https://www.prothomalony.com/
5283
bangladesh
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৩ ০৭:০৫
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক অবস্থানের সমর্থন করেছে চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ‘শুধু বাংলাদেশের জনগণের শক্তিশালী অবস্থান নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে উন্নয়নশীল বিশ্বের একটি বড় অংশের মনে প্রতিফলন বলে মনে করে চীন।
বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্তব্য করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্যটি লক্ষ করেছি। প্রকৃতপক্ষে, নিজস্ব জাতিগত বৈষম্য, বন্দুক সহিংসতা এবং মাদকের বিস্তারের সমস্যাগুলোর প্রতি অন্ধ দৃষ্টি রেখে, একটি নির্দিষ্ট দেশ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অজুহাতে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে আসছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায়, স্বাধীন দেশীয় ও বৈদেশিক নীতিকে সমুন্নত রাখতে এবং এর জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানানসই উন্নয়নের পথ অনুসরণে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি।
তিনি বলেন, তারা সব ধরনের আধিপত্য ও ক্ষমতার রাজনীতির বিরোধিতা করতে, জাতিসংঘ-কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার মৌলিক নিয়মগুলোকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এবং জাতিসংঘের সনদের নীতিগুলো এবং মানবজাতির জন্য একটি ভাগ করা ভবিষ্যতসহ একটি সম্প্রদায় গড়ে তুলুন।
তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের কথা বলা বাংলাদেশের জন্য জটিলতা বাড়াবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির। এতে বাংলাদেশ চীনের প্রতি ঝুঁকছে বলে মার্কিনদের যে ধারণা, তা আরও বদ্ধমূল হবে বলে মনে করেন তিনি।
চীন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিষয়ে কথা বলল এবং চীনের এই মন্তব্য বাংলাদেশের কোনো কাজে আসবে কি না, এমন প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বড় দেশ হিসেবে চীন বিবৃতিটি দিয়েছে। এ বিবৃতি তারা না দিলেই ভালো করত। কারণ, এতে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের কোনো লাভ হবে না।
বিভিন্ন দেশ যা-ই বলুক না কেন, কাজকর্মে ও কূটনৈতিক চর্চায় বাংলাদেশ একধরনের ভারসাম্য বজায় রাখতে চায়—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিইআই প্রেসিডেন্ট বলেন, চীন বা অন্য কোনো দেশ যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে বিবৃতিটি দিয়ে থাকে, তবে তাদের বলা উচিত, তারা এ ধরনের বিবৃতি না দিলে ভালো হয়।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন