https://www.prothomalony.com/
18092
opinion
ভূমিকা: শিল্পের শক্তি সীমাহীন; তাকে কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম বা ভৌগোলিক গণ্ডিতে আটকে রাখা যায় না। ক্যানভাসের রঙ ও তুলির আঁচড় যখন মানুষের চলন ও ব্যক্তিত্বের সাথে মিশে যায়, তখন উন্মোচিত হয় শিল্পের এক গতিশীল ও ত্রিমাত্রিক রূপ। আধুনিক নান্দনিকতায় পোশাক আর কেবল পরিধেয় নয়, বরং তা হয়ে ওঠে এক জীবন্ত ক্যানভাস—যা সংস্কৃতিকে ধারণ করে এবং অনুভূতির গভীরে স্পর্শ করে।
আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের সুবিশাল অঙ্গনে দৃশ্যশিল্প (ফাইন আর্টস) ও উচ্চমানের দর্জিশিল্প বা 'ক্যুতুর'-এর এমন এক অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটিয়ে প্রবাসের মাটিতে দেশীয় ঐতিহ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বিশিষ্ট শিল্পী ও ফ্যাশন ডিজাইনার ফাতিমা ফারজানা। পাশ্চাত্যের চারুকলা ও ফ্যাশনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর নকশায় এনে দিয়েছে বিরল নান্দনিকতা ও ভারসাম্যপূর্ণ শিল্পবোধ। স্বদেশের শিকড়ের টানে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে পরম গর্বের সাথে তুলে ধরছেন বাংলাদেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী মসলিন, রাজশাহী সিল্ক, ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও লোকজ মোটিফ।
তাঁর নিজস্ব ব্র্যান্ড ভাবনা 'Canvas to Couture' কেবল একটি বাণিজ্যিক নাম নয়; এটি ফাইন আর্টস এবং রেড-কার্পেট ফ্যাশনের মধ্যে চলা এক গভীর সংলাপ। ক্যানভাসের স্থির রঙ কীভাবে রক্তমাংসের শরীরে প্রাণ পায়, তা-ই প্রতীয়মান হয় তাঁর সৃষ্টিতে। ক্যানভাস থেকে ক্যুতুরের এই অভাবনীয় শিল্পিত রূপান্তর নিয়েই উত্তর আমেরিকার 'শিল্পঘর' পাতার আজকের এই বিশেষ পর্যালোচনা।

ধন্যবাদান্তে—রোকেয়া দীপা
তুলির স্পর্শে ফ্যাশনের রঙ: শিল্পী ফাতিমা ফারজানা
ফাতিমা ফারজানার শিল্পীসত্তার মূল শিকড় খুব গভীরে প্রোথিত চারুকলা বা ফাইন আর্টসে। শৈশব থেকেই সাদা ক্যানভাস, তেলরং, তুলি, প্যালেট নাইফ আর ভাস্কর্যের সাথে গড়ে উঠেছিল তাঁর নিবিড় আত্মিক সখ্য। তিনি জানান, ক্যানভাসে রঙের পর রঙ চাপিয়ে নতুন রূপ সৃষ্টির মাঝেই তিনি খুঁজে পেতেন আত্মপ্রকাশের আনন্দ। তবে ক্যানভাসে নিয়মিত ছবি আঁকার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই তাঁর অবচেতন মনে কাজ করত এক প্রচ্ছন্ন ফ্যাশন-ভাবনা। নিজের কিংবা পরিবারের সদস্য ও বান্ধবীদের সাধারণ পোশাকে ছোট ছোট রূপান্তর আনা ছিল তাঁর শৈশবের এক আনন্দঘন চর্চা। ঈদের দিন কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে কেনা পোশাকের নকশায় হয়তো তিনি নিজের হাতে তৈরি কাপড়ের একটি ফুল বসিয়ে দিতেন, যুক্ত করতেন রঙিন ফিতা, কিংবা জামার হাতার কাটিংয়ে আনতেন এমন বৈচিত্র্য—যা মুহূর্তেই পোশাকটির পুরো রূপ বদলে দিত। চারপাশের মানুষের সেই রুচিশীল কাজের প্রশংসা পাওয়ার মধ্য দিয়েই অলক্ষ্যে রোপিত হচ্ছিল আজকের প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশন ডিজাইনার হয়ে ওঠার বীজ।
একজন চিত্রশিল্পী যখন কোনো ফ্রেমবদ্ধ ক্যানভাসে ছবি আঁকেন, সেই চিত্রকর্মটি দেয়াল বা গ্যালারিতে চিরকাল স্থির হয়ে থাকে। দর্শক সেখানে দাঁড়িয়ে একমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে তা উপভোগ করেন। কিন্তু একজন মানুষ যখন চারুকলার নান্দনিক ছোঁয়াযুক্ত কোনো পোশাক পরিধান করেন, তখন সেই শিল্পকর্মটি আর দেয়ালে আটকে থাকে না; তা পরিধানকারীর শারীরিক চলন, শ্বাস-প্রশ্বাস ও নিজস্ব ব্যক্তিত্বের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ফাতিমা ফারজানার দর্শনে ফ্যাশন হলো শিল্পেরই এক গতিশীল বা 'মোবাইল' রূপ। তিনি বলেন, "গ্যালারির চার দেয়ালের আবদ্ধ গণ্ডি থেকে শিল্পকে বের করে এনে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারা, সামাজিক উদযাপন ও রানওয়েতে ছড়িয়ে দেওয়াই আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।"
তবে, ক্যানভাসের স্থির ছবি থেকে কাপড়ের গতিশীল পোশাকে এই রূপান্তরের যাত্রা সহজ নয় বলে-জানান তিনি।
তাঁর মতে, ক্যানভাসে কাজের সময় শিল্পীকে কেবল দ্বিমাত্রিক স্পেস, রঙের কম্পোজিশন ও আলো-ছায়ার সমীকরণ ভাবতে হয়। কিন্তু সেই একই শিল্পকলাকে যখন পোশাকে রূপ দিতে হয়, তখন ডিজাইনারকে ভাবতে হয় মানুষের এনাটোমি, কাপড়ের স্বাভাবিক পতন বা ড্র্যাপিং, ত্রিমাত্রিক ভলিউম, আলোর প্রতিফলন এবং হাঁটার সময় কাপড়ের গতিশীল সিলুয়েট নিয়ে।
এই কৌশলগত ও নান্দনিক রূপান্তরই ফাতিমা ফারজানার কাজকে সাধারণ পোশাকের স্তর পেরিয়ে কালজয়ী শিল্পকলার রূপ দান করেছে।
যেকোনো কালজয়ী শিল্প সৃষ্টির অন্তরালে লুকিয়ে থাকে শিল্পীর আবেগঘন স্মৃতির ছায়া। ফাতিমা ফারজানা জানান, তাঁর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রধান মাইলফলক ছিল ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত 'DMV Awards & Fashion Show Gala'।
আন্তর্জাতিক ফ্যাশন পরিমণ্ডলের এই বৃহৎ আয়োজনে তিনি উপস্থাপন করেছিলেন তাঁর বিশেষ ১৫টি ক্রিয়েটিভ কালেকশন। যার মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন, বহুল আলোচিত এবং শো-স্টপার ছিল একটি ঐতিহ্যবাহী সুবিশাল লাল গাউন। এই রাজকীয় ক্যুতুর গাউনের গঠন ও নকশার পেছনে জড়িয়ে আছে তাঁর শৈশবের বুড়িগঙ্গা তীরের এক রূপকথার মতো অমলিন ও মধুর স্মৃতি।
ফাতিমা ফারজানার কাছে ফ্যাশন কেবল পোশাক নয়, এটি শেকড়কে বয়ে নিয়ে চলার ক্যানভাস। আর এই লাল গাউনের গল্পটি গতকালের নয়, প্রায় দুই দশক আগের পুরান ঢাকার একটি বিকেলের।
ছোটবেলায় মায়ের হাত ধরে ফাতিমা ফারজানা প্রায়ই যেতেন পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক নবাব বাড়ির প্রাসাদ 'আহসান মঞ্জিল'-এ। প্রাসাদের সামনের খোলা সবুজ মাঠে বসে সময় কাটানো আর বিশাল গম্বুজ ও খিলানের দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকার সেই স্মৃতি তাঁর অবচেতন মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। তিনি বলেন, "বহু বছর পর, দূর প্রবাসে বসে যখন এক সুবিশাল আন্তর্জাতিক রানওয়ের জন্য বিশেষ থিমভিত্তিক কালেকশনের কথা ভাবছিলাম, তখন মননে দোলা দেয় শৈশবের সেই আহসান মঞ্জিল।"
তিনি তুলি ও রঙ হাতে নিয়ে গাউনের সুবিশাল লাল ক্যানভাসে নিজ হাতে একে একে এঁকে তোলেন আহসান মঞ্জিলের অনন্য স্থাপত্যশৈলী—তার ঐতিহ্যবাহী খিলান, সুউচ্চ গম্বুজ আর নান্দনিক কাঠামো। পোশাকটির সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে তিনি অতি সূক্ষ্মভাবে সংযুক্ত করেন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার মূল চেতনা। গাউনের সাথে সংযুক্ত বিশাল ট্রেইল বা ওড়নায় সোনালি সুতা ও রঙের আলপনায় ফুটিয়ে তোলেন রাজকীয় ময়ূর এবং বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলার আকর্ষণীয় মোটিফ।
১৯ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক মডেল সামান্থা যখন এই সুবিশাল লাল গাউন পরে ধীরস্থির ও রাজকীয় ভঙ্গিতে ওয়াশিংটনের রানওয়েতে হেঁটে আসেন, তখন উপস্থিত দর্শক, সংবাদমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ বিচারকগণ কেবল একটি আধুনিক গাউন দেখেননি—তাঁরা প্রত্যক্ষ করেছেন ক্যানভাসে রূপায়িত শতবর্ষী এক জীবন্ত ঐতিহ্যকে। প্রবাসে বসে মার্কিন মুলুকের বুকে দেশের ইতিহাস, স্থাপত্য ও জাতীয় প্রতীককে এভাবে তুলে ধরা ফাতিমা ফারজানার জীবনের অন্যতম গভীর সম্মান ও আনন্দের মুহূর্ত।
বাঙালি সংস্কৃতির শতবর্ষী ফ্যাশন ঐতিহ্যের কথা বলতে গেলে সবার আগে উচ্চারিত হয় বিলুপ্তপ্রায় রাজকীয় মসলিন এবং রাজশাহীর সূক্ষ্ম সিল্কের নাম। বোস্টন, ওয়াশিংটন কিংবা নিউ ইয়র্কের মতো আধুনিক পশ্চিমা শহরে বসে এই প্রাচীন ফেব্রিকগুলোকে আন্তর্জাতিক ধারার সাথে সফলভাবে মেলানো এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ফাতিমা ফারজানা এই ঐতিহাসিক ফেব্রিকগুলোকে কেবল সংরক্ষণ করতেই চাননি, বরং বিশ্বমঞ্চে আধুনিক ফিউশনের মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়ার ব্রত নিয়েছেন।
এই দূরদর্শী ভাবনার একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত ছিল তাঁর নকশা করা 'Hermès-Orange Muslin Saree'। মসলিনের চিরন্তন মিহি বুনন, কোমলতা ও আভিজাত্য অক্ষুণ্ন রেখেই তিনি এর ড্র্যাপিং ও কাটিংয়ে এনেছেন আমূল পরিবর্তন।
প্রথাগত শাড়ি পেঁচিয়ে পরার বাইরে গিয়ে একে গাউন-সদৃশ ড্র্যাপিংয়ে রূপ দেওয়া হয়েছে, যাতে আধুনিক আন্তর্জাতিক রেড কার্পেটে যেকোনো দেশের নারী এটি স্বাচ্ছন্দ্যে পরতে পারেন। প্রথাগত ব্লাউজের বদলে কনটেম্পোরারি কাট, কাস্টমাইজড অনুষঙ্গ ও জ্যাকেট ব্যবহার করে পোশাকে আনা হয়েছে নতুন মাত্রা। এবং
প্রথাগত প্যাস্টেল শেডের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক ফ্যাশন দুনিয়ার ট্রেন্ডি ও শক্তিশালী রঙ 'Hermès Orange' নির্বাচন করা হয়েছে।
তবে দূর প্রবাস থেকে এই দেশীয় ঐতিহ্যভিত্তিক কাজ পরিচালনা করা মোটেও সহজ নয় বলে জানান তিনি। বাংলাদেশ থেকে সঠিক মানের খাঁটি মসলিন বা রাজশাহী সিল্ক সংগ্রহ করা এবং সুদূর থেকে কাপড়ের টেক্সচার যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন।
তদুপরি, আন্তর্জাতিক পেশাদার মডেলদের শারীরিক গঠন দক্ষিণ এশীয়দের চেয়ে বেশ আলাদা। ফলে মূল কাপড়ের সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রেখে পশ্চিমা মডেলের দেহে তা নিখুঁতভাবে উপস্থাপনের জন্য কাঁধের গঠন ও সিলুয়েটে সূক্ষ্ম প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হয়। এই কৌশলগত ও নান্দনিক ভারসাম্য সফলভাবে বজায় রাখাই তাঁর প্রধান সার্থকতা।
আমেরিকান ও বৈশ্বিক ফ্যাশন অঙ্গনে ফাতিমা ফারজানার যাত্রাপথটি কী সহজ ছিল?
না! ছিল গভীর নিষ্ঠা ও কঠোর সাধনার। 'ডিসি ফ্যাশন উইক'-এর মতো অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক বিচারকদের নজর কাড়া একজন প্রবাসী ডিজাইনারের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি হলেও কাজটা সহজ না।
তিনি জানান, পোশাকের প্রাথমিক স্কেচ, ফেব্রিক নির্বাচন, সেলাই ও অলংকরণ থেকে শুরু করে মডেল নির্বাচন এবং রানওয়ে প্রেজেন্টেশন—সীমিত একটি দল নিয়ে পুরো কাজটি তাঁকে একা হাতে সামলাতে হয়েছে।
তবে চারুকলা ও ফ্যাশনের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর এই যাত্রাকে সুসংগঠিত করেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত 'Torpedo Factory Art Center' থেকে প্রথাগত তেলরং ও আধুনিক কম্পোজিশনের পাঠ তাঁর রঙের ব্যবহারে এনে দিয়েছে বিশেষ পরিপক্বতা। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের 'London School of Threads' থেকে ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর উচ্চতর কোর্স সম্পন্ন করেন এবং বিশ্বখ্যাত ক্যুতুর ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিশেষ মাস্টারক্লাস সম্পন্ন করেন।
শিল্পকলার এই তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান তাঁকে শিখিয়েছে—পোশাকের কোথায় গাঢ় রঙ থাকবে, কোথায় আলো প্রতিফলিত হবে এবং কাপড়ের ভিন্ন টেক্সচার কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করবে। এই বিস্তৃত শিক্ষার জোরেই আজ গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসিসহ উত্তর আমেরিকার ফ্যাশন অঙ্গনে ফাতিমা ফারজানা নিজের এক শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
ফাতিমা ফারজানার কালার প্যালেট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি বোল্ড ও গভীর রঙ ব্যবহারে অত্যন্ত সিদ্ধহস্ত। তাঁর ডিজাইন দর্শনে সোনালি আভিজাত্য ও আলোর প্রতীক, রয়্যাল রেড শক্তি ও বাঙালি আবেগের প্রতীক, নেভি ব্লু সমুদ্রের প্রশান্তির প্রতীক এবং ব্রাইট অরেঞ্জ আধুনিক তরুণ মননের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।
তিনি জানান, যেকোনো নতুন কালেকশন তৈরির সময় তাঁর মননে কাপড়ের টেক্সচারের চেয়ে প্রথম যা কাজ করে, তা হলো একটি সুনির্দিষ্ট 'গল্প'। তিনি প্রথমে ভাবেন—এই নতুন কালেকশনের মাধ্যমে তিনি দর্শককে কী বলতে চান। গল্পটি মনে দানা বাঁধার পর তিনি স্কেচ আঁকেন এবং সেই অনুযায়ী ফেব্রিক ও রঙ চয়ন করেন। নারীদের গাউন বা শাড়ির পাশাপাশি পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পাঞ্জাবি-শেরওয়ানিতেও তিনি আনছেন আধুনিক কাটের নতুন ফিউশন।
আগামী পরিকল্পনা নিয়ে ফাতিমা ফারজানা জানান, আগামী দিনে তিনি তাঁর মূল ব্র্যান্ড 'Canvas to Couture'-কে এমন একটি বিশ্বমানের লাক্সারি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশি কারুশিল্পের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব করবে। ইতোমধ্যে তিনি দুবাই এবং নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকের আগামী আসরগুলো থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বলে জানান।
উদীয়মান প্রবাসী শিল্পী ও নতুন প্রজন্মের ডিজাইনারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে টিকে থাকার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো নিজের শিকড়, নিজস্ব সংস্কৃতি এবং সত্যিকারের একটি গল্প। অন্যের অনুকরণ না করে নিজের ঘরের গল্পটি ধৈর্য, সততা ও পেশাদারির সাথে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। কাজের গুণগত মান ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে সাফল্য আসবেই।"
ফাতিমা ফারজানার এই ব্যতিক্রমী সৃষ্টিশীল যাত্রা কেবল ফ্যাশনের কোনো রঙিন বাহ্যিক অধ্যায় নয়—এটি চারুকলা, ঐতিহ্য এবং প্রবাসে সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় বাঁচিয়ে রাখার এক পরম নান্দনিক রূপান্তর। ক্যানভাস থেকে ক্যুতুরের এই গৌরবময় জয়যাত্রা উত্তর আমেরিকার সীমা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন