https://www.prothomalony.com/

17937

new-york

নিউইয়র্ক

জাতিসংঘের মঞ্চে এবার দুই ভূমিকায় বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০২:২৪

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। এর উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর। যেখানে বিশ্বনেতারা একত্র হয়ে আলোচনা করবেন জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক শান্তি-নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে "আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ।"

এই অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অন্য বছরগুলোর তুলনায় একেবারেই ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে এই পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয়তা-বিষয়ক বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস। ১৯০টি ভোটের মধ্যে খলিলুর রহমান পান ৯৯ ভোট, আর কাকৌরিস পান ৯১ ভোট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর "অসাধারণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা" শুধু সাধারণ পরিষদের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে পুরো জাতিসংঘের সাফল্যের জন্যই একটি নিশ্চয়তা।

এই বিজয়ের একটি ঐতিহাসিক তাৎপর্যও আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান নিজেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, চার দশক আগে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পরবর্তীতে সংসদ স্পিকার হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ১৯৮৬-৮৭ সালে একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। খলিলুর রহমান নিজে সে সময় হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঐতিহাসিক বিজয়ের কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের "অটল ও নিঃশর্ত" সমর্থনকে।

এই একই অধিবেশনে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন। যা হবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম নিউইয়র্ক সফরও বটে। সফরকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।  প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং কয়েকজন সরকারপ্রধানের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের প্রত্যাশার কেন্দ্রে সবসময়ের মতোই আছে রোহিঙ্গা সংকট। গত ২০ জুন জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের এক ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। তিনি বলেন, "রোহিঙ্গারা নিজেরাও মিয়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরতে চায়। প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।" রাষ্ট্রদূত চৌধুরী আরও উল্লেখ করেন, প্রায় এক দশক ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে, তাই নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সেপ্টেম্বরের এই অধিবেশনেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে একই ধরনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ নিজেই সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসে আছে।

জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথমবার নয় যে কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে দুটি ভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকায় উপস্থিত থাকছেন। তবে বাংলাদেশের জন্য এটি চার দশক পর ফিরে আসা এক বিরল মুহূর্ত — যেখানে দেশের সরকারপ্রধান প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিচ্ছেন। একই সময়ে দেশেরই একজন কূটনীতিক সভাপতির আসন থেকে গোটা অধিবেশন পরিচালনা করছেন।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন