https://www.prothomalony.com/

18369

north-america

উত্তর আমেরিকা

নিউইয়র্কে আইজিপিডি ও ইউবিএমের আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩৪

নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির (আইজিপিডি) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে উম্মাহ বাংলা মিডিয়ার (ইউবিএম) আন্তর্জাতিক কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়।

নতুন চিন্তা, গবেষণা, উদ্ভাবন, নীতি প্রণয়ন ও কূটনৈতিক কৌশল নিয়ে কাজের লক্ষ্যেই এ দুটি উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ থেকে আগত এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জুর উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দেশ, জাতি ও মানবতার শান্তি, কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আজিজুর রহমান।

আইজিপিডি একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক ও নীতি গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার, কৌশলগত অ্যাডভোকেসি, জোট গঠন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নীতি গবেষণা ও নীতি উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করবে।

প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে নতুন মেধা ও চিন্তার বিকাশ, উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি এবং ভবিষ্যৎমুখী নীতি ও কূটনৈতিক কৌশল প্রণয়ন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মেধা, পেশাগত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইজিপিডি শুধু আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। গবেষণা, নীতি প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি, মানবাধিকার, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও কূটনৈতিক সেতুবন্ধ তৈরিতেও কাজ করবে।

একই অনুষ্ঠানে উম্মাহ বাংলা মিডিয়ার আন্তর্জাতিক কার্যক্রমেরও সূচনা হয়। সংবাদ, গণমাধ্যম, কমিউনিটি ও বৈশ্বিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ইউবিএম বাংলাদেশ, প্রবাসী বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগের সেতুবন্ধ তৈরিতে কাজ করবে।


কমিউনিটির কণ্ঠস্বর তুলে ধরা, মানবাধিকার ও জনস্বার্থের বিষয় সামনে আনা এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাও ইউবিএমের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সংস্কার, প্রবাসী–বাংলাদেশ কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতা তৈরি এবং বাংলাদেশ ও প্রবাসী প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আলোচনায় জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করা হয়। মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নির্মাণে নাগরিক ও প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সোহেব, ড. শেখ মিজান, আজিজুর রহমান, রহমতুল্লাহ, হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন, আবদুল আলীম, দিপন গাজী, সামাজিক ন্যায়বিচারবিষয়ক পরিচালক মাহতাব উদ্দিন, মিনা ফারা, কাজী ফৌজিয়া, কবি কাজী জহিরুল ইসলাম ও অধ্যাপক সৈয়দ আজাদ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কমিউনিটি কর্মকর্তা সোহেল রানা, একজন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং ফেডারেল সরকারের কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির এমদাদ রহমান।

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড প্রমিথিউসের বিপ্লবসহ সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, সমাজকর্মী এবং নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সমন্বয় করেন প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবদুল কাদের।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন