে দিতে হবে। তারপর আলু ও শুটকী সিদ্ধ হয়ে গেলে কাচাঁমরিচ দিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। পানি এর পর দিয়ে সুন্দর করে রান্না করেছি মায়ের নির্দেশমত। দেখুন কি সুন্দর রং হয়েছে। কোন কিছুর সাথে এই খাবারের কোন তুলনা হয়না। ভোজন বিলাসী মাত্রই বুঝতে পারবেন। সিদ্ধ চালের গরম ধোঁয়াওঠা ঝরঝরে ভাতের সাথে ঝালেঝোলে শুটকীর তরকারী একেবারে অমৃতসম। আহা
খাবার এতটাই লোভনীয় ছিল যে খাবার পর কাবেরী দাশের মনে হলো ছবি তুলিনি। ফলে তিনি রান্নার পাত্রটাই ছবি দিয়েছেন।
বেটে চিংড়ি ভর্তা:
ছোট চিংড়ি
আস্ত শুকনা মরিচ
লবন
সরিষার তেল
পানি
ছোট চিংড়ি, শুকনা মরিচ ও রসুন ফ্রাইপ্যানে টেলে নিয়ে একসাথে শীলপাটায় বেটে নিয়েছি তারপর কাঁচা পেঁয়াজ কুচি, স্বাদমত লবন, সামান্য লেবুর রস ও সরিষার তেল দিয়ে ভাল করে মাখিয়ে নিয়েছি। গরম ভাতের সাথে দারুন।
চালকুমড়োর শুক্তো
আমাদের বাগানের পাকা চালকুমড়ো আর শুধু রাধুনী ফোড়ন ও আদা বাটা দিয়ে শুক্তো রান্না করলাম। রান্নাটি বাবার কাছে শেখা। খেতে দারুন স্বাদ।গত অক্টোবরে পাকা চালকুমড়ো প্রসেস করে ডীপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছিলাম। সেই কুমড়োর শুক্ত করবো।
উপকরন-
ফোড়নের জন্য শুকনা মরিচ ও আস্ত রাধুনী
পাকা চালকুমড়া কিউব করে কাটা ৫০০ গ্রাম
কাচাঁমরিচ
সরিষার তেল
আদাবাটা
লবন
পানি
হলুদ
কাচাঁমরিচ
লাল মরিচ
ধনেপাতা কুচি
প্রনালী
ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে শুকনা মরিচ ও রাধুনী ফোড়ন দেবো। তারপর কেটে রাখা কুমড়ো দিয়ে দেবো। এবারে স্বাদমত লবন,সামান্য আদা বাটা ও খুব সামান্য রাধুনী বাটা দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢেকে দেব। কিছুক্ষন পর পর নেড়ে দিতে হবে। এবারে ভাজা ভাজা হলে খুব সামান্য পানি ও হলুদ দিতে হবে। এবারে ৩/৪ মিনিট কম আঁচে ঢেকে রাখতে হবে।রান্না হয়ে গেলে পরিবেশন পাত্রে ঢ্লে রাখুন। মনে রাখতে হবে লাউ বা চাল কুমড়োতে হলুদ খুব কম এবং রান্নার শেষ পর্যায়ে দিতে হবে। তা মা হলে লাউয়ের সবুজ ভাবটি চলে যায়
স্যামন ফিস ও পোস্তকারী
উপকরন :
২টি গাইনীজ গোল মরিচ,
১ টে চামচ সরিষার তেল।
২ চা চামচপুস্তবাটা,
২ টি কাচাঁমরিচ,
১টি টমেটো,
১ কাপ পানি
আধা চা চামচ লেবুর রস,
হলুদ,
লবন স্বাদমত,
খুব সামান্য রাধুনী বাটা
শুকনো মরিচের গুড়ো ১ চা চামচ
প্রণালী: স্যামন মাছ ভাল করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে রাখতে হবে।হলুদ, লবন,মরিচের গুড়া,লেবুর রস মাখিয়ে মেরিনেট করে রেখে দিতে হবে ১৫ মিনিট।পরে ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে মাছ হাই ফ্লেমে দুপিট ২মিনিট করে ভেজে নিতে হবে।
এবার ফ্রাইপ্যানে তেল দিয়ে পাঁচফোড়ন ও লাল মরিচ ফোড়ন দিতে হবে। তারপর পেয়াজ কুচি ও সামান্য রসুন কুচি সোনালী রং করে ভেজে নিতে হবে।এবারে টমেটো কুচি, শীলপাটায় রাধুনীবাটা, পুস্তবাটা, হলুদ, লবন ও সামান্য পানি দিয়ে অল্প আঁচে ঢেকে মসলা কষাতে হবে।
মসলা কষিয়ে তেলের উপর উঠলে ২ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। পানি পানি ফুটে উঠলে মাছ দিয়ে ৫ মিনিট রান্না করতে হবে। শেষে কাচাঁমরিচ দিয়ে দিতে হবে।
সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন