https://www.prothomalony.com/
17922
new-york
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১২ আগস্ট বুধবার জানিয়েছে, নিউইয়র্কভিত্তিক ১১ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বিয়ে-জালিয়াতি চক্র পরিচালনার দায়ে। যার মাধ্যমে মূলত চীনা নাগরিকদের অবৈধভাবে অভিবাসন মর্যাদা পাইয়ে দিতে অন্তত ১ হাজারটি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি ভুয়া বিয়ের জন্য কোনো কোনো বিদেশি নাগরিক দিয়েছেন এক লাখ ডলার পর্যন্ত।
অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রেই জালিয়াতি খুঁজে বের করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের চক্র আইনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাউথ নিউইয়র্কের ফেডারেল অ্যাটর্নি জেমি ম্যাকডোনাল্ড দাবি করেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিয়ে-জালিয়াতি চক্রগুলোর একটির কেন্দ্রীয় অংশ ভেঙে দিয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের (এইচএসআই) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক জন কনডন বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী এই চক্র এক দশক ধরে ভুয়া বিয়েকে একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মডেলে পরিণত করেছিল। যার মাধ্যমে শত শত ভুয়া গ্রিন কার্ড আবেদন যুক্তরাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থায় (ইউএসসিআইএস) জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন ব্রুকলিনের অ্যামি চেং (৭২), কুইন্সের শিয়াও মেই চ্যান (৬৪), কুইন্সের ক্রিস্টিন লু (৫২), স্টেটেন আইল্যান্ডের জিং ইয়ান ইয়ে (৪৩), ব্রুকলিনের শিয়াও ইয়ান চেন (৪৮), কুইন্সের গ্যাং ঝেং (৬১), স্টেটেন আইল্যান্ডের অ্যান্থনি চেং (৪৭), স্টেটেন আইল্যান্ডের মিশেল দুয়েনাস (৩৫) ও অ্যাঞ্জেলা দুয়েনাস (২৬), পিকস্কিলের সিগ্রিড সেতিনো (৩২) এবং অসিনিংয়ের এরিকা জনসন (৪৩)। সবাইকে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করে একই দিন আদালতে হাজির করার কথা জানানো হয়েছে।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এই চক্রটি মূলত নিউইয়র্ক সিটিকেন্দ্রিক হলেও কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভানিয়া, কেনটাকি, টেনেসি, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, এমনকি ভানুয়াতু ও চীন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ চক্রের সমন্বয়ক হিসেবে বিদেশি খদ্দের খুঁজে বের করতেন, কেউ ইচ্ছুক মার্কিন নাগরিক জোগাড় করতেন, আর কেউ অভিবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করে ভুয়া গ্রিন কার্ড আবেদন জমা দেওয়ার কাজ সমন্বয় করতেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে। এতে বিবাহ-অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী, আইনজীবী, কর প্রস্তুতকারী ও বিমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিকেরা সমন্বয়কদের প্রায় এক লাখ ডলার পর্যন্ত দিতেন। বিনিময়ে সমন্বয়করা অংশগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিকদের দিতেন প্রায় ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত। সাধারণত গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ অনুযায়ী কিস্তিতে, আর প্রতিটি নতুন নাগরিক জোগাড়ের জন্য নিয়োগকারীরা কমিশন পেতেন প্রায় ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি নাগরিক ও মার্কিন নাগরিকদের প্রায়ই বিয়ের লাইসেন্স নেওয়ার ঠিক আগে প্রথমবার সাক্ষাৎ করানো হতো। তারপর সাজানো বিয়ের অনুষ্ঠান ও ছবি তোলা হতো যাতে সম্পর্কটিকে বৈধ বলে মনে হয়। এরপর যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, একসঙ্গে কর প্রদান বা বিমা করানোর মতো অতিরিক্ত প্রমাণও তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ। ইউএসসিআইএসের সাক্ষাৎকারের আগে অংশগ্রহণকারীদের শিখিয়ে দেওয়া হতো কীভাবে সম্পর্কের প্রকৃত রূপ গোপন রেখে ভুয়া তথ্য দিতে হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী এই চক্র অন্তত কয়েক শ ভুয়া গ্রিন কার্ড আবেদন জমা দিতে সক্ষম হয়েছিল। এর ব্যাপ্তি ও দীর্ঘ সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে তদন্তকারীদের ধারণা, চক্রটি বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে মোট কয়েক কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে। গ্রেপ্তারের সময় ব্রুকলিনের সানসেট পার্ক ও কুইন্সের ফ্লাশিংসহ নিউইয়র্কের একাধিক স্থানে তল্লাশি পরোয়ানা কার্যকর করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিয়ে-জালিয়াতি ও অভিবাসন-জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে, আর অবৈধভাবে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসে উৎসাহ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের আরেকটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে সর্বোচ্চ সাজা হতে পারে ১০ বছরের কারাদণ্ড। মামলাটি তদন্ত করছে এইচএসআই, এফবিআই, ইউএসসিআইএস, মার্কিন সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও ওয়েস্টচেস্টার কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয়। বিচার বিভাগ নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অভিযোগপত্র কেবল অভিযোগমাত্র — আদালতে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক অভিযুক্তকেই নির্দোষ বলে গণ্য করা হয়।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন