https://www.prothomalony.com/

5087

bangladesh

বাংলাদেশ

ট্রাভেল পাসে আটকে আছে সালাউদ্দিন এর বাংলাদেশে ফেরা

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৩ ০০:৩১

অনুপ্রবেশের মামলা থেকে বেকসুর খালাস দিয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের আদালত। কিন্তু বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ‘ট্রাভেল পাস’ না পাওয়ায় দেশে ফিরতে পারছেন না প্রায় ৮ বছর ধরে শিলংয়ে অবস্থানরত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

ভারতের গৌহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার বরাবরে আবেদন করলেও এখনো সাড়া পাননি তিনি। হাইকমিশন থেকে ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ অর্থাৎ ‘ট্রাভেল পাস’ না পেলে দেশে ফেরা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভারতে অবস্থানরত সালাহউদ্দিন আহমেদ। বইপড়ে ও ধর্মকর্ম করে সময় কাটানোর পাশাপাশি ফোনে দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন তিনি। দলের স্থায়ী কমিটির সভায় অনলাইনে (জুম অ্যাপসে) যুক্ত হয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সাংবাদিক সাথে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, ভারতের আদালত তাকে মামলা থেকে খালাস দিয়েছে। পাসপোর্ট না থাকায় এখন দেশে ফিরতে হলে প্রয়োজন ট্রাভেল ডকুমেন্ট (ট্রাভেল পাস)। এজন্য গত ৮ মে তিনি গৌহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার বরাবর ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেছেন। এরপর তিনি লোক পাঠিয়েও যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইকমিশন থেকে কোন ধরণের সাড়া পাননি। ট্রাভেল পাস পেলেই তিনি দেশে ফিরতে চান।

অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের মেঘালয় পুলিশের দায়ের করা মামলার রায়ে ২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর নিম্ন আদালত থেকে খালাস পান বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে ভারত সরকার। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শিলং জজ কোর্টের আপিল বিভাগও সালাহউদ্দিনকে ওই মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেয়। একই সাথে আদালত তাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

সূত্র জানায়, রায়ের পর সালাহউদ্দিনের আইনজীবী আদালত থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করেন। এরপর দেশে ফেরার জন্য গত ৮ মে গোয়াহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার বরাবর ট্রাভেল পাস চেয়ে আবেদন করেন সালাহউদ্দিন। কিন্তু ট্রাভেল পাস দিতে দেরি হতে দেখে সালাহউদ্দিন সহকারী হাইকমিশনার অফিসে লোক পাঠান। সালাহউদ্দিন জানান, তাঁর প্রতিনিধি দিয়ে ট্রাভেল পাস ইস্যূর বিষয়ে সহকারী হাইকমিশনার অফিসে যোগাযোগ করান। কিন্তু এখন পর্যন্ত মৌখিক কিংবা লিখিতভাবে তাকে কিছু জানানো হয়নি। ট্রাভেল পাস না পেলে তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না।

শিলংয়ে অবসর সময় কিভাবে কাটছে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বাংলাদেশ জানান, বই পড়ে ও ধর্ম-কর্ম করেই সময় কাটছে। মামলা চলাকালীন সময়ে শিলংয়ের বাইরে যেতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখন সেই বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু ‘লিগ্যাল ডকুমেন্ট’ না থাকায় শিলংয়ের বাইরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান সালাহউদ্দিন।
দল ও নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ হয় জানিয়ে সালাহউদ্দিন জানান, ফোনে দেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের সাথে তাঁর যোগাযোগ হয়। অনেকে ফোন করে তাঁর খোঁজ খবর নেন। তিনিও প্রয়োজনবোধে ফোন দেন। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সভায় তিনি জুম অ্যাপসের মাধ্যমে অংশ নেন।

দেশে ফেরানোর ব্যাপারে দল কোন ভূমিকা রাখছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দলীয় ফোরামে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দল থেকে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।’ দলের নেতাকর্মীরাও তার ফেরার অপেক্ষায় বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমেদ। সে সময় তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। নিখোঁজের পর তাঁর পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী তাকে তুলে নিয়ে গেছে। নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ওই বছরের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং গলফ ক্লাব মাঠ থেকে উদ্বাস্তু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। পরে তাকে ‘নর্থ ইস্টার্ণ ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ অব মেডিকেল সার্ভিসেস’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে পাঠানো হয় জেলে। সালাহউদ্দিনের সাথে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তার বিরুদ্ধে ‘ফরেনার্স অ্যাক্টে’ অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করে মেঘালয় পুলিশ। সেই মামলায় ২০১৫ সালের ২২ জুলাই শিলংয়ের আদালতে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়।

নিখোঁজের সময় সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মূখপাত্রের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা হয়। বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে সালাহউদ্দিন শুরু করেছিলেন কর্মজীবন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব ছিলেন তিনি। এরপর চাকরি ছেড়ে তিনি যোগ দেন রাজনীতিতে। ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মতো তিনি কক্সবাজার থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনবারের সাবেক এই সংসদ সদস্য বিএনপি সরকারের যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীরও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদও সংসদ সদস্য ছিলেন।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন