https://www.prothomalony.com/

17905

bangladesh

বাংলাদেশ

‘এডাল্ট ডে কেয়ার’ নিয়ে প্রতারণা করা অমানবিক: মাহফুজুর রহমান

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:০৩

"এই ব্যবসা অনেকটা গুড ফেইথ বা বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছিল। করোনাকালে ব্যবসায়ীরা সরকারি তহবিল থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট করেছিল। সেই ঋণের দুর্নীতি তদন্তের মাধ্যমেই এসব বড় অনিয়ম বেরিয়ে আসে। যারা এই ব্যবসাটি সৎভাবে করছেন, তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু যারা এই কাঠামোর অপব্যবহার করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে সহযোগিতা করা প্রতিটি আমেরিকান বাংলাদেশি নাগরিকের দায়িত্ব" সম্প্রতি নিউইয়র্কের ফ্লাশিং এলাকাকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতারণার ঘটনা প্রসঙ্গে কথাগুলো বলেন সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান।

গত ৬ আগস্ট ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’ আয়োজিত সাপ্তাহিক সম্প্রচার অনুষ্ঠান ‘টক অব দ্য উইক’ এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

ফ্লাশিংয়ে মাত্র এক মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে ৭৭টি ‘সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার’ পরিচালনা করে শত শত মিলিয়ন ডলারের সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগ উঠেছে; যেখানে প্রবীণ অভিবাসীদের প্রলোভনের বস্তু বানিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। বয়স্কদের সেবায় হোম এইড সার্ভিস দেওয়া হলেও তা নিয়ে জালিয়াতি চলছে। কিছু প্রতারক চক্র ভাষা বা তথ্যের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে নগদ টাকা ও উপহারের লোভ দেখিয়ে ‘ডে কেয়ার’ এর মাধ্যমে প্রতারণা করছে, যার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন প্রবীণ অভিবাসীরা।

এ প্রসঙ্গে মাহফুজুর রহমান বলেন, "আমেরিকা একদিকে সুযোগের অবারিত দ্বার, অন্যদিকে এ দেশেই বড় বড় মাফিয়াদের আখড়া ছিল। বিশেষ করে নিউইয়র্ক শহরে প্রতারক চক্র বিভিন্ন কমিউনিটিতে প্রভাব বিস্তার করেছে। ফ্লাশিংয়ের দুর্নীতির মতো আমাদের কমিউনিটিতেও এমন ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। অনাবশ্যক ও অতিরিক্ত ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে ওঠায় সেবাদানকারী ও গ্রহণকারীদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়েছে। গোপনে পরিবারকে উপহারের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। কমিউনিটির বয়স্করা কতটুকু সেবা পাচ্ছেন তা নিশ্চিত নয়, তবে ব্যবসায়ীদের হঠাৎ ফুলেফেঁপে ওঠার বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। মাত্র এক দশকের মধ্যে ডজন ডজন বিলিয়নিয়ার ও মাল্টি-বিলিয়নিয়ার তৈরি হয়েছে, যাদের সম্পদের স্ফীতি স্বাভাবিক নয়।"

বেআইনি উপহার বা ক্যাশ প্রলোভনের ফাঁদে পড়ার পেছনে লোভ এবং অজ্ঞতা দুটোকেই দায়ী করেন তিনি। মাহফুজুর রহমান জানান, যারা এই হোম কেয়ারের সেবা নেন, তাদের সামাজিক-আর্থিক অবস্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব একটা ভালো নয়। নিম্ন আয়ের হওয়ায় তাদের প্রলোভন দেখানো সহজ হয়। বয়স্ক গ্রহীতারা অনেক সময় জানেনই না তাদের কোন হোম কেয়ার সেবা প্রদান করা হচ্ছে; বরং তারা সন্তান বা পরিবারের কাছে জিম্মি থাকেন। কম সময় সেবা দিয়ে বেশি সময়ের স্বাক্ষর নিয়ে সরকারের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

কুইন্স, ব্রুকলিন বা ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি সোশ্যাল ডে কেয়ার সেন্টারগুলোর ক্ষেত্রেও এমন ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা বা অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "চীনা ভাষাভাষীদের মধ্যে ইংরেজি না জানার সংখ্যা বেশি হওয়ায় তাদের মিথ্যা তথ্য ও প্রলোভন দিয়ে সহজেই প্ররোচিত করা সম্ভব। বাংলাদেশিরা কিছুটা ইংরেজি বোঝার কারণে তাদের ক্ষেত্রে এটি অত সহজ নয়, তবে বাংলাদেশিদেরও সাবধান হওয়া উচিত।"

ক্ষোভ প্রকাশ করে মাহফুজুর রহমান আরও জানান, অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টারের এই দুর্নীতি সামাজিক পরিবেশ কলুষিত করছে। হোম কেয়ারের অর্থকে কেন্দ্র করে পরিবারে সন্তানদের মধ্যে কাড়াকাড়ি ও মারামারি শুরু হয়েছে। প্রবীণদের অর্থ আয়ের উৎস বানিয়ে অনেকে হুট করে উচ্চবিত্ত বনে যাচ্ছেন, যার ফলে পরিশ্রমী মানুষের সঙ্গে এক বিরাট সামাজিক ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এই প্রতারণা দমনে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ব্যবস্থাটিকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও সরকারি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। অচিরেই এর অনিয়ম দূর হবে বলে আশা করা যায়।

মেডিকেইড কেলেঙ্কারি উদঘাটনের পর সরকার নিয়মকানুন বা অডিট ব্যবস্থা কঠোর করলেও প্রকৃত সেবাভোগীদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেন মাহফুজুর রহমান। তিনি মনে করেন, আইন কঠোর হলে প্রকৃত গ্রাহকেরা আরও উন্নত সেবা পাবেন।

প্রবীণ সদস্য ও তাদের স্বজনদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমাদের কমিউনিটিকে সচেতন হতে হবে। যে প্রবীণকে এ দেশে আনা হচ্ছে, তার সদিচ্ছা বা সম্মতি আছে কি না, তা অনেকেই যাচাই করেন না। অনেককে একপ্রকার বন্দি রেখে অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত আয়ের মাধ্যম বানানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অনৈতিক।"

সোহানা নাজনীনের সঞ্চালনা ও এইচ বি রিতার পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনার মাধ্যমে পর্বটি শেষ হয়। ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র ‘টক অব দ্য উইক’ অনুষ্ঠানটি প্রতি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় রাত ৯টায় ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন