https://www.prothomalony.com/
18029
bangladesh
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় একটি বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অবশেষে আদালতের নির্দেশে এফআইআর করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা। মামলায় মো: শরিফ উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এজাহারে শরিফ উদ্দিন ছাড়াও জালাল উদ্দিন, আফজাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, রাহুল হুদা রাহেলসহ মোট ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলা নং-২৪ তারিখ ২৪/০৮/২৬ ধারা ৪৪৭/৪৩৬/৫০৬(২)/৩৪।
গত ১৭ আগস্ট, সোমবার ভোর ৫টার দিকে ধারাবহরে ব্রিটিশ আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে মৃত আব্দুল হকের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাত কক্ষের পুরো বাড়িটি পুড়ে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট কিংবা গ্যাস থেকে আগুনের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং বাড়ির ওপরের অংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।
অগ্নিকাণ্ড থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাড়ির বাসিন্দা মৃত আব্দুল হকের ছেলে ও আমুড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি মান্না আহমদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "ফয়াজ ভাইয়ের ডাকেই আমরা ঘুম থেকে উঠি। উঠে দেখি ঘরের ওপরের দিকে আগুন ধরে গেছে।"
মান্না আহমদ অভিযোগ করেন, এলাকায় টিলা কাটার প্রতিবাদ করায় গত কয়েকদিন ধরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তার দাবি, নিজ বাড়ির পাশের লেকভিউ সিটির মালিক শরিফ উদ্দিন ও তার লোকজনের সঙ্গে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের পর মান্না আহমদ গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করার উদ্যোগ নিলেও সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানাকে এফআইআর রেকর্ডের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়।
মামলা নম্বর ২৪, তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৪৪৭/৪৩৬/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, বাড়িটি পুড়িয়ে পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়া করার পরিকল্পনা থেকেই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এর আগে শরিফ উদ্দিন ও তার লোকজন কয়েকবার বাদীপক্ষের বাড়িতে হামলার চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ আরও দাবি করে, টিলা কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের পরও তাদের ওপর চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, গত ১২ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমুড়া ইউনিয়নের ধারাবহর একমাইল এলাকায় গোলাপগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাশের টিলা কেটে ব্রিটিশ আইডিয়াল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে একটি আবাসন প্রকল্পের জায়গা ভরাটের সময় তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় শরিফ উদ্দিন পালিয়ে যান বলে বাদীপক্ষ দাবি করে। পরে এ ঘটনায় গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় মামলা হয়। থানার অনুরোধে ওই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হিসেবে মান্না আহমদকে রাখা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, এ ঘটনার পর থেকেই শরিফ উদ্দিন মান্না আহমদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছিল।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন