https://www.prothomalony.com/
17959
literature
ওয়ান্টেড
কাজী রাহনুমা নূর
শূণ্যতার যদি কোন রঙ থাকতো সে দেখতে কেমন হতো?
তার বুকে যে দগদগে ঘা সেকি লাল হতো না কি কুচকুচে কালো?
আকাশের নীলে কবি প্রেম আঁকেন, ঔপন্যাসিক সেই নীল কে বিষ যন্ত্রণার সাথে জুড়ে দিয়ে তালি কুড়ায়।
শিরায় উপশিরায় ছড়িয়ে দেয়া চিনচিনে শূণ্যতার রঙ কি সেই বিষের মতন নীল?
কই আমার ব্যথায় তো কোন ছটফটে নীল বুদবুদ অস্থির শব্দে মনের দুপার ভাসিয়ে দিচ্ছে না। যখন আঙ্গুলগুলো কি বোর্ডের প্রতিটি অক্ষরে শূণ্যতার রঙ খুঁজতে ব্যস্ত, সে কেমন স্থির। যেন ফ্রিজগেইম খেলছে, হাল্কা নড়লেই আউট।
শূণ্যতা কি রঙ চোর? এই মনে হচ্ছে বিশাল ব্ল্যাক হোল, মূহুর্তেই বহুদিন আগে পড়া 'দা লাস্ট ডে অফ পম্পেই' শহরটা যেন জেগে ওঠে, গর্তগুলো ভরে যায় লাল লাভায়, পুড়ে ছারখার সুখের প্রতিটি গিঁট।
শূণ্যতাকে কাগজে আঁকতে, তাকে হাত দিয়ে ছুঁতে, তার শেকড়ের চাবুক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে একটা নির্দিষ্ট রং এর প্রয়োজন।
পিকাসো, লিওনার্দো বা জয়নুল যদি শূণ্যতার একটা রঙ ঠিক করে দিতেন তবে আজ নিশ্চিন্তে সেই রঙ এর প্রলেপে মনটাকে মুড়ে টুপ ঘুমানো যেত। ঘুমটা ও যা বেয়াড়া, শূণ্যতাকে পেলেই গলা জড়াজড়ি করে বেরিয়ে পড়ে পাড়া বেড়াতে।
একটি বিশেষ ঘোষনা-
শূণ্যতা কে বশে আনতে একটি বিশেষ রঙ প্রয়োজন।
যোগাযোগের ঠিকানা
প্রযত্নে মনের বাড়ি
পোস্ট কোড - ০
ডানা ক্ষয়ে যাওয়া প্রজাপতির গল্প
রাসয়াত রহমান জিকো
ছোটবেলায় মামুনকে সঙ্গে নিয়ে প্রজাপতি ধরতাম। কত রকমের প্রজাপতি ছিল আমাদের সেই ছোট্ট জগতে। রাজা প্রজাপতি, রানি প্রজাপতি, প্রজা প্রজাপতি। ওদের ধরে কিছুক্ষণ মুগ্ধ হয়ে দেখতাম, তারপর আবার ছেড়ে দিতাম আকাশে।
একবার মামুন একটি প্রজাপতি ধরতে গেল। ধরতে গিয়ে প্রজাপতিটির ডানার খানিকটা ছিঁড়ে গেল। নিমেষেই উড়তে থাকা সেই সুন্দর প্রাণীটি হয়ে উঠল ডানা ক্ষয়ে যাওয়া এক প্রজাপতি।
মামুনের মায়ের নাম কোহিনুর। আমার জন্মের সময় তিনি আমাদের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। জন্মের পর মা বেশ কিছুদিন অসুস্থ ছিলেন। সেই সময়ে কোহিনুরই আমাকে কোলে-পিঠে করে আগলে রেখেছিলেন। আমরা তাঁকে ডাকতাম কোহিনুর বুয়া।
আমার বয়স যখন তিন কিংবা চার বছর, তখন সম্ভবত তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। আমাদের সংসার ছেড়ে তিনি চলে যান নিজের সংসার গুছিয়ে নিতে।
কয়েক বছর পর তিনি আবার ফিরে এলেন। তবে একা নন, সঙ্গে ছোট্ট মামুন। তত দিনে ভেঙে গেছে তাঁর নিজের সংসার। তাঁর জীবনের সেই বিপর্যয়ে আমরা ব্যথিত হয়েছিলাম। আবার তাঁকে ফিরে পেয়ে একধরনের স্বস্তিও এসেছিল পরিবারে। বিশ্বস্ত, স্নেহশীল এবং কাজে পটু কোহিনুর বুয়া আবার আমাদের কাছে ফিরে এসেছেন।
মামুন ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল। স্কুলে যাওয়ার বয়স হলে তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হলো। সে আমাদের গাড়িতে করেই স্কুলে যেত। আব্বা অফিসে যাওয়ার পথে তাকে স্কুলে নামিয়ে দিতেন।
ক্লাস ওয়ানের বার্ষিক পরীক্ষায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে মামুন প্রথম হলো। কোহিনুর বুয়ার আনন্দ তখন দেখে কে! সন্তানের সাফল্যে তাঁর চোখেমুখে যে গর্ব ফুটে উঠেছিল, তা হয়তো পৃথিবীর সব মায়ের গর্বের মতোই উজ্জ্বল ছিল।
এটি সিনেমার গল্প হলে কাহিনি এখান থেকে অন্যদিকে এগোত। মামুন পড়াশোনা করে একদিন অনেক বড় অফিসার হতো। কোহিনুর বুয়ার সব দুঃখ ঘুচিয়ে দিত। কিন্তু বাস্তবের গল্প সব সময় সিনেমার নিয়ম মেনে চলে না।
একদিন আব্বা অফিসে যাননি। তাই কোহিনুর বুয়াই মামুনকে স্কুলে নিয়ে গেলেন। স্কুলের গেটে নামানোর সময় দারোয়ান মামুনকে জিজ্ঞেস করল, "উনি কে?"
মামুন কোনো উত্তর দিল না।
বাসায় ফিরে কোহিনুর বুয়া প্রায় এক ঘণ্টা কাঁদলেন। তাঁকে কিছুতেই বোঝানো গেল না যে মামুন তখন নিতান্তই একটি শিশু। হয়তো লজ্জা পেয়েছিল, হয়তো হঠাৎ করা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি, কিংবা বুঝতেই পারেনি কী বলতে হবে।
কিন্তু কোহিনুর বুয়ার মনে তখন একটিই কথা, "এই ছেলে বড় হলে আমাকে আর মা বলে মানবে না।"
অভিমান, ভয় আর অনিশ্চয়তা বুকে নিয়ে তিনি মামুনকে সঙ্গে করে গ্রামে চলে গেলেন। তারপর তাঁদের জীবনের গল্প আর আমার জানা হয়নি।
আমার স্মৃতিতে মামুন আজও সেই প্রজাপতি, ধরতে গিয়ে যার ডানার খানিকটা ক্ষয়ে গিয়েছিল।
তবে কে জানে, হয়তো ক্ষয়ে যাওয়া ডানা নিয়েই মামুন আবার উড়তে শিখেছিল। হয়তো সেখান থেকেই উঠে দাঁড়িয়েছে। আজ হয়তো সে সত্যিই অনেক বড় কিছু হয়েছে।
হতে পারে।
মিঁয়াও
ফাত্তাহ তানভীর রানা
লিলির স্বামী তিন বছরের জন্য ইটালি গেছে। যাবার দুই বছর পেরিয়েছে অনেক আগেই। লিলির বিয়ে হয়েছে পাশের গ্রামে। বিয়ের আগে লিলির একই গ্রামের একটা ছেলের সাথে প্রেম ছিল, কিন্তু লিলির বাবা রাজি হয়নি।
ঐ ছেলেটির নাম বুলবুল। বাবা বিয়ে দেননি তাতে কী? লিলি আর বুলবুল প্রায়ই পুরান প্রেমের গপ্পে মজে ওঠে। নিশুতি অধিবেশনে বুলবুল লিলির ঘরের চারপাশে বিড়ালের ডাক ডেকে যায়। মিঁউ, মিঁউ মিঁউ মিঁউ.....মেও মেও মেও মেও....!
আর লিলি বিড়ালের খাবার দিতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
বুলবুল লিলির জন্য একটা উপহার কিনেছে, আগামী সপ্তাহে লিলিকে দেবে। লিলির গর্ভে সন্তান নেই। অন্যদিকে বুলবুল এক কন্যা সন্তানের জনক।
একদিন খুব ভোরে লিলির দরজায় ধাক্কা পড়ল, লিলির ঘুম ভেঙে গেলে দরজা খুলে দেখল তার স্বামী সামাদ মিয়া!
"তুমি কোই থেইক্কা আইলা খবর না দিয়াই?"
"আর কোই থেইকা! আড়াই বছর শ্যাষ, করোনার ঠাবেই অস্থীর! আগে-ভাগেই ছুটি দিচ্ছে আমাগো, রাকলে বেতন দিবো কেডা?"
সামাদ মিয়া একবেলা ভালো করে ঘুমিয়ে বিকেলে বাজারে গিয়ে চা খেয়ে ঘরে ফিরল। রাতে পরিবারের সবার সাথে একসাথে খেয়ে লিলির সাথে ঘুমাতে গেলো।
অনেকদিন পর সামাদ লিলিকে কাছে পেল, সামাদ মিয়া রোমান্টিক হয়ে উঠল। কিন্তু লিলি ধরা দিতে চায় না! সামাদ লিলিকে জিজ্ঞেস করে, "কি গো কি হইল তুমার?"
"আর কি অনেক দিন পর লজ্জা লাগে গো!"
"ও সোনা এই কথা?
লিলিকে সামাদ আবিষ্ট করল।
হঠাৎ ঘরের বাইরে বিড়াল ডাকতে শুরু করলো।
মেও মেও মেও মেও মেও....মিঁউ মিঁউ মিঁউমিঁউ.....মিঁয়াও, মিয়াওঁ......!
ক্রমশঃই বিড়ালের ডাক বিশ্রীভাবে বাড়তে লাগলো।
"বুলবুলের তো আইজকা আসার কথা না",-লিলি ভাবছে। এদিকে সামাদ মিয়া ততক্ষণে জাদুর গালিচায় উড়ছে।
শ্রাবণের ধনুভাঙা পণ
সবুজ মণ্ডল
আলগোছে চলা বেখেয়ালি মেঘের আনাগোনা, কখনো বা অবাধ্য-একরোখা ঝোড়ো বৃষ্টি, কিংবা হঠাৎ নাগাল পাওয়া সুখের মতো সূর্যের মুখদর্শনে চলতে থাকে শ্রাবণের রহস্যঘেরা ইন্দ্রজাল।
বিগত হিমসন্ধ্যায় আগন্তুকের মতো, প্রসাধনীর পরত ছাপিয়ে নাগরিক জীবনের ক্লান্তির স্পষ্টতা মেখে যে মেয়েটি মা-বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল অচেনা-অজানা এক পাত্রের সম্মুখে, দিন-দিনান্তে সে পরিচয় অর্ধবছরের পঞ্জিকাকুণ্ডলি পেরিয়ে শ্রাবণের হালখাতা খুলে বসেছে আজ।
সেদিনের সেই প্রথম দেখা চোখ জোড়ার মাঝে ছিল অস্বস্তির নীরবতা; ছিল কিছু আনুষ্ঠানিক প্রশ্ন আর অপরিচিত এক শীতল দেয়াল। কখন যে সময়ের স্রোতে অগোচরে-নীরবে সম্পর্কের চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে সে দেয়াল—তার হিসাব রাখিনি আমরা দুজন, হিসাব রাখেনি সেদিনের হিমজড়ানো সন্ধ্যাতারা কিংবা ব্যস্ত শহরের আলোকসজ্জাও।
পৌষের হিমজড়ানো সন্ধ্যায় হৃদয়-কলমে অনুভূতির আখরে শুরু হয়েছিল যে উপন্যাসের পথচলা, আজ তার পরতে পরতে টক-মিষ্টি-ঝালের রসদে ভরা এক সম্পর্কের গল্প। তার প্রতিটি শব্দ কিংবা বাক্যের মায়াজালে লুকিয়ে আছে অভিমানের আঁচ, কোথাও অনুচ্চারিত মায়া; কোথাও নিঃশব্দ অপেক্ষা, আবার কোথাও অকারণ হাসির ছোট্ট কোনো উপলক্ষ!
দিনক্ষণ ঠাহর করতে না পারলেও প্রথম পরিচয়ের সেই আনুষ্ঠানিকতা কবে যে আপন হয়ে ওঠার নির্ভার অধিকারে বদলে গেল, বুঝিনি! কবে যে 'আপনি'টা 'তুমি'তে বদলে গেল, কবে থেকে যে কথার ফাঁকে ফাঁকে জমে উঠল অদৃশ্য এক নির্ভরতার সেতু—তার দিনপঞ্জিরও কোনো হিসাব রাখিনি।
শুধু এইটুকুন স্মৃতিকোণে উঁকি দেয়, নাম না জানা বিকেলের অচেনা নরম আলোয় কথার ভাঁজে ভাঁজে যে মেয়েটি রিকশায় আমার বাঁ পাশে বসতে চেয়েছিল, সে-ই আজ অর্ধাঙ্গিনী হবার প্রহর গুনছে অহর্নিশ।
রাবণের ভাবালুতা মাখা, মেঘমেদুর চাদরে মোড়া কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে সোঁদা মাটির ঘ্রাণ গায়ে জড়িয়ে, কাকভেজা শরীরে সামনে দাঁড়াতেই মেয়েটা বাঁকা চাঁদের মতো প্রশ্ন চোখেমুখে মেখে বলে—'শ্রাবণের প্রথম দোলনচাঁপা কই?'
প্রেমিকের কাছে শ্রাবণের উপহারস্বরূপ কদম ফুল চাইতে শুনলেও দোলনচাঁপা চাওয়ার ব্যাপারটা আমাকে রীতিমতো অপ্রস্তুত করে তোলে!
ইট-পাথরের শহরে কোথায় দোলনচাঁপা পাওয়া যায় আমার জানা নেই, তাই জোর গলায় এমন ভুল দ্বিতীয়বার না হওয়ার কথাও দিতে পারছিলাম না! মেয়েটার এহেন শিশুসুলভ আবদারে প্রায়শই থমকে যেতে হয় আমাকে।
এ শহরের চলতি পথে ইট-পাথর, ধুলো-ধোঁয়া, বাস-ট্রাকের নাগরিক ব্যস্ততার ভিড়ে ফুলের দোকান, পুরোনো বাড়ির সীমানা, অচেনা গলির বাগানে হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকি শুভ্র, কোমল, তুলতুলে দোলনচাঁপা!
শত খুঁজেও ব্যর্থ হয়ে পরেরবার আমি তার সামনে হাজির হলাম একগুচ্ছ পদ্ম হাতে।
তবে সে পদ্মগুচ্ছেও ছিল যান্ত্রিকতার ছাপ! এ শহরের ফুলবিক্রেতাগুলোও বড্ড বেরসিক—পদ্মের পাপড়িগুলোকে তারা বিশেষ কৌশলে আধভাঙা করে, কৃত্রিম রঙে রাঙিয়ে বিক্রয়যোগ্য করে তোলে বটে, তবে তাতে আর বোঝার উপায় থাকে না আদৌ এটা পদ্ম নাকি ভিনদেশি নাম না জানা অন্য কোনো ফুল!
শ্রাবণের প্রথম বৃষ্টিস্নানে দোলনচাঁপা হাতে উপস্থিত হতে না পারার তীব্র অপরাধবোধ ঢাকতে রসিকতার স্বরে তাকে বললাম—'হতে পারে পদ্মের গায়ে দেওয়া রং কৃত্রিম, কিন্তু হলফ করে বলতে পারি এ পদ্ম কৃত্রিমতাহীন ভালোবাসায় মাখা!'
মুচকি হেসে মেয়েটা বলে—'দোলনচাঁপা তো শুধু অপেক্ষার অজুহাত মাত্র, এ অপেক্ষা গোটা একটা ঋতুর অপেক্ষা! এ শ্রাবণ না হোক, পরের শ্রাবণেও না হয় অপেক্ষায় থাকব তোমার দোলনচাঁপার!'
গোলাপ মিয়ার সংসার
মোঃ সৈয়দুল ইসলাম
রামের নাম রসুলপুর। গ্রামে গোলাপ মিয়া নামে এক গরিব কৃষক বাস করে। স্ত্রী মালতী আর দুই মেয়ে জুঁই এবং জবাকে নিয়ে গোলাপ মিয়ার সংসার। বড় মেয়ে জবা কলেজে পড়ে। পড়ালেখায় জবা খুবই ভালো। কলেজে তার অনেক সুনাম আছে। কিন্তু ছোট মেয়ে জুঁই বেশি পড়ালেখা করতে পারেনি। অভাব-অনটনের সংসারে পঞ্চম শ্রেণিতেই তার পড়ালেখা থেমে যায়। গোলাপ মিয়া দিন আনে দিন খায়। নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। পরের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করে, দিনমজুরের কাজ করে। এভাবেই চলে গোলাপ মিয়ার সংসার।
গরিব হলেও গোলাপ মিয়া স্বপ্ন দেখে—বড় মেয়ে জবা পড়ালেখা করে ডাক্তার হবে, তাদের ঘরে সুখ আসবে।
হঠাৎ একদিন গোলাপ মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্ত্রী মালতী এবং দুই মেয়ে গোলাপ মিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাক্তার জানান গোলাপ মিয়া স্ট্রোক করেছেন। এই কথা শোনার পর মালতীর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। মালতী চিন্তায় পড়ে গেল—কী করবে? কোথায় যাবে? গোলাপ মিয়ার মা-বাবা, ভাই-বোন আপন বলতে কেউ নেই। একমাত্র বসতবাড়ি ছাড়া গোলাপ মিয়ার আর কোনো সম্বলও নেই। বাবাকে বাঁচাতে জবা এবং জুঁই মাকে বসতবাড়ি বিক্রি করতে বলে। মালতী আর কোনো উপায় না পেয়ে রাজি হয়ে যায়। গ্রামের গনি মাতব্বরের কাছে বাড়িটি বিক্রি করে দেয়।
তারপর মালতী তার স্বামীকে ভালো একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। জুঁই এবং জবা তাদের বাবার পাশে বসে কাঁদতে থাকে। ডাক্তার তাদেরকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, 'দোয়া করো, তোমাদের বাবা ভালো হয়ে যাবে।' দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে যায়। কিন্তু গোলাপ মিয়ার ভালো হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
হঠাৎ একদিন গোলাপ মিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। বাবার মৃত্যুতে জবার কলেজ যাওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। স্বামীহারা মালতী দুই মেয়েকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে যায়। ঢাকায় গোলাপ মিয়ার এক প্রতিবেশী থাকত। মালতী তাদের প্রতিবেশীর পাশেই একটি ভাড়া বাসায় উঠল।
জুঁই এবং জবা ভালো বেতনে গার্মেন্টসে চাকরি নিল। স্বামীর শোকে মালতীও কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ল।
বাবা হারানো দুই মেয়ে মাকে বড় এক ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল। ধীরে ধীরে মালতী সুস্থ হয়ে উঠল। জুঁই এবং জবা তাদের মাকে আর অভাব বুঝতে দেয়নি। গোলাপ মিয়ার রেখে যাওয়া সংসার এভাবেই সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে লাগল।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন