https://www.prothomalony.com/
18148
literature
কবি ও কবিতাপ্রেমীদের কাছে বেদনাবিধুর একটি
শোকাহতের দিন হয়ে রইল ১১ সেপ্টেম্বর। বিশেষত
শিশু সাহিত্য ও আধুনিক ছড়া রচনা ও পাঠে সংশ্লিষ্টরা
আধুনিক বাংলা শিশু সাহিত্যের রূপকার আমীরুল ইসলামের প্রয়াণে শোকাভিভূত। তিনি ছোটগল্প এবং উপন্যাসও লিখেছেন নিয়মিত। জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যনেল ‘চ্যানেল আই’য়ের অনুষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসাবে দর্শকের কাছে ভীষণ প্রিয় নির্মাতা ও পরিকল্পক ছিলেন।
কবিতার একপাতা’ গভীর শোক জ্ঞাপন করছে। তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা নিবেদন করছি কবিতা—‘আনন্দলোকের অনিন্দ্যযাত্রী!’
আনন্দলোকের অনিন্দ্যযাত্রী
(শিশুসাহিত্যের বরপুরুষ আমীরুল ইসলামকে শ্রদ্ধা)
সান্নিধ্য যাকে বলে, তেমন কাছে খুব করে তাকে পাইনি,
দ্বিপ্রহরের গনগনে সূর্য়ের তেজ পড়ল্ত বেলায় কমে এলে
বৈকালিক ভ্রমণে নদীর পাড় ধরে আমরা হেঁটেছি সদলে
সকল আলোচনা, সব তর্কের কেন্দ্রাভিমুখ তাকেই মানি
তার থেকে অনেক দূরের বাসিন্দা পরবাসী আমি
তবু হৃদয়ের গহীনে একান্ত তার বসবাস ছিল জানি
অতোটা বেপরোয়া না হলেও স্বভাবে মিল ছিল
স্বভাব কোমলতায় প্রসারিত হাত বাড়িয়েই রেখেছিল
বড়োদের সাথে বড়ো, শিশুদের সাথে হয়ে শিশু
সমবয়সী যেন সব বয়সীর, সমব্যথী যন্ত্রণাগ্রস্থের
নিজের ব্যথা ভুলে ছুটেছে অন্যের ব্যখা উপশমে
কেন্দ্রের প্রবল টান বই ও বন্ধুকে দিয়েছে সাথে
শিশু সাহিত্য নিয়েছে টেনে রেখেছে সাধনরত
স্বীকৃতি বোঝার আগেই শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার করতলগত
আনন্দলোকে নতুন পুরস্কার আছে জানি অপেক্ষায়
কাব্যের সে জলসায় আবার হবে দেখা—
আপ্যায়িত হবো তোমার অমৃত রেসিপি আর সোমরস সুধায়!
সম্পূরক প্রেম অপ্রেম
কাজী আতীক
শরত প্রবাহ যদি ছুঁয়েছিলো তার নিষিক্ত অনুভব,
শুভ্র শোভন হিল্লোলে যদি নেচে উঠেছিলো প্রাণ
তুমি কেনো তখোন ইতস্তত ভাসমান খণ্ড মেঘে
শুধু বিষাদ দেখতে পাও? কেনো দেখতে পাওনা
ছোপ ছোপ শুভ্র ও নীলে তার আঁচলের কারুকাজ।
দেখোনি? দিনের শুরু এবং শেষের উদয়াস্ত মহারণ
এক বিহ্বল সমর্পণ, আলো আঁধারের মিলন সন্ধিক্ষণ।
যে স্বপ্ন দেখতে জানে, সে বুঝে ভাবার্থ এসবের
যে পারে লোভাতুর বোধকে উপেক্ষা দেখাতে
সে জানে, যেমন ষড়ঋতু প্রকৃতির সম্পূরক প্রেম।
আসলে- কোনো বিভাজন নেই দহন ও প্রেমে,
যদি অপ্রেম বোধ থেকে ফেরাতে পারো চোখ,
বুঝতে পারবে তুমিও অন্তরে এক অরূপ রূপকার।
দেখতে পাবে তুমিও বিরল সেই মুগ্ধ রূপ দয়িতার।
দেখা
মারুফুল ইসলাম
আমি আজও এখানেই আছি
তুই চলে গেছিস ওখানে
আমাদের দেখা হতো রোজ
হাকিমের চায়ের দোকানে
রাতবিরেতে এখন আর
তোর কণ্ঠ আসে না কানে
টেলিফোনে জমে না আড্ডা
প্রেমের কবিতা আর গানে
এখানে হবে না তোর আসা
চলে যাব আমিই ওখানে
আমাদের দেখা হবে ফের
তরমুজ মদের দোকানে
পাপিয়াদের গৃহকারুকাজ
শিউল মনজুর
বেদনার বকুল ঘ্রাণ ফিরে ফিরে আসে
পাপিয়াদের গৃহকারুকাজে, অথচ
সে তো জানে নদী তীরে ফুটেছে ফুল—
নাম তার দুঃখবিলাস, কেউ কেউ বলে কাশফুলের মেলা
রঙিনমাছের ভুবনে; সম্পর্ক যেন উজানভাটির খেলা
এই প্রপাতে একা একা বুনে চলেছি
আসন্ন শীতের কুয়াশাভেজা মাফলার এবং
তোমার জন্যে একটি শিউলিমালা
তোমার আঁচলে
ইকবাল হোসেন বুলবুল
নদীও যে বাঁক বদলায়,
জলশূন্য হয়,
হয় পথহারা;
তারপরও নদীজলে ভাসাই শরীর।
এ দেহে জমানো নিদ্রা
রাখি যেন তোমার আঁচলে…
তুমিই রেখেছ যত্নে
কাগজের নৌকা,
কাঠের লাটিম,
নাটাই-সুতোয় বাঁধা ঘুড়ি,
ফড়িং আর প্রজাপতি-ধরা সেই বেলা…
প্রশ্ন করো না, জবাব পাবে না
অপরাহ্ণ সুসমিতো
মাথা থেকে টুপিটা নামিয়ে নিল, আঙ্গুল দিয়ে চুল
বিন্যস্ত করল। মাথা ঘেমে আছে। পকেটে রুমাল রাখে না সে।
ন্যাপকিন থাকলে ভালো হতো। হাত ভিজে গেছে। ঘামে
একধরণের ঘুমের আবেশ আছে। একটু ঘুমালে হতো।
ঘুমানোর জন্য এই রকম আষাঢ়-ভাবনা নিজের শরীরে
ছড়াতে আরাম। চারিদিকে গরম প্লাবন আর সে ঘামছে আর
ঘুমাচ্ছে। টানা ঘুম আর মাঝে মাঝে উঠে খানিক খাবারের
আয়োজন। ঘুম ভাঙ্গল খিদে নিয়ে। আবার খেয়ে নেয়ে আবার
ঘুম। গরমকে সে ডাকল;
: গ র ম
: বলো
: এসেছ তো আবার ঘাম নিয়ে এলে কেন?
: প্রশ্ন করো না। কেউ প্রশ্ন পছন্দ করে না। জানো না সক্রেটিস
হেমলক পান করে মরেছে প্রশ্নের খেসারতে
সে হাঁটতে হাঁটতে সিদ্ধান্ত নিল কাছের একটা চিড়িয়াখানায়
যাবে। চিড়িয়াখানায় আবদ্ধ প্রাণীদের চোখের ভাষা পড়বে।
ছবি তুলবে। যে অজগরের খাঁচায় জ্যান্ত খরগোশ ছেড়ে দেয়া
হয় তার একটা ছবি তুলবে।
সে ছবি তুলল না কারণ খরগোশ তখন পেটে চলে গেছে।
বস্তুত দিনান্তের শ্লোক
রওশন হাসান
প্রতীক্ষা দীর্ঘ হলে চারপাশ জুড়ে ওঠে দীঘল দেয়াল।
রোদ, জ্যোৎস্নার ডানা ওড়ে অন্য অক্ষাংশ,
কোলাহল পাঁজরে— অতর্কিত স্টেশনে ঝরে কার
প্রগাঢ় দীর্ঘশ্বাস !
অনাবিল শারদ উড়াল দিনে জানালা-জাফরি
ভেঙে ঢুকে পড়ে ভগ্নাংশ সকাল—
অজস্র প্রতিশ্রুতি কারাগারে জাগ্রত চোখ ।
অবসন্ন দেহ তুলে দেয় হৃদয়দুয়ারে খিল।
ইকোশব্দ তুলে কোন্ দ্রাঘিমায় ছুটে চলো মোমের পুতুল ?
করস্পর্শের উত্তাপে স্বপ্নের সংকটে
তখনও কি ছুঁয়েছিলো শোক?
ফিরে যায় রমণীচরিত— ক্লান্তিহর কোমল অন্ধকারে।
হে মধ্যরাতের বরষা তুমি কি—
এক আকাশ সজল বৃষ্টিসেনা পাঠাবে
পৃথিবীতে সকল মৃত্যু রুখে দিতে ?
নিরুদ্দেশ
রেজা শামীম
রেজিস্টার্ড চিঠিগুলো
ফিরে যাবে প্রেরকের কাছে-
আনডেলিভারেবল।
সাধারণ চিঠিতে যখন
উপচে পড়বে মেইলবক্স,
বিরক্ত পিয়ন এসে
কড়া নাড়বে দরোজায়।
একদিন, দুইদিন।
সাড়াহীন।
দরজার কড়ায় ঝুলবে
‘উই মিসড ইউ' নোটিশ
সেও একদিন খসে পড়ে যাবে
আলগা বাতাসের তোড়ে।
তারপর একদিন
এই ঠিকানায় আসা প্রতিটি খাম
ফিরে যাবে প্রেরকের কাছে,
সঙ্গে নিয়ে যাবে
একটি ছোট্ট খবর—
হি ডাজ়ন্ট লিভ হিয়ার এনিমোর...
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন