https://www.prothomalony.com/

18367

north-america

উত্তর আমেরিকা

দেশে ফিরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সামাজিক কাজে যুক্ত হতে চান ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০৪

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একান্তে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরেণ্য প্রবাসী বাংলাদেশি, স্কুল অব লিডারশিপ ও বাঙালির পাঠশালার প্রতিষ্ঠাতা ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন বাঙালি। ওই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে নেতৃত্ব উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সম্প্রতি এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে ড. গোলাম রাব্বানী নয়ন তার নেতৃত্ব উন্নয়ন, ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি, গ্রামীণ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। নেতৃত্ব উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতৃত্ব শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি জীবন, পরিবার, সমাজ ও পেশাগত জীবনেও নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে। অনেক মেধাবী ও উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করেও নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারেন না।

তার মতে, নেতৃত্ব সবার মধ্যে জন্মগতভাবে থাকে না; ধীরে ধীরে তা তৈরি করতে হয়। এ জন্য পেশাগত নেতৃত্ব, শিক্ষাগত নেতৃত্ব, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্বকে আলাদা কম্পোনেন্ট হিসেবে বিবেচনা করে কাজ করা প্রয়োজন।

ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ‘পলিটিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার’ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে চান। তার ভাষায়, এর অর্থ হলো ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি। কোনো রাজনৈতিক কর্মী যদি পরিবেশবিষয়ক দায়িত্বে থাকেন, তাহলে তাকে পরিবেশ সম্পর্কে জানতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ করতে হবে। একইভাবে শিক্ষা বিষয়ক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে শিক্ষা খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বে ইস্যুভিত্তিক দায়িত্ব ও জ্ঞান তৈরি হলে রাজনৈতিক সংস্কারের পথও আরও শক্তিশালী হবে। রাজনীতিতে নির্দিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

গ্রামীণ বিরোধ ও সামাজিক সংঘাত প্রসঙ্গে ড. রাব্বানীবলেন, দেশে গ্রাম থেকে পরিবার—বিভিন্ন পর্যায়ে নানা ধরনের বিরোধ রয়েছে। এসব বিরোধ সমাধানে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ভিলেজ কোর্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভিলেজ কোর্ট ব্যবস্থা রয়েছে, তবে মাঠপর্যায়ে এ ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানুষ তৈরি করা প্রয়োজন। নেতৃত্ব উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের এ বিষয়ে অভিজ্ঞ করে তুলে ভিলেজ কোর্টে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ভিন্নধারার একটি কার্যকর ভিলেজ কোর্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

ড. গোলাম রাব্বানী  ‘চা ঘর’ ধারণার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি শুধু চা খাওয়ার জায়গা নয়; বরং গ্রামীণ কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট, তথ্য আদান-প্রদান ও সামাজিক যোগাযোগের একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।

তার ভাষায়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের টং দোকান বা চায়ের দোকান এক ধরনের সামাজিক নেটওয়ার্কিং সেল হিসেবে কাজ করে। সেখানে গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিয়মিত আড্ডা দেন এবং তথ্য বিনিময় করেন। এই বাস্তবতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সচেতনতা ও জনস্বার্থের বিভিন্ন তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, একটি টং দোকানের মালিককে যদি যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে তিনি তার এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারেন। এভাবে শতাধিক টং দোকানকে একটি নেটওয়ার্কে যুক্ত করা গেলে শতাধিক গ্রামের মানুষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনের বিষয়ে জানতে চাইলে  ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে দেশে ফিরে কাজ করার জন্য একাধিকবার বলেছেন। তিনি বলেন, দেশে ফেরার ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন ও কাজের দর্শন থাকা প্রয়োজন।

ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী। তবে দেশে ফিরে তিনি নেতৃত্ব উন্নয়ন, সামাজিক উন্নয়ন, ইস্যুভিত্তিক রাজনীতি ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্টের মতো বিষয়গুলোকে কাজের দর্শনের সঙ্গে যুক্ত করতে চান।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের সঙ্গেও দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানকে তিনি দেশে ফিরে মানুষের জন্য কাজ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন