https://www.prothomalony.com/

5279

bangladesh

বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা তীব্র হচ্ছে

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৩ ০৬:৫১

বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে বসে নেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহল। গত ৫০ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোন নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন উৎসাহী দেখা যায়নি। র‍্যাবের উপর নিষেধাজ্ঞার পর ভিসা নীতির কড়াকড়ি অবস্থানের পরও কংগ্রেসম্যানদের সক্রিয় তৎপরতা লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গত মাসে পাঁচ জন কংগ্রেসম্যান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বাংলাদেশ পরিস্থিতিত নিয়ে চিঠি প্রদান করেছেন। ৮ জুন আরেক দফা ৬ জন প্রভাবশালী আইন প্রণেতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতি নিয়ে চিঠি প্রদান করেছেন। ঢাকাস্থ মার্কিন দূত পিটার হাস ওয়াশিংটনে ফেরার আগে ঢাকায় দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।

ওয়াশিংটনে বর্তমান সরকারের ব্যয়বহুল লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের পরও কাজের কোন কাজ হচ্ছে না বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তী রক্ষায় লবিস্ট ফার্মের দুর্বল প্রয়াসের বিপরীতে সরকার বিরোধী লবিং শক্ত হয়ে উঠার আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে মার্কিন অবস্থান ততই শক্তিশালী হয়ে উঠার বিষয়টি সরকার ও সরকার সমর্থকদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখন আর কিছু রুটিন বিবৃতির সীমানা অতিক্রম করেছে এবং পরিস্থিতিতি কোনদিকে গড়াচ্ছে, এ নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
 
    আগামী জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জন কংগ্রেস সদস্য। ৮ জুন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের কাছে লেখা চিঠিতে এ উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়া র‍্যাবসহ আইন প্রয়োগকারী এজেন্সিগুলো মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর জন্য অব্যাহতভাবে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য এজেন্সির প্রতি আহ্বান জানাতে অনুরোধ করেছেন তারা।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কংগ্রেসম্যানরা হলেন- উইলিয়াম আর কেটিং, জেমস পি ম্যাকগভার্ন, বারবারা লি, জিম কস্তা, দিনা তিতাস ও জেমি রাশকিন। এতে তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বারবার এবং স্পষ্ট বিবৃতি এবং পদক্ষেপ গ্রহণ বাংলাদেশ সরকারকে তার মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতাগুলো নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এরই মধ্যে বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার ও সহিংসতা শুরু হয়েছে। এর ফলে নির্বাচনের ফল কলঙ্কিত হতে পারে। তাতে সামাজিক সংঘাত গভীর হতে পারে।

চিঠিতে তারা আরও বলেছেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং এর তখনকার সাতজন ও সাবেক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দেয়া মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানটি মারাত্মকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে প্রমাণিত রিপোর্ট আছে।

এর প্রেক্ষিতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয় এবং যৌক্তিক ছিল। দুর্ভাগ্যজনক হলো, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নিষ্পেষণ বন্ধ হয়নি। বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট ২০২২-এ বাংলাদেশের সম্মানজনক মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন অধিকার ৩১টি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ২১টি জোরপূর্বক গুম, জেলে ৬৮ টি মৃত্যু এবং র‍্যাব, ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ ও একটি এজেন্সি দ্বারা ১৮৩ জন সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে। এসব প্রামাণ্য ডকুমেন্ট সত্ত্বেও, ঘন ঘন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার কথা অব্যাহতভাবে প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা। তারা একে দেশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। এমনকি জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত এবং পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে তারা আরও বলেছেন, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশি সমাজের অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কথা বলার শক্তি পেয়েছেন। তারা এসব লঙ্ঘনের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছেন, প্রামাণ্য আকারে উপস্থাপন করেছেন। অথবা আইন প্রয়োগকারীদের বিভিন্ন এজেন্সির হাতে পড়ার মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। জবাবে নাগরিক সমাজের সংগঠন, মানবাধিকারের পক্ষের কর্মী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভিকটিম ও তাদের পরিবারগুলো সরকারের তীব্র প্রতিশোধের মুখে পড়েছে।

এদিকে ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য উইলিয়াম বিল কিটিং এক পৃথক টুইটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি (বিল) উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন