https://www.prothomalony.com/
18458
north-america
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। গত ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী বিভিন্ন মন্দিরে পূজা, অঞ্জলি, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি সনাতন ধর্মাবলম্বী।
দুর্গোৎসব ঘিরে প্রায় এক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে মিশিগানের মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো। প্রবাসে কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক সময় তিথি অনুযায়ী পূজা অনুষ্ঠিত হলেও মূল উৎসবের আয়োজন করা হয় সপ্তাহান্তে। তবে এবার বেশ কয়েকটি মন্দিরে তিথি অনুযায়ী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রবাসীদের মিলনমেলা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বিনিময় এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালি সংস্কৃতি তুলে ধরার অন্যতম উপলক্ষ হয়ে ওঠে এবারের দুর্গোৎসব।
মিশিগানে দুর্গোৎসবের সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি অনুষ্ঠিত হয় ডেট্রয়েট শহরের দুর্গা মন্দিরে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত এ মন্দিরে ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিথি অনুযায়ী পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ভক্তদের সুবিধার্থে আগামী ২৪ ও ২৫ অক্টোবর পুনরায় উৎসবের আয়োজন করা হবে।
দুর্গা মন্দিরে দেবীর বোধন, পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, যজ্ঞ, প্রসাদ বিতরণ ও আরতিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠিত হয়। ১৮ অক্টোবর অষ্টমীর দিনে ১০৮টি সদ্য ফোটা পদ্মফুল ও ১০৮টি প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। বিশেষ আলোকসজ্জায় সাজানো হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, গীতিনাট্য ও ঐতিহ্যবাহী ধামাইল পরিবেশনা। আরতির সঙ্গে ধুনুচি নাচ উৎসবে যোগ করে ভিন্নমাত্রা।
আগামী ২৫ অক্টোবর দুর্গা মন্দিরের সাংস্কৃতিক আয়োজনে কলকাতা থেকে আসা অতিথি শিল্পীদের পরিবেশনার কথা রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পার্থ দেবের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে মন্দিরের নিয়মিত শারদীয় প্রকাশনা বহুবর্ণা ‘শারদ অর্ঘ্য’।
দুর্গা মন্দিরের সভাপতি পংকজ দাশ জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার অতীতের তুলনায় ভক্তদের উপস্থিতি ছিল অনেক বেশি। বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগমে মন্দির প্রাঙ্গণে স্থান সংকুলান করতে আয়োজকদের হিমশিম খেতে হয়েছে।
মন্দিরের সহসভাপতি নিপেশ সূত্রধর বলেন, এবারের দুর্গোৎসবে নতুনত্ব ও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ভক্তের উপস্থিতির কারণে স্থান সংকট দেখা দেয়। এবার সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মন্দিরের বাইরে অস্থায়ী ছাউনি তৈরি করে ভক্তদের বসা ও খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মিশিগানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিচালিত অন্যতম প্রাচীন সর্বজনীন উপাসনালয় হিসেবে দুর্গা মন্দির দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
এদিকে মিশিগানের ওয়ারেন শহরের শিব মন্দিরেও ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী দুর্গোৎসব উদযাপিত হয়েছে। প্রতিদিন পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও আরতির পাশাপাশি ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। কবিতা আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, গীতিআলেখ্য, নাটক ও ধামাইল পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানে অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন ভারতের শিল্পী দেয়াশিনী রায়।
একই শহরে অবস্থিত মিশিগান কালীবাড়ীতেও চার দিনব্যাপী দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক ও অতিথি শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনা। ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ।
হ্যামট্রাম্যাক শহরের রাধাকৃষ্ণ মন্দিরেও ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত দুর্গোৎসব উদযাপন করা হয়। চার দিনব্যাপী আয়োজনে পূজা, অঞ্জলি, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্থানীয় প্রবাসী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এবারের দুর্গোৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে রচেস্টার হিলস শহরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত ওঁ শিবশক্তি রাধামাধব মন্দির। মিশিগানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ মন্দিরে প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী আয়োজনে পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে দুর্গোৎসব কেবল ধর্মীয় আচার পালনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এটি হয়ে উঠেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার এবং নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। পূজামণ্ডপগুলোতে পরিবারপরিজন ও বন্ধুবান্ধবের মিলনমেলা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা প্রবাসের মাটিতে তুলে ধরে বাঙালির চিরায়ত উৎসবের আবহ।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন