https://www.prothomalony.com/

17901

north-america

উত্তর আমেরিকা

 ট্রাম্পের নতুন শব্দ 'জিহাদি', লক্ষ্য এবার মুসলিম প্রার্থীরা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৫২

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাস তিনেকও বাকি নেই, আর ঠিক এই সময়েই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক অভিধানে যুক্ত হলো আরেকটি নতুন শব্দ। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি দাবি করেন, "আমরা দেখছি জায়গায় জায়গায় জিহাদিরা নির্বাচিত হচ্ছে" — যদিও কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেননি। সঙ্গে জুড়ে দেন, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এখন "কমিউনিজম আর জিহাদিজম" দুটোই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর ধারণা।

শব্দটা যে হঠাৎ মাথায় এসেছে তা নয় — ট্রাম্প নিজেই জানিয়েছেন, এক বন্ধু তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এই শব্দ ব্যবহারের। কারণ তাঁর ভাষায় "এটাই তো আসলে ঘটছে।" আর কাদের নিয়ে এই মন্তব্য, তা বুঝতে খুব বেশি জল্পনার দরকার হয় না। ট্রাম্প নিজেই উদাহরণ হিসেবে সোমালিয়ার মতো দেশ থেকে আসা প্রার্থীদের কথা টেনেছেন। যা সরাসরি ইঙ্গিত করে মিনেসোটার কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের দিকে, যাঁকে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার আক্রমণ করেছেন এবং "যেখান থেকে এসেছেন সেখানেই ফিরে যান" বলে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে এবারের আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য মিশিগানের সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইদ। লাস ভেগাসে এক প্রচার সমাবেশে ট্রাম্প তাঁকে সরাসরি "ইহুদি-বিদ্বেষী ও ইসরায়েল-বিদ্বেষী" বলে আখ্যা দেন। যদিও আল-সাইদের অবস্থান মূলত ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সপ্তাহান্তে ট্রাম্প নিজের ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার একটি ছবির পাশে আল-সাইদ ও তাঁর হিজাব পরিহিত স্ত্রী সারাহ জুকাকুর ছবি জুড়ে দিয়ে ক্যাপশনে লেখেন, "দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আমেরিকা।" এর জবাবে আল-সাইদ সিএনএনের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ট্রাম্পের কথা ঠিক আছে বটে, তবে তাঁর ব্যাখ্যাটা ভিন্ন — একদিকে আছে এমন দুজন মানুষ, যাঁরা একে অপরকে পছন্দ না করলেও সাধারণ মানুষকে শোষণ করে অর্থ কামানোর স্বার্থে এক হয়ে যান। আর অন্যদিকে আছেন এমন দুজন, যাঁরা সত্যিকার অর্থে একে অপরকে ভালোবাসেন আর এমন একটা আমেরিকা গড়তে চান যেখানে পরিবার নিয়ে ভালো থাকা যায়। সেই অর্থে দুটো আমেরিকার ছবিটা তিনিও মেনে নিচ্ছেন, তবে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে।

গত সপ্তাহে আল-সাইদ ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জেতার পর থেকেই রিপাবলিকান শিবিরে তাঁকে ঘিরে সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে, এমনকি তাঁকে ডাকা হচ্ছে পুরো নাম আবদুলরহমান মোহাম্মদ আল-সাইদ ধরে। একটা কৌশল, যা মুসলিম পরিচয়টাকেই সামনে টেনে আনার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। এর আগেও ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের "ঈশ্বরহীন কমিউনিস্ট" বলে আখ্যা দিয়ে কমিউনিজমকে দেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। যদিও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টরা নিজেদের রাজনৈতিক দর্শনকে মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে অনেকটা বাম ঘেঁষা বলে স্বীকার করলেও কমিউনিজম থেকে স্পষ্টভাবেই দূরত্ব বজায় রাখেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে আরও বেশি বামঘেঁষা প্রমাণ করার যে চেষ্টা রিপাবলিকানরা চালাচ্ছে, তার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক ভাষাও।  "কমিউনিস্ট" শব্দের পাশে বসল "জিহাদি" শব্দটাও। দুটো শব্দই এখন একই রাজনৈতিক ভাষ্যের অংশ হয়ে উঠেছে, যার লক্ষ্যবস্তু মূলত মুসলিম ও অভিবাসী পটভূমির প্রার্থীরা। 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন