https://www.prothomalony.com/
18368
bangladesh
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৩২
বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক, জনমুখী ও মানসম্মত করতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহকারী স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, নতুন সরকারের পরিকল্পনা, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, বিদেশমুখী চিকিৎসা এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ডা. পারভেজ রেজা কাকন বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা চিকিৎসক নিয়োগ করলেই হবে না; একই সঙ্গে চিকিৎসাসেবার মান, জবাবদিহি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রোগীর প্রতি চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
নতুন সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে। সরকারের পাঁচ বছরের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার পরিকল্পনার কথাও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে ডা. কাকন বলেন, রোগীরা যাতে চিকিৎসকের সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১০০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। পর্যায়ক্রমে বায়োমেট্রিক ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর কথাও বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার মান উন্নত হলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতাও কমবে। একসময় বাংলাদেশি রোগীদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতেন। এখন চীনসহ বিভিন্ন দেশ উন্নত চিকিৎসা, প্রযুক্তি ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেরও আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল ও উন্নত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা গড়ে তুলতে হবে।
চীনের সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের সঙ্গে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী বিনিময়, যৌথ গবেষণা ও উন্নত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ডা. কাকনের মতে, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে হলে দেশের মানুষকে আস্থা দেওয়ার মতো স্বাস্থ্যব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। রোগী যেন তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা দেশের ভেতরেই পান—এটাই হওয়া উচিত স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক হলে চলবে না। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদ পূরণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি। একই সময়ে সরকার ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগের কথা জানিয়েছে।
ডা. পারভেজ রেজা কাকন বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হলে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করতে হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসা, জরুরি সেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে স্বাস্থ্য সংস্কারের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার কথা বলেছেন। তার সরকারের লক্ষ্য হিসেবে তিনি এমন একটি ‘হেলদি বাংলাদেশে’র কথা তুলে ধরেছেন, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায় থেকেই শুরু হবে।
ডা. কাকনের মতে, একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষ—সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারলে বিদেশমুখী চিকিৎসার প্রবণতা কমার পাশাপাশি বাংলাদেশের চিকিৎসা খাতও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন