https://www.prothomalony.com/

18147

opinion

অভিমত

পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব

খতিব, নূরে মদীনা জামে মসজিদ, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৫

পাপ তথা আল্লাহর নাফরমানি মানবজীবনের নানা দিকে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। পাপের ফলে বান্দা দুনিয়াবি জীবনে নানা অকল্যাণের সম্মুখীন হয়, আর আখিরাতেও তাকে শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করতে হয়। এই নিবন্ধে পাপের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

পাপের কারণে সর্বপ্রথম প্রভাব পড়ে বান্দার অন্তরে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, পুণ্য হলো মুখমণ্ডলের লাবণ্য, অন্তরের জ্যোতি, জীবিকার প্রশস্ততা ও সৃষ্টির হৃদয়ে ভালোবাসার কারণ; আর পাপ হলো মুখমণ্ডলে কালিমা, অন্তরের অন্ধকার, জীবিকার সংকোচন এবং সৃষ্টির হৃদয়ে অসন্তোষের কারণ (ইবনে তাইমিয়া, আমরাজুল কুলুব ওয়া শিফাউহা: ৭)। পাপাচার মানুষের আত্মমর্যাদাবোধও ক্ষুণ্ণ করে দেয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সাদ ইবনে উবাদার আত্মমর্যাদাবোধে তোমরা আশ্চর্য হচ্ছ? আমি তার চেয়েও অধিক আত্মসম্মানী, আর আল্লাহ আমার চেয়েও অধিক (সহিহ বুখারি: ৬৮৪৬, ৭৪১৬, সহিহ মুসলিম: ১৪৯৯)।

পাপাচার মানুষকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে। আল্লাহ বলেন, বহু মানুষের উপর শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে, আর আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেন তাকে সম্মান দেওয়ার কেউ নেই (সূরা হজ্জ: ১৮)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অপমান ও লাঞ্ছনা রাখা হয়েছে আমার আদেশের বিরোধীদের জন্য (মুসনাদে আহমাদ: ৫১১৪)। পাপাচার মানুষকে লজ্জাহীনও করে তোলে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পূর্ববর্তী নবীদের বাণীসমূহের মধ্যে একটি হলো, যদি তোমার লজ্জা না থাকে তাহলে যা ইচ্ছা তাই করো (সহিহ বুখারি: ৩৪৮৩-৩৪৮৪)।

গুনাহের কারণে মানবহৃদয় অধঃপতিত হয় এবং বাতিলকে হক ও হককে বাতিল মনে হতে শুরু করে। হুযায়ফা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ফিতনা মানুষের হৃদয়ে চাটাইয়ের পাতার মতো একটির পর একটি প্রবেশ করে; যে হৃদয় তা গ্রহণ করে সেখানে কালো দাগ পড়ে, আর যে হৃদয় তার প্রতিবাদ করে সেখানে সাদা দাগ পড়ে (সহিহ মুসলিম: ১৪৪)। অন্য হাদিসে আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, বান্দা একটি গুনাহ করলে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে; সে তওবা করলে অন্তর পরিষ্কার হয়ে যায়, আর গুনাহ করতে থাকলে দাগ বৃদ্ধি পেয়ে পুরো অন্তর ঢেকে যায়, আর এটাই সেই মরিচা যার কথা আল্লাহ বলেছেন, তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে মরিচা ধরিয়েছে (সূরা মুতাফফিফিন: ১৪; তিরমিযি: ৩৩৩৪)।

পাপাচার মানুষের বক্ষ সংকুচিত করে দেয়। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ যাকে সুপথ দেখাতে চান তার বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান তার বক্ষ সংকুচিত করে দেন, যেন সে কষ্টে আকাশে আরোহণ করছে (সূরা আনআম: ১২৫)। পাপাচার মানুষের অন্তরে আল্লাহর মাহাত্ম্যও দুর্বল করে দেয়। আল্লাহ বলেন, তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদের আত্মভোলা করে দিয়েছেন, তারাই অবাধ্য (সূরা হাশর: ১৯)।

দুনিয়াবি জীবনেও পাপের প্রভাব সুদূরপ্রসারী। পাপী ব্যক্তি একটি পাপ করে থেমে যায় না, বরং একের পর এক পাপ করতেই থাকে। ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মুমিন তার গুনাহকে এমন মনে করে যেন সে পাহাড়ের নিচে বসে আছে আর আশঙ্কা করছে তা তার উপর ধসে পড়বে; আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহকে মাছির মতো মনে করে যা নাকের উপর দিয়ে উড়ে যায় (সহিহ বুখারি: ৬৩০৮, তিরমিযি: ২৪৯৭)। হাসান বসরি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নেক আমলের প্রতিদান হলো তার পরে আরেকটি নেক আমল করতে পারা, আর পাপের পরিণাম হলো তার পরে আরেকটি পাপ করে ফেলা (ইবনুল কাইয়্যিম, মিফতাহু দারিস সাআদাহ: ১/২৯৯)।

আল্লাহর অবাধ্যতা বান্দাকে আল্লাহর বিস্মৃতির শিকার করে। আল্লাহ বলেন, তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহও তাদের ভুলে গেছেন (সূরা তওবা: ৬৭)। পাপাচার আল্লাহর রহমত ও নিয়ামত থেকেও বঞ্চিত করে। আল্লাহ বলেন, তোমাদের যেসব বিপদাপদ হয় তা তোমাদেরই কৃতকর্মের ফল, আর তিনি তোমাদের অনেক পাপ মার্জনা করে দেন (সূরা শুরা: ৩০)। অন্যত্র বলা হয়েছে, আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের নিয়ামত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরাই তা পরিবর্তন করে (সূরা আনফাল: ৫৩)।

পাপাচার আজাবকেও অবধারিত করে তোলে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মানুষ যতক্ষণ না নিজেদের পাপাচার ব্যাপক করে এবং কোনো ওজর পেশ করার সুযোগ না থাকে, ততক্ষণ তারা ধ্বংস হবে না (সুনানে আবু দাউদ: ৪৩৪৭)। পাপাচার রিযিক থেকেও বঞ্চিত করে। আল্লাহ বলেন, যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উপায় বের করে দেন এবং তার ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক প্রদান করেন (সূরা তালাক: ২-৩)।

সততা সম্পদে বরকত বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে পাপাচার তা দূর করে দেয়। হাকিম ইবনে হিযাম রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ক্রেতা-বিক্রেতা সত্য বলে ও যথাযথ অবস্থা বর্ণনা করলে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হয়, আর মিথ্যা বললে বরকত চলে যায় (সহিহ বুখারি: ২০৭৯, ২০৮২, সহিহ মুসলিম: ১৫৩২)। আল্লাহর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে দুনিয়ার জীবনও সংকীর্ণ হয়ে যায়— আল্লাহ বলেন, যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবিকা হবে সংকুচিত (সূরা ত্বহা: ১২৪)।

পাপাচার রোগ-ব্যাধি ও কষ্টভোগেরও কারণ হয়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে পাপাচার হতে থাকলে এবং প্রভাবশালীরা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বাধা না দিলে আল্লাহ তাদের উপর ব্যাপক শাস্তি পাঠান (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০০৯)। অন্যত্র বলা হয়েছে, কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে প্লেগ ও এমন ব্যাধির প্রাদুর্ভাব হয় যা পূর্বসূরিরা কখনো দেখেনি (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪০১৯)।

পাপাচার কেবল আখিরাতের শাস্তিই নয়, দুনিয়ার জীবনেও অন্তরের অন্ধকার, রিযিকের সংকোচন, সম্পদের বরকতহীনতা ও রোগ-ব্যাধির মতো নানা অকল্যাণ ডেকে আনে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত সর্বদা তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে অন্তরকে পরিষ্কার রাখা এবং পাপাচার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পাপাচারের ভয়াবহ পরিণতি থেকে হেফাজত করুন এবং তাঁর আনুগত্যের তাওফিক দান করুন। আমীন।

আলেমের গুরুত্ব ও মর্যাদা

আমীমুল ইহসান

শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম।

দ্বীন সম্পর্কে বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণই হলেন আলেম, যারা দ্বীনের সংরক্ষণ ও ইলম বিতরণের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। ফলে ইহকালে যেমন তারা নন্দিত হন, তেমনি পরকালেও সম্মানিত ও সফলকাম হবেন। কুরআন-হাদিসে তাদের গুরুত্ব ও মর্যাদা সবিস্তারে আলোচিত হয়েছে।

প্রত্যেক মানুষকে কখনো না কখনো আলেমের মুখাপেক্ষী হতে হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, যদি তোমরা না জানো, তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো (সূরা নাহল: ৪৩, সূরা আম্বিয়া: ৭)। ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, আহলুয যিকর হলো কুরআনের জ্ঞানীগণ (তাফসিরে কুরতুবি: ১০/১১৪)। আবুদ্দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মানুষের মধ্যে আলেমদের উদাহরণ আকাশের নক্ষত্রের মতো, যার দ্বারা পথের দিশা পাওয়া যায়।

আল্লাহ তায়ালা দ্বীনী ইলমের অধিকারীকে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদাবান করেছেন। আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের উচ্চ মর্যাদা দান করবেন (সূরা মুজাদালা: ১১)। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ এই কুরআনের মাধ্যমে কোনো জাতিকে উন্নত করেন, আবার কাউকে অবনত করেন (সহিহ মুসলিম: ৮১৭, সুনানে ইবনে মাজাহ: ২১৮)। ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই ইলম তার অধিকারীকে দুনিয়া-আখিরাতে এমন মর্যাদা দেয় যা রাজত্ব বা সম্পদ দিতে পারে না; ইলম সম্মানিতের সম্মান বাড়ায় এবং দাসকেও রাজাদের পরিষদে বসিয়ে দেয় (ফাযলুল ইলম ওয়াল উলামা)।

আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবীজিকে জিজ্ঞেস করা হলো মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত কে? তিনি বললেন, সর্বাধিক মুত্তাকী; অতঃপর তিনি জানালেন, জাহেলি যুগে যারা সর্বোত্তম ছিল, ইসলামেও তারা সর্বোত্তম যদি তারা দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করে (সহিহ বুখারি: ৩৩৫৩, সহিহ মুসলিম: ২৩৭৮)। আবেদের চেয়ে আলেমের মর্যাদা অধিক— আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আলেমের মর্যাদা আবেদের উপর তেমন, যেমন আমার মর্যাদা তোমাদের সাধারণের উপর; আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং আসমান-জমিনের সকল বাসিন্দা এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও মাছ পর্যন্ত মানুষের শিক্ষাগুরুদের জন্য দোয়া করে (তিরমিযি: ২৬৮৫)। আবুদ্দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আবেদের উপর আলেমের মর্যাদা যেমন সকল তারকার উপর পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা (সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৪১)।

আলেমের জন্য আসমান-জমিনের সবাই ক্ষমা প্রার্থনা করে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আলেমের জন্য আকাশ-পৃথিবীর সকল বাসিন্দা এমনকি পানির মাছও ক্ষমা প্রার্থনা করে (সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৪৩, তিরমিযি: ২৬৮২)। হিংসা মহাপাপ হলেও দুটি ক্ষেত্রে ঈর্ষা জায়েজ— ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যাকে আল্লাহ ধন-সম্পদ দিয়ে সৎপথে ব্যয়ের সামর্থ্য দিয়েছেন এবং যাকে আল্লাহ জ্ঞান দিয়েছেন যা দিয়ে সে বিচার করে ও শিক্ষা দেয় (সহিহ বুখারি: ৭৩, ১৪০৯, সহিহ মুসলিম: ১৯৩৩)।

জ্ঞানীরাই আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেন। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আর ফেরেশতামণ্ডলী ও ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও এই সাক্ষ্য দেন (সূরা আলে ইমরান: ১৮)। ইমাম কুরতুবি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই আয়াত ইলম ও আলেমদের সম্মান-মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। আলেমগণ নবীদের উত্তরাধিকারী— আবুদ্দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, নবীগণ স্বর্ণ-রৌপ্য মুদ্রার উত্তরাধিকারী বানাননি, বরং ইলমের উত্তরাধিকারী বানিয়ে গেছেন, যে তা অর্জন করল সে পূর্ণাংশই লাভ করল (সুনানে আবু দাউদ: ৩৬৪৩, তিরমিযি: ২৬৮২)।

আলেমরাই আল্লাহকে সর্বাধিক ভয় করেন, কেননা তারা তাঁর মহত্ত্ব সম্পর্কে অধিক অবগত। আল্লাহ বলেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে (সূরা ফাতির: ২৮)। হাফেজ ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যে যত বেশি আল্লাহ সম্বন্ধে জানবে, তার অন্তরে তাঁর ভয় তত বেশি জাগ্রত হবে। ইমামতির ক্ষেত্রেও ইলমের গুরুত্ব সুস্পষ্ট— আবু মাসউদ আনসারি রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে কুরআন তেলাওয়াতে বেশি পারদর্শী সে ইমামতি করবে, সমান হলে যে বেশি হাদিস জানে (সহিহ মুসলিম: ৬৭৩)।

কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যা প্রকৃত আলেমরাই বুঝতে সক্ষম। আল্লাহ বলেন, কুরআনের মুতাশাবিহ আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না, তবে গভীর জ্ঞানীরা বলে আমরা এতে বিশ্বাস স্থাপন করলাম (সূরা আলে ইমরান: ৭)। আল্লাহ আরও বলেন, যাদের জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, তাদের অন্তরে কুরআন স্পষ্ট নিদর্শন (সূরা আনকাবুত: ৪৯)। আলেম ও জাহেল কখনো সমান নয়— আল্লাহ বলেন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? জ্ঞানীরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে (সূরা যুমার: ৯)।

আলেমদের অধিকার রক্ষার নির্দেশও দিয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উবাদা ইবনে সামিত রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আলেমের অধিকার সম্পর্কে জানে না, সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয় (মুসনাদে আহমাদ: ২২৭৫৫)। আলেম না থাকা ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়— ইবনে মাসউদ রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যখন আমানতদার কমে যাবে, বিজ্ঞ আলেম কমে যাবে এবং দ্বীন ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞান অন্বেষণ করা হবে, তখনই ফিতনা দেখা দেবে (ইবনে আবি শায়বা: ৩৭১৫৬)। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহ আলেমদের উঠিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই ইলম তুলে নেবেন, এরপর মানুষ মূর্খদের নেতা বানাবে যারা না জেনে ফতোয়া দিয়ে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে ও অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে (সহিহ বুখারি: ৭৩০৭, সহিহ মুসলিম: ৬৯৭১)।

আলেমদের মর্যাদা কুরআন-হাদিসে বহুবিধভাবে প্রতিষ্ঠিত— তারা নবীদের উত্তরাধিকারী, সৃষ্টিজগতের দোয়ার পাত্র এবং আল্লাহর সর্বাধিক ভীত বান্দা। তাই প্রত্যেক মুসলিমের উচিত দ্বীনি ইলম অর্জন করা, তদনুযায়ী আমল করা এবং কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন সাজিয়ে আখিরাতে সম্মানিত হওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে এই তাওফিক দান করুন। আমীন।

অভিমত থেকে আরো পড়ুন