https://www.prothomalony.com/

17966

literature

সাহিত্য

কাঠুরিয়ার মেয়ে রাজরানি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৩০

এক দেশে এক রাজা ছিলেন। রাজার ছিল এক সুন্দরী রানি। কিন্তু রাজার মন সব সময় খারাপ থাকত। কারণ, তাদের বিয়ের প্রায় এক যুগ কেটে গেলেও রাজা কোনো সন্তানের মুখ দেখতে পাননি। রাজ্যের সবাই তাকে আাঁটকুড়ো রাজা বলে ডাকত।

হঠাৎ একদিন রাজা রাজ্য ভ্রমণে বের হলেন। অনেক দূর যেতে যেতে জঙ্গলের পাশে পরীর মতো এক সুন্দরী মেয়েকে দেখতে পেলেন। দেখে তিনি অবাক হয়ে গেলেন। মনে মনে বলতে লাগলেন, 'আমার এই রাজ্যে এত সুন্দর মেয়ে আছে!'

মুচকি হেসে রাজা জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী? তোমার বাড়ি কোথায়?"

মেয়েটি বলল, "আমার নাম পরীমণি। আমার বাড়িঘর নেই, আমি জঙ্গলে থাকি।"

রাজা অবাক হয়ে বললেন, "জঙ্গলে মানে? তুমি কার সঙ্গে থাকো?"

মেয়েটি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলল, "আমি আমার কাঠুরিয়া বাবার সঙ্গে থাকি।"

"তোমার মা?" রাজা শুধালেন।

মেয়েটি বলল, "আমার বয়স যখন দুই বছর, তখনই আমার মা মারা যান।"

এই কথা শোনার পর রাজার চোখে জল এসে গেল। রাজা পরীমণিকে নিয়ে সেই কাঠুরিয়ার কাছে গেলেন। কাঠুরিয়া রাজাকে দেখে ভয় পেয়ে গেল। সে বলল, "হুজুর, আমার মেয়ে কি কোনো ভুল করেছে?"

রাজা হেসে বললেন, "না, সে কোনো ভুল করেনি। আমি আপনার কাছে একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি।"

কাঠুরিয়া বলল, "কী প্রস্তাব, হুজুর?"

রাজা তখন বললেন, "আমি পরীমণিকে বিয়ে করতে চাই।"

কথাটি শুনে কাঠুরিয়া হতভম্ব হয়ে গেল। সে বলল, "হুজুর, আমি একজন সামান্য কাঠুরিয়া। দিন আনি দিন খাই, কাঠ বিক্রি করে আমাদের জীবন চলে। আপনি এই রাজ্যের রাজা, আমার মেয়েকে বিয়ে করবেন?"

রাজা বললেন, "আপনি রাজি থাকলে আমি আপনার মেয়েকে রাজপ্রাসাদের রানি করতে চাই।"

অনেক চিন্তাভাবনা করে কাঠুরিয়া রাজি হয়ে গেল। রাজা পরীমণিকে প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করলেন।

কিছুদিন যাওয়ার পর ছোট রানি পরীমণি রাজাকে এক সুসংবাদ দিলেন। সুসংবাদ পেয়ে রাজা খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠলেন, অবশেষে বহু দিন পর তিনি সন্তানের মুখ দেখবেন! এই উপলক্ষে রাজপ্রাসাদে রাজা ভোজের আয়োজন করলেন। রাজ্যের সব গরিব-দুঃখী মানুষকে পেট পুরে খাওয়ালেন।

এদিকে বড় রানিও এই সুসংবাদ শুনে খুব খুশি হলেন। ভাবলেন, ছোট রানির সন্তান হলে সে তো আমাকেও 'বড় মা' বলে ডাকবে! এই ভেবে বড় রানি ছোট রানির যত্ন নিতে লাগলেন।

কিছুদিন পর ছোট রানির কোল আলো করে এক রাজপুত্র জন্ম নিল। রাজপুত্রকে পেয়ে রাজা আনন্দে ভেসে গেলেন। তার কপালে চুমু খেয়ে বললেন, "তুমি আমার সুখ, আমার রাজ্যের একমাত্র কাণ্ডারি।"

বড় রানিও আনন্দিত হয়ে রাজপুত্রকে কোলে নিয়ে আদর করতে লাগলেন। তিনি ছোট রানিকে বললেন, "আজ আমিও মা হলাম। আর রাজাকেও তুমি আঁটকুড়ো রাজার অপবাদ থেকে মুক্তি দিলে।"

অবশেষে রাজা আাঁটকুড়ো অপবাদ থেকে মুক্তি পেলেন এবং দুই রানি ও রাজপুত্রকে নিয়ে সুখে-শান্তিতে রাজ্য পরিচালনা করতে লাগলেন।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন