https://www.prothomalony.com/
18500
new-york
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৪২
নিউইয়র্ক সিটির আটটি বিশেষায়িত সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্ণভিত্তিক বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা বিভাগের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এসব স্কুলে ভর্তির প্রস্তাব পাওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৬ শতাংশ লাতিনো। অন্যদিকে, প্রায় ৫৭ শতাংশ সুযোগ পেয়েছে এশীয় শিক্ষার্থীরা।
বিশেষায়িত স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে স্টাইভেস্যান্ট হাইস্কুল, ব্রঙ্কস হাইস্কুল অব সায়েন্স এবং ব্রুকলিন টেকনিক্যাল হাইস্কুল। বর্তমানে এসব স্কুলে ভর্তির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে স্পেশালাইজড হাইস্কুল অ্যাডমিশন টেস্টের (এসএইচএসএটি) ফলের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। এই পদ্ধতির সমালোচকদের দাবি, পরীক্ষার নম্বর শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাগত দক্ষতার চেয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগকে বেশি প্রতিফলিত করতে পারে।
মঙ্গলবার হারলেমে ‘দ্য বিকন অ্যান্ড দ্য ব্লুপ্রিন্ট’ পডকাস্টের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বিষয়টি উঠে আসে। অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিলেন নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করা সাবেক স্কুল চ্যান্সেলর ডেভিড ব্যাংকস।
ব্যাংকস বলেন, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং প্রস্তুতির সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত—এ যুক্তি দিয়ে বৈষম্যের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। তিনি জানান, স্কুল চ্যান্সেলর থাকাকালে অ্যাডামসের কাছে ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে সে সময় বাধার মুখে পড়েন বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টি পরিবর্তন করতে না পারাকে নিজের বড় আক্ষেপগুলোর একটি বলেও মন্তব্য করেন ব্যাংকস।
আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা শুধু একটি পরীক্ষার নম্বরের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীর সামগ্রিক যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তি পদ্ধতি সংস্কারের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, সরকারি স্কুলের পাঠ্যক্রমকে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়বস্তুর সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
তবে মানসম্মত পরীক্ষাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের বিরোধিতাও রয়েছে। বিরোধীদের আশঙ্কা, একক পরীক্ষার বদলে অন্য মানদণ্ড চালু হলে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও বিষয়নির্ভর হয়ে উঠতে পারে এবং পরীক্ষার জন্য কঠোর পরিশ্রম করা শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য সিনেটর জন লিউ বলেন, তার উদ্বেগ পরীক্ষাটি নিয়ে নয়, বরং কারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে, সেই বৈষম্য নিয়ে। তার ভাষায়, থার্মোমিটার জ্বরের মাত্রা দেখায়; তাই থার্মোমিটার বাদ না দিয়ে জ্বরের মূল কারণ খুঁজে বের করে সমাধান করা প্রয়োজন।
এর আগে সাবেক মেয়র বিল ডি ব্লাসিওসহ কয়েকজন মেয়র ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েও সফল হননি। ব্রঙ্কস সায়েন্স, ব্রুকলিন টেক ও স্টাইভেস্যান্ট—এই তিনটি স্কুলের ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হলে অঙ্গরাজ্যের আইন সংশোধন করতে হবে।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন