https://www.prothomalony.com/

5120

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত্য

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৩ ১১:৪৪

রজঃস্বলা

কাকন রেজা

 

চিৎকার গলার ভেতর আটকে থাকে, কোথাও জমে জল 

ডিসেম্বরের এ শীত জমায় বিষাদ অবিকল
 

একটু ভুল না হয় ছিলো, সোনা তাতেও লাগে খাদ

ভালোবাসা জৈবিক, শরীর কখনো হয় না নিখাদ
 

ভালোবাসা মানেনি শুদ্ধতার সূত্র কোনো একদম

রমণে অভিন্ন জীবন পেয়ে যায় পূর্ণতা, মনোরম
 

ভাষা হলো যোগাযোগ, বানান ভুল হলেও বুঝে নেয়া যায় 

শুদ্ধতার নয়া তত্ত্ব ভিন্নতায় অর্থহীন, নিজেকে হারায় 
 

প্রেমিক কাকে বলে, খিমচে ধরা যে কাঁধ, চিরে দেয়া পিঠ

বিসর্জন যেখানে প্রবল, হারায় যেখানে সকল সংবিৎ
 

চিৎকার গলার ভেতর আটকে থাকে, কীভাবে যায় বলা 

প্রেমিক বলেই পৃথিবী এবং সে হয়েছে রজঃস্বলা

 

 

উড়ছে মানুষ, উড়ছে পাখি

অনির্বাণ চৌধুরী

 

মানুষের ভীড়ে একটি গাছ অন্ধকারে হারিয়ে গেল!

কেউ আলাদা করে বলল না,

তার নিজস্ব কিছু বিপন্নতার গল্প,

রান্নাঘরের কার্নিশে বসে থাকা চিল'কে

তাই খেতে হল –

সভ্যতার উড়ন্ত ঢিল!

সেই মুহূর্তেই সে উড়ে চলে গেল বিপন্ন সেই গাছের কাছে;

আর যারা শান্তিতে বসে ছিল এতদিন সেই গাছের ঠাণ্ডা ছায়ায়

তারা আজও বুঝতে পারল না –

দুটি জীবনের কথা একসাথে ভাবতে গেলে,

একটি বিপন্ন গাছ নয়তো একটি বিপন্ন চিলের গল্প

তাদের প্রত্যেকেরই জীবনে

কমপক্ষে অন্তত একবার লেখার চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি!

 

 

 

রুমি

শঙ্খশুভ্র পাত্র

 

'এবাদত' যে যার নিজের মতো— এ-বাবদ এত

ধার্য হবে পরিচর্যা— বীজধান, জলসেচ, ভূমি...

স্বপ্নের ফোয়ারা, হায়, ঘনীভূত, ইতোমধ্যে তুমি

নিভু-নিভু অন্ধকারে মহীয়সী, পূর্ণশশী, ধ্যাত৷
 

অপূর্ব সহায়, লীলা, সায়ন্তনী, বাৎসরিক স্মৃতি

প্রীতিবাক্যে অনুপম, বুদ্ধিজীবী, অংশত মাতাল

প্রলাপে গোলাপ নেই৷ বৃষ্টি হলে সমগ্র ঘাটাল

ডুবে যায়৷ শিলাবতী, থইথই... প্রচলিত রীতি
 

দেবাকৃতি, চলচ্চিত্র...দর্শনাদি ঘিরে সেই জোট

উচ্চস্পর্শে ভুলে গেলে একদা সে গ্রামীণ শিকড়,

ধুলোমাখা পথঘাট— ধান্যশীর্ষে কোমল শীকর

কোথায় হারালো? আলো, হাসিমাখা শিহরিত ঠোঁট৷
 

সকলই কালের গর্ভে, এবাদত— এ-বাবদ তুমি

আমাকে কী দেবে, হায়, যতক্ষণ পাশে আছে রুমি...

 

 

 

 

মার্চ আঠাশ  

সুবাইতা প্রিয়তি 

 

এই যে দয়ার্দ্র দৃষ্টি, একজন জীবন্মৃত করে রাখছে 

আর কিছু না- 

তোমার মতো জন্মান্ধ থেকে নিরেট উপহার।

কিছু মিজরাব পরে থাকছো। 

এক একটি স্নেহের বাণী আমার প্রতি রোমকূপে বজ্র করছে ধ্বনিত, শোণিতের স্রোতে দরাজ হুঙ্কার-

'আমি কখনোই কারো অনুকম্পার পাত্র নই!'
স্রেফ একটি বস্তুকণা নই।
আকাশ আর পাতাল মিলে করেছে আঁতাত; তোমার পরিকল্পনা মতো আনছো প্রভাত- 
কোন সভ্যতার শাস্তিদণ্ড করছো আবিষ্কার?

 

 

 

 

তাঁর কাছে অবনত

তোফায়েল তফাজ্জল 

 

যে হয় না কোনোদিন কারো কাছে নত

দিনে পাঁচবার শুধু হয় তাঁর কাছে অবনত 

তাকে কখনো ভেবো না ফড়িঙের পাখা-তুচ্ছ,

বানরের ভেঙচি কেটে নাড়িও না পুচ্ছ। 

কারণ, সে উঠে গেছে ঊর্ধ্বে, হয়ে গেছে পাহাড় থেকেও বড়ো, 

পারলে পরিবারসহ তার পথ ধরো।
 

তাঁর কাছে একবার নত হলে 

শক্ত রোদে পাওয়া বরফ থেকেও বেশি গুণে গলে। 

দুনিয়াও এর ভেতরে যা কিছু আছে 

সামনে-পিছে, দূরে-কাছে 

ধন্য করতে হাত খুলে দেন এসবের অধিক সওয়াব-পূণ্য,  

মানুষের চিরশত্রু যতো হোক খুশি মনঃক্ষুণ্ন।  
 

যারা তাঁর নুন খায়, গুণ গায় বাড়তি আবেগের ঢেউয়ে ভেসে

কেবল তাঁকেই ভালোবাসে ঝেড়ে কেঁশে    

লাপাত্তা তাদের ভয়, 

তাঁর কাছে বিপদে সে ফল পাবে নগদে নিশ্চয়।  

 

 

 

বিরহ বহমান

মনিরুল ইসলাম দোলা

 

বিরহের উপঢৌকন আজ আর আঁচড় কাটেনা-

এ মনে-  নীলিমা ছুঁয়ে 

ডুকরে কাঁদে স্বপ্নের মায়াজাল

প্রিয় হারা আসবাবপত্রের মত ভেঙে যাওয়া

নিঃসঙ্গতা ইদানীং চুপসে যাওয়া চেলুনের মত -

প্রফুল্ল মন জায়গা করে নেয় নর্দমার আঁস্তাকুড়,

কুয়াশায় মেঘ জড়ো হয় বৈকালীন নম্রতায় 

আমারও চোখে

তবুও কর্কশ হাসিতে ফেটে পড়ে এ-মন 

আকাশকুসুম পৃথিবী সম...। 

 

 

 

সভ্যতার হালচাল

মোঃ আব্দুর রহমান

 

কোকিলের ডানা ভেঙ্গেছে বলে শোক জারি করেছে 

বনের রাজা

পাখিরা আশীর্বাদে বসেছে মগ ডালে

লেজকাটা ফিঙেটাও উড়াল দেয়না।
 

ঘরের পাশে দাফন হলো সমীর মিয়ার

সামনের বাড়ির শিক্ষিত বিবেকটা রৌদ্রের ভয়ে 

পর্দাটা ফাঁকা করে না।
 

তাহলে কোনটাকে বলে সভ্যতা?

সুকান্তের ছাড়পত্র হাতরায় বুড়ী মা।

 

 

 

র্যাবিশমুক্ত চেতন

এইচ বি রিতা

 

রুগ্‌ণ পাতাটি নিয়ে কেন বিভ্রান্ত হও অহর্নিশ, 

আমন্ত্রণে নাইসেরিয়া ম্যানিনজেটিডিস-গিলে খেতে 

বোধ যা গচ্ছিত রয়ে গেছে তোমাদের ভাগে 

সবটাই না হয় রোদে পোড়াও র্যাবিশমুক্ত হোক-চেতন। 
 

জানিতো নাট্যমঞ্চে অভিনয় বাঁচিয়ে রাখে জীবন, যেখানে 

বোধ-নির্বুদ্ধিতা সতত মার খায় পুঁজিবাদী সমাজে 

প্রলেতারিয়েতের মতো
 

রোগজীর্ণ হৃদয় না হয় বাঁচিয়ে রাখো চাপমুক্ত বাতাসের 

ফিসফিসে যেখানে পৃথিবী তার সোনা-রূপায় প্রকৃতি 

সাজায় নববধূর কপালের টিকলির কারুকাজে।

 

 

 

 

নয়নতারা'র এক সকাল

সোহানা নাজনীন

 

নয়নতারা সাদা থানের আঁচলটা মাথায় আরেকটু টেনে নিয়ে উঠোনে বের হলো। হাতের তালু ছাউনির মতো চোখের উপরে ধরেআকাশের দিকে কতক সময় তাকিয়ে দেখলো। কালো মেঘ নেই বটে কিন্তু তাই বলে সূর্যও ওঠেনি আজ। তবুও ভোরের ফোটাসাদা আলোয় চারিদিক পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। আধুলি পয়সার মতো গোল একরত্তি উঠোন, ছনের চালা দেয়া দুটো ঘর।একটাতে সবাই মিলে থাকে আর অন্যটায় রান্না হয়। নদীর ধারে অল্প একটু জমি আছে, তাতে বেগুনের ক্ষেত করা। দুই ছেলেআর একটা কাঠের নৌকা, এই নিয়েই নয়নতারার সংসার। 

 

সুবল আর বিমল জমজ ভাই, গায়ে গতরে বেড়ে উঠেছে গত দুই বছরে।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন