https://www.prothomalony.com/

5247

literature

সাহিত্য

সাহিত্য পাতা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৩ ০৭:৫৪


স্নিগ্ধ ভোরের খাম্বাজ 
শেখর ভট্টাচার্য

 

কবিতার মতো ছন্দময় রাত শেষে,
হীরক খণ্ডের বর্ণচ্ছটায় নেমে আসে অদ্ভুত এক ভোর।

 

হাওয়াই মিঠাই গোলাপী শান্ত তুলতুলে মুখ,
মায়া হরিণের মতো চোখের পাপড়ি মেলে ধরে
রাগ নায়কি কানাড়ার সুর মূর্ছনা বেজে ওঠে,
আলোর দ্যুতি, সুরের অর্কেস্ট্রার মায়াজালের ভেতর
তুলতুলে মুখ পদ্ম পাতার মতো ভেসে ওঠে।

 

ভোরের স্নিগ্ধতায় ভালোবাসা ছড়িয়ে যায় কোমল বাতাসে
প্রখর সূর্য তাপে উদ্ভাসিত পদ্ম পাতা ম্লান হয়ে যায়,
আকাশের ক্যানভাসে এলিয্যাবেথান কোরাস বলে যায়,
বিবর্ণ সন্ধ্যা, নিকষ কালো রাত শেষে ফিরে আসবে
দেবী আফ্রোদিতি এবং ঋতুর দেবতা অ্যাডোনিসের,
ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হৃদয় হরণ করা ভোরের খাম্বাজ। 

 

 

যাপিত জীবনের গল্প
আহসান জামান

 

এভাবে হেরে যেতে যেতে আমরা 
হারিয়ে ফেলি গন্তব্যের কথা; কেউ বা
বলবে তখন, গন্তব্যহীন, বখাটের দল।

 

যে জমিন চাষাবাদ মুছে, কুঁড়িয়ে 
রাখে অজস্র অচেনা পদচিহ্ন। 
নীলাভ বেদনায় অসমাপ্ত গল্পের
হাহাকার।স্বপ্নালু দুচোখ মুছে যখন
ভ্রান্তিরেখায় জেগে ওঠে অবহেলা। 

 

গির্জার ঘন্টা বাজিয়ে, বলে যাবে
কতশত অপ্রকাশ্য দুঃখবোধ, কষ্টের 
নীল রেখায় মিশে থাকে বিষণ্ণতা।

 

নদীর উজানে যে উৎফুল্লতা উড়ে 
গেছে দূরত্বে, তার ফিরে আসার পথে
অপলক প্রতীক্ষিত মানুষ; পাথর।
নৈঃশব্দ্যে; কে যেনো হাওয়ানোটে 
লিখে গেছে পুরানো গল্পের শিরোনাম; 
বিষণ্ণ বিহ্গলে করুণ কান্নার সমাহা

 

 

ঘরগুলো লম্বা হতে হতে
আশরাফ হাসান

 

ঘরগুলো লম্বা হতে হতে 
একসময় সাপ হয়ে উঠে
বদমেজাজী সাপের খোয়াড়
নমস্য নৃমর্দনে ত়বু বেড়ে উঠে আঁধার

 

বানরবেহায়া লেজতাপে 
আগুনে ফোটায় ফিরিঙ্গিরাত
প্রাণজ পাখিরে দংশিত আকাশ
মনগুলো হ্নদয় ভেঙ্গে পালাতে থাকে

 

স্বপ্নগুলো পানসে হতে হতে মুর্দা হয়ে যায়
বহুরঙ সাপগুলো একসময় 
ছেনালি জিহবায় স্বাদ নিতে নিতে
ঘর ভেঙ্গে পরাধীন হয়ে যায়
ঘরগুলো লম্বা হতে হতে একসময় শপিংমল হয়ে যায়।

 

 

শব্দপিওন
বেনজির শিকদার

 

এক কবিতায় কাঁদাও তুমি এক কবিতায় হাসাও
বোধের জলে রৌদ্র ফেলে চেতনালোক ভাসাও!
গল্পে তোমার অল্প গ্লানি ব্যাপ্তি বড়ো জানার
তুমি আমার শব্দপিওন ভালোবাসার রানার!

 

তুমি আমার অম্ল-মধু, দহন-গাঙের মাঝি
যখন যেমন যে ভাব আসে তোমার রঙে সাজি!
তোমার কথায় আঘাত ভুলি তোমার শব্দে হাসি
তুমি আমার জীবনব্যাপী নিকট প্রতিবেশী।

 

শরৎ-স্বর্গে বসন্ত-দোল ফাগুনরূপী প্রেমে
থাকো তুমি মন-ভূমিতে প্রণয়চাষের ফ্রেমে।
তোমাকে পাই একলা যখন সুর-সাগরে ভাসি
অভিমানের ক্ষণিক-ক্ষুধায় ফিরেও আবার আসি!

 

তুমি আমার সূর্যশেখর অনুভবের দোলা
সব ভুলে যাই; শব্দপিওন যায় না তোমায় ভোলা!

 

 

মুক্তি
পলি শাহীনা

 

সকল নিয়মের জটিল গ্রন্থি ভেঙে ভেঙে আমি, 
আকাশের ঐ উদারতাকে ছুঁবোই শেষে। 
মুছে দেবো স্বচ্ছ দেয়ালে প্রলেপের কাঁচা রঙ, 
কষ্টগুলো প্রতিমা করে নদীতে বিসর্জন। 

 

কোনো এক আনকোরা ভোরের শীতল বাতাসে
উড়িয়ে দেব ক্লান্তি আর ক্লেদের অহেতুক পাখি। 
প্রিয় জবা, কদম আর জলজ কচুরি ফুলে
ভাসাবো সাজিয়ে জীবনের সবুজ ভেলা।
একদিন জীবন শুধুই হাসবে আর চেয়ে নিবে 
জোরালো তাগিদে হাতের মুঠোয়
তার বাড়ানো হাত, আমার প্রিয় হাত। 
দরাজ কন্ঠে শঙ্খচিলের ডানায় গাইবে বাতাস 
আমার শ্বাসগুলো জীবন পাবে মুক্ত সে হাওয়ার দোলায় 
আমি হবো মুক্ত ও স্বাধীন, হাত ধরাধরির সেই পথে।

 

 

প্রত্যাশা আজ প্রত্যাহৃত 
রফিকুল ইসলাম

 

অনেকটা সময় লবঙ্গের সুঘ্রাণে হারিয়ে গেছে
পরম সহিষ্ণতায় দুঃখগুলো প্রথিত মনে 
সাত সাতটি বসন্ত পুড়ে গেছে তপ্ত বৈশাখে, 
প্রতিশ্রুতির নামতা মেলেনি প্রতিশ্রুত ধারাপাতে। 

 

গর্ভিণী মেঘেরা আজ সুখের বার্তা নিয়ে এসেছে 
হলুদ পাতার বদলে জেগেছে সবুজ কিশলয়
অনুভব ছুঁয়ে সৌভাগ্যের বারান্দায় সুগন্ধ ছড়ায় 
স্বপ্নলতিকা, এখন জানালার কার্নিশ ছুঁয়ে যায়। 
তবুও ঝড় উঠে স্বপ্নঘোরে ঘুমের আঁধার ভেঙে 
বিস্ফোরিত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বেয়ে 
প্রথিত কষ্টগুলো নিঃশব্দ কান্নায় জেগে উঠে
সুঘ্রাণ গোলাপে কাঁটাগুলো অলক্ষ্যে থাকে চেয়ে।

 

দূরে ঐ নীলিমায় পাখিরাও উড়ে যায় ফিরে 
আঙ্গুলের ফাঁকে সুতাকাটা ঘুড়িটাও উড়ে যায় দূরে
দূরে— অনেক দূরে! অনেক—দূরে! 

 

 

বিভৎস ভালোবাসা 
মমতা মজুমদার 

 

বিবর্ণ সন্ধ্যা, 
খানিক'টা আলসেমি আর কিছু রংচটা ভাবনায়
হৃদয়ে প্রজ্জ্বলিত নিরাশার প্রদীপ হাতে নিয়ে 
বসে আছে এক আঁজলা স্মৃতি।
ক্ষয়িত যৌবনের বাসন্তী ফুলগুলো ঝরে 
গেছে আজ অবেলায়
মায়াহীন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় কত
জীবনের পাতা
ক্ষত-বিক্ষত

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন