https://www.prothomalony.com/

17944

new-york

নিউইয়র্ক

"সাবান-টুথপেস্ট চুরি জৈবিক প্রয়োজন" — নিউইয়র্কের এক আইনপ্রণেতার মন্তব্যে বিতর্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৩:০৬

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য অ্যাসেম্বলির সদস্য এমিলি গ্যালাগার এই সপ্তাহে দাবি করেছেন, সাবান বা টুথপেস্টের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দোকান থেকে চুরি করা মানুষদের শাস্তি পাওয়া উচিত নয়। কারণ সেই চুরি আসলে তাদের "জৈবিক প্রয়োজন" থেকে আসে। ব্রুকলিনের গ্রিনপয়েন্ট এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী এই ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট আইনপ্রণেতা বৃহস্পতিবার ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টের বাইরে কোর্ট ওয়াচ এনওয়াইসি ও অন্যান্য বামপন্থী রাজনীতিক ও ফৌজদারি ন্যায়বিচার-কর্মীদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন। সংগঠনটির দাবি, তারা চার দিনে ৩৬০টি আদালতে হাজিরার তথ্য পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, এর অর্ধেকেরও বেশি ছিল লঘু অপরাধের মামলা।

গ্যালাগার বলেন, "আমরা যা দেখেছি তার বেশিরভাগই দারিদ্র্যজনিত অপরাধ। মানুষ টুথপেস্ট চুরি করছে, সাবান চুরি করছে। আর তার মানে হলো, আপনি যদি এসব জিনিস চুরি করেন, তার মানে আপনার সেগুলো দরকার।" তিনি আরও বলেন, "আমরা সিভিএস বা ওয়ালগ্রিনসের মতো শত কোটি ডলারের প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করার পথ বেছে নিচ্ছি, যেখানে মানুষ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তাই আমি বলব, প্রকৃত অপরাধ হলো এই শহরে এমন ভয়াবহ ধনবৈষম্য থাকা, যেখানে নিছক জৈবিক প্রয়োজনের কারণেই কাউকে জেলে যেতে হতে পারে।" ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার এই সদস্য জানান, তিনি "চিকিৎসা, জেল নয়" — এই নীতির পক্ষে সোচ্চার থাকবেন। একই অনুষ্ঠানে অন্য রাজনীতিকেরা সহকর্মী সমাজতান্ত্রিক মেয়র জহরান মামদানির প্রতি আহ্বান জানান, তিনি যেন তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাফিতি বা ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার মতো "জীবনমানসংক্রান্ত" অপরাধের বিরুদ্ধে এনওয়াইপিডির কড়াকড়ি নীতি বন্ধ করেন।

এই মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া এসেছে বিভিন্ন মহল থেকে। ব্রঙ্কসের কো-অপ সিটির একটি সুপারমার্কেটে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, অনেকেই এই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ। ৬৮ বছর বয়সী রেভারেন্ড সুসান ওয়েব বলেন, "চুরির জন্য শাস্তি হওয়া উচিত নয় — এটা ভাবাই বোকামি। এটা একটা অপরাধ।" একাডেমিক উপদেষ্টা ৪৯ বছর বয়সী জ্যানেট ম্যাক বলেন, গ্যালাগারের মতো বামপন্থী রাজনীতিকদের নরম নীতি "হাস্যকর", কারণ তাঁর ভাষায় "তাঁরা চোরদের সাহায্য না করে বরং তাদের উৎসাহই দিচ্ছেন।" সুপারমার্কেটের ব্যবস্থাপক ৩৩ বছর বয়সী এডউইন পিচাদো বলেন, ভাড়া ও কর্মী-খরচ এত বেশি যে এভাবে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয় — চুরি বন্ধ না হলে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তিনি প্রকাশ করেন।

সমালোচনা এসেছে রাজনৈতিক মহল থেকেও। কুইন্সের রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান ভিকি প্যালাডিনো এক্সে লিখেছেন, গ্যালাগারের মতো রাজনীতিকেরা বাস্তবতা আড়াল করতে চান, কারণ তাঁরা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহই দিতে চান। কুইন্সের সাবেক কাউন্সিলম্যান রবার্ট হোল্ডেন সরাসরি বলেন, গ্যালাগার "একজন বড় বোকা।" আরেক রিপাবলিকান কাউন্সিলওম্যান জোয়ান আরিওলা বলেন, নিউইয়র্কের ব্যবসাগুলো এমনিতেই টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে, আর এখন রাজনীতিকেরা চুরির পক্ষে সাফাই গাইলে আরও ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট পর্যন্ত হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খুচরা দোকানে চুরির ঘটনা কমেছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সাধারণ চুরির (পেটিট লার্সেনি) ঘটনা কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। 
 

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন