https://www.prothomalony.com/

18463

north-america

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড জালিয়াতি, ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩৫

 

যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে শত শত ভুয়া বিয়ের আয়োজন এবং এর মাধ্যমে ৬০ লাখ ডলারের বেশি মুনাফা করার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে এই কথিত জালিয়াতি চলেছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল প্রসিকিউটররা মামলার বিষয়ে ঘোষণা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক জেনিফার গনজালেজ এই চক্রের নেতৃত্ব দিতেন। তার বিরুদ্ধে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ করে দিতে মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়েগুলোকে প্রকৃত সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন করতে সংশ্লিষ্টদের যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ছবি তোলার মতো পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হতো। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্কের সত্যতা তুলে ধরা।

মামলার ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজনকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ষষ্ঠ আসামি অন্য একটি অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানে সহায়তা, ষড়যন্ত্র এবং বিয়েজনিত জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই কার্যক্রম থেকে অর্জিত অর্থ বিদেশে ব্যবসা ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া, কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে সরকারি খাদ্যসহায়তার আবেদনে বৈবাহিক অবস্থা ও আয়ের তথ্য গোপন করার অভিযোগও রয়েছে। তদন্ত চলমান।

যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা বৈধ অভিবাসনপ্রক্রিয়ার অংশ। তবে শুধু অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো বিয়ে করে আবেদন করলে তা বিয়েজনিত জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ঘটনায় অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আবেদন করা এবং আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও নথি সঠিক রাখা। সম্পর্কের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন প্রমাণ চাইতে পারে। তবে যৌথ ব্যাংক হিসাব বা ছবি থাকলেই কোনো সম্পর্কের সত্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা মানেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়। আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের নির্দোষ বলে বিবেচনা করা হবে।

 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন