https://www.prothomalony.com/
17946
literature
কোনো এক হিমেল শীতের পড়ন্ত বিকেলে,
কাঁধে ছিল মোর স্কুল ব্যাগ, বসেছিলাম স্টেশনের টুলে।
আবছায় আলো-আঁধারিতে
কুয়াশায় ঢাকা চারদিক,
হাতে ছিল ছোট্ট হলুদ ছাতা তোমার,
দাঁড়িয়েছিলে আমার পাশে ঠিক।
হরিণটানা আঁখিজোড়া তোমার,
উষ্ণ অশ্রুতে ঢেউ খেলছিল বারবার।
তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে, ছিলে অপেক্ষায়—
শুধু একটি মাত্র ট্রেনের,
ঘনিয়ে আসছিল আঁধার তব,
পেরিয়ে সময় দিনের।
বইছিল উত্তুরে হাওয়া,
কাঁপছিল গা তোমার।
পুষ্পশূন্য দিগন্তের পানে তাকিয়ে ছিলে,
মোর দিকে বারবার।
দিবসরাগে আবির নামে,
সন্ধ্যা নামার পরে—
আসেনি তবু ট্রেন,
দাঁড়িয়ে ছিলে তুমি ধীরে।
গভীর নিশীথ রাত,
তিমির অন্ধকার।
তুমি দাঁড়িয়ে ছিলে অপেক্ষায় যেন কার?
আমি পাশ ঘেঁষে, জিজ্ঞেস করেছিলাম হেসে—
অপেক্ষা করছ কার? ট্রেনের?
তুমি পাশে বসে, বলেছিলে মলিন হেসে—
অন্তহীন এ অপেক্ষা আমার।
এমন জীবন শকট, যাত্রী আমি আজি তার।
যেতে হবে ফিরে, মায়ামোহ ধরণী ছেড়ে
অপেক্ষমাণ স্বীয় নীড়ে, ফেরা নাহি কভু হবে আর।
আসে সেই ট্রেন, আঁধারের বুক চিরে
ধীর পায়ে উঠে সে, বিদায় জানায় মোরে।
উঠে প্রভাতে রবি, কেটে যায় সব ঘোর,
আলেখের পথে চেয়ে দেখি,
ছুটে যায় ট্রেন বহুদূর!
সোনালী রবির ঝিলমিল আলোয়
হাঁটা ধরি সেই পথে,
কেটে যায় বহু বছর, উঠি জীবনের রথে।
চেনা সেই পথে তুমি আজও দাঁড়িয়ে থাকো দূরে,
পাই না ছুঁতে তোমায়, তব খুঁজি বারে বারে।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন